ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

নীহার আফরিন

এবারের বিষয় ॥ ইভটিজিং আত্মরক্ষার উপায়

প্রকাশিত: ০৪:০২, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬

এবারের বিষয় ॥ ইভটিজিং আত্মরক্ষার উপায়

এ সময়ের আলোচিত একটি বিষয় ইভটিজিং। একজন নারী হিসেবে এর অর্থ জানাটা আমার ভীষণ দরকার। তাই তো ডিকশোনারি খুঁজে বের করা এর অর্থ। কয়েকটি শব্দ পর পর ব্যবহার করি তাহলে এর একটি সংজ্ঞা দাঁড়ায়-এমন কোন কাজ বা শব্দ উচ্চারণের মাধ্যমে, জনসম্মুখে কোন মহিলাকে বিরক্ত করা হয় এবং তা যদি ইঙ্গিত করে কোন যৌন আচরণ তবে তাই হলো ইভটিজিং। আমি একজন নারী, কারও মেয়ে, কারও বোন, কারও প্রেয়সী, কারও স্ত্রী বা কারও জন্মদাত্রী মা। আমি কি নিরাপদ যখন আমি এত পরিচয় বহনকারী একজন নারী হেঁটে চলি, ফুটপাথে বা ফুট ওভার ব্রিজে! এই শহরে কি শুধু ফুটপাথ, ওভার ব্রিজ অনিরাপদ! নাহ, রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকাটাও অনিরাপদ। আমার ছেলে ইভটিজার নয়, আমার স্বামী ইভটিজার নয়, আমার বাবা ইভটিজার নয়, আমার ভাই ইভটিজার নয়। তবুও আমার ছেলে, আমার স্বামী, আমার বাবা, আমার ভাই পুরুষ হয়েও, আরও কিছু পুরুষের ভয়ে আটকে রাখে আমাকে চার দেয়ালে। আমি খোলসে-আবৃত এক নারী। একটি মেয়ের বন্দীদশা, কোন সমাজের জন্যই মঙ্গলকর নয়। ভয়ে আটকে নয়, আত্মরক্ষাটাই মোক্ষম অস্ত্র। আমি ইউনিভার্সিটিগামী এক ছাত্রী, চলার পথে আমাকে হাজার পুরুষের সঙ্গে মিশতে হয়। আমি অপরিচিত সে সব পুরুষের কাছে কৃতজ্ঞ থাকি, যারা পাশের সিটটাতে বসেও সংযত রাখে নিজের হাতকে, যারা নিজের ঊরুকে বাঁকিয়ে রাখে বাইরের দিকে। আমি মন থেকে তাদের কুর্নিশ করি। ভাল খারাপ মিলেই চলতে হয় আমাদের, ভালকে যেমন কুর্নিশ করতে হয়, ঠিক তেমনি খারাপকে কঠিন কণ্ঠে থামিয়ে দিতে হয়। এ তো আমার নিজ দায়িত্ব, আমি নিজেই আমার চলার পথের ছোট আগাছা ঘাসকে উবিয়ে দিলাম। তবে যে গাছ বড় হয়েছে! যে গাছের গোঁড়ায় গোবর-সার ঢালছে রাঘব বোয়ালরা! তাদের কি উপড়ে ফেলা সম্ভব! প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া? প্রশাসন কি নিরাপদ রাখতে পারে না প্রতিটি রাস্তা, প্রতিটা ফুটওভার ব্রিজ! রাস্তার মোড়ে কয়েকটা সিসি ক্যামেরা কি সব সমস্যার সমাধান? সিসি ক্যামারা মূলত অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর, অপরাধীকে শনাক্ত করায় ভূমিকা পালন করে। সময় হয়েছে আমাদের প্রশাসনের, পরবর্তী এ্যাকশন না বরং পূর্ববর্তী এ্যাকশন নিয়ে কাজ করার। যা বলছিলাম পূর্ববর্তী এ্যাকশন নেয়ার পাশাপাশি, পারিবারিকভাবে ছেলেমেয়েদের স্বচ্ছ অনুশাসনের ভিত্তিতে যদি গড়ে তোলা যায়, যদি সচেতনতা সৃষ্টি করা যায় স্কুল-কলেজে, তাহলে অকালে ঝরে পড়বে না রিশা, তনুদের মতো সদ্য কলি থেকে ফুটে ওঠা হাজারো সম্ভাবনার ফুল। সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২