ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

কাল মুখোমুখি সাকিব-মুস্তাফিজ

গুজরাট-ব্যাঙ্গালুরু ফাইনালে ওঠার লড়াই

প্রকাশিত: ০৬:১৩, ২৪ মে ২০১৬

গুজরাট-ব্যাঙ্গালুরু ফাইনালে ওঠার লড়াই

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের (আইপিএল) ‘কোয়ালিফায়ার-১’ ম্যাচে আজ মুখোমুখি হচ্ছে গুজরাট লায়ন্স ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। জিতলেই ফাইনাল, টুর্নামেন্টের ফরমেট অনুযায়ী অবশ্য হারলেও আরেকটা সুযোগ থাকবে। এবারের আসরে শেষদিকে এসে শেষ চারে ওঠার লড়াইটা দারুণভাবে জমে উঠেছিল। লীগ পর্বে নিজ নিজ শেষ ম্যাচে এসে শেষ চার নিশ্চিত করে ব্যাঙ্গালুরু ও কলকাতা নাইট রাইডার্স। পরশু দিল্লী ডেয়ারডেভিলসকে উড়িয়ে দিয়ে ব্যাঙ্গালুরু কেবল ