ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

মাশরাফির আগুন বোলিংয়ে আরেকটি জয় কলাবাগান কেসির

প্রকাশিত: ০৬:০৫, ৩১ মে ২০১৬

মাশরাফির আগুন বোলিংয়ে আরেকটি জয় কলাবাগান কেসির

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ সোমবার ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগে (ডিপিএল) সব আকর্ষণ কেড়ে নিলেন এবং আলোচনায় থাকলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। কিছুদিন আগে ব্যাট হাতে সর্বকালের সবচেয়ে রূদ্রমূর্তিতে দেখা গিয়েছিল তাকে। এবার মূল পরিচয় ‘বোলার’ হিসেবেই তছনছ করে দিলেন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে। দুর্বলতর দল কলাবাগান ক্রীড়া চক্রকে (কেসি) একক নৈপুণ্যে আরেকটি জয় এনে দিলেন। ফতুল্লায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে মাত্র ৪২ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ভীতিকর ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ যেন নতুন করে আবির্ভূত হলেন। ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ১০ রানে জিতল কলাবাগান কেসি। অপরদিকে বিকেএসপিতে লো স্কোরিং ম্যাচে লজ্জাজনকভাবে ৪৩ রানে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের কাছে হেরে গেছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। আর মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত অপর ম্যাচে শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাবকে ২৮ রানে হারিয়েছে ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব। ফতুল্লায় মাশরাফি ঝড় ॥ চ্যালেঞ্জটা যেন তার একারই। নিজের কাঁধে সব দায়িত্ব নিয়ে এবার কলাবাগান কেসিকে টেনে তোলার চেষ্টা করছেন। দুই সপ্তাহ আগে সেজন্য আবির্ভাব ঘটল ব্যাটসম্যান মাশরাফির, সেটাও আবার বিধ্বংসী রূপে। ৫১ বলে ১০৪ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলে দলকে একাই জিতিয়েছেন শেখ জামালের বিরুদ্ধে। আবারও ফতুল্লা এবং আবারও জ্বলে উঠলেন তিনি। এবার বল হাতে, যেন ফিরে আসলে পুরনো সেই ভয়ঙ্কর ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’। ১০ ওভারে ৪২ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে একাই ধসিয়ে দিলেন শক্তিশালী দল রূপগঞ্জের ইনিংস। তবে মাশরাফির আগুনে বোলিংয়ের সামনেও সাজ্জাদুল হক ৫৫ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৪৮, আসিফ আহমেদ ৪০ ও মোহাম্মদ মিঠুন ৩১ রান করেন। সে কারণে ৪৯ ওভারে ১৯১ রানে অলআউট হয় রূপগঞ্জ। দেওয়ান সাব্বির ২৫ রানে নেন ৩ উইকেট। জবাবে কলাবাগান কেসি ৩৫.৪ ওভারে ৪ উইকেটে ১২৭ রান তোলার পর আর খেলা হয়নি বৃষ্টির হানায়। জসিমউদ্দীন ও রোহান প্রেম উভয়ে ৩৩ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরত যান। কিন্তু তানভীর হায়দার দারুণ ব্যাটিং করছিলেন। পরে বৃষ্টি আইনে কলাবাগান কেসিকে ১০ রানে জয়ী ঘোষণা করা হয়। এটি চলতি লীগে চতুর্থ জয় মাশরাফির দলটির। মুমিনুল-রাব্বীর নৈপুণ্যে জয়ী ভিক্টোরিয়া ॥ মিরপুরে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটাই ভাল হয়েছিল ভিক্টোরিয়ার। টপঅর্ডারদের দৃঢ়তায় ১ উইকেটে ১১৫ রানও তুলে ফেলে। কিন্তু মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও আব্দুর রহমানের দারুণ বোলিংয়ে ভালভাবেই ঘুরে দাঁড়ায় শেখ জামাল। তাই খুব বড় হয়নি ভিক্টোরিয়ার ইনিংস। ৪৯.৪ ওভারে ২৪৭ রানেই গুটিয়ে যায় তারা। ৫১ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৫০ রান করে অধিনায়ক মুমিনুল হক ফিরে যাওয়ার পর নাদিফ চৌধুরী ও চতুরঙ্গ ডি সিলভার দৃঢ়তায় এ সংগ্রহ পায় ভিক্টোরিয়া। ৩ উইকেট নেন মাহমুদুল্লাহ। জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই খুব বড় জুটির অভাব ছিল শেখ জামালের। চার টপঅর্ডারই রান পেয়েছেন কিন্তু সেটাকে টেনে বড় করতে পারেননি। এমনকি ৬ নম্বরে নেমে সোহাগ গাজী ৬৪ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৫৯ রানের ইনিংসও খেলেন। কিন্তু শেখ জামাল গুটিয়ে যায় পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বীর দুর্দান্ত বোলিংয়ে। তিনি ৪ উইকেট নিলে ৪৮.৩ ওভারে ২১৯ রানেই গুটিয়ে যায় শেখ জামাল। ২৮ রানের জয় পায় ভিক্টোরিয়া। লজ্জার হার ব্রাদার্সের ॥ বিকেএসপিতে ছিল বোলারদের দৌরাত্ম্য। বোলার তুষার ইমরান ও ইফতেখার সাজ্জাদের ভয়ানক বোলিংয়ে ৩৫.২ ওভারে মাত্র ১৬৭ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল গাজী। এনামুল হক বিজয় দারুণ ধারাবাহিকতা রেখে ৫২ বলে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেছিলেন। জবাব দিতে নেমে আরও বড় বিপর্যয়ে পড়ে ব্রাদার্স। তুষার ৮১ বলে ২ চার ও ২ ছয়ে সর্বোচ্চ ৪১ রান করেছেন। বাকিরা মেহেদি হাসানের বোলিং তোপে দ্রুতই ফিরে গেছেন। ৪০.১ ওভারে মাত্র ১২৪ রানে গুটিয়ে যাওয়াতে ২৩ রানের হার দেখে ব্রাদার্স। স্কোর ॥ ভিক্টোরিয়া-শেখ জামাল ম্যাচ ॥ মিরপুর ভিক্টোরিয়া ইনিংস- ২৪৭/১০; ৪৯.৪ ওভার (মুমিনুল ৫০, চতুরঙ্গ ৩৯, ফজলে ৩৭, নাদিফ ৩৬; মাহমুদুল্লাহ ৩/৪০, রহমান ২/২২, মুক্তার ২/৩৮)। জামাল ইনিংস ২১৯/১০; ৪৮.৩ ওভার (সোহাগ ৫৯, মাহবুবুল ৪৫, মাহমুদুল্লাহ ৩২, কামরুল ৪/৩৮; সোহরাওয়ার্দি ২/৩২, চতুরঙ্গ ২/৪২)। ফল ॥ ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ২৩ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা ॥ কামরুল ইসলাম রাব্বী (ভিক্টোরিয়া)। কলাবাগান কেসি-লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ম্যাচ ॥ ফতুল্লা রূপগঞ্জ ইনিংস- ১৯১/১০; ৪৯ ওভার (সাজ্জাদুল ৪৮, আসিফ ৪০, মিঠুন ৩১; মাশরাফি ৬/৪২, দেওয়ান ৩/২৫)। কলাবাগান কেসি ইনিংস- ১২৭/৪; ৩৫.৪ ওভার (জসিমউদ্দীন ৩৩, প্রেম ৩৩, তানভীর ২৪*; আলাউদ্দিন ২/১৩)। ফল ॥ বৃষ্টি আইনে কলাবাগান কেসি ১০ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা ॥ মাশরাফি বিন মর্তুজা (কলাবাগান কেসি)। গাজী গ্রুপ-ব্রাদার্স ইউনিয়ন ম্যাচ ॥ বিকেএসপি গাজী ইনিংস- ১৬৭/১০; ৩৫.২ ওভার (এনামুল ৪৬, ফারুক ২৯, শামসুর ২৮; তুষার ৪/২৭, ইফতেখার ৩/৩৩)। ব্রাদার্স ইনিংস- ১২৪/১০; ৪০.১ ওভার (তুষার ৪১, জাকির ১৯; মেহেদি ৪/১৬, সালেহিন ২/২৩, কাপালী ২/৩১, গুরকিরাত ২/৩২)। ফল ॥ গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ৪৩ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা ॥ মেহেদি হাসান (গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স)।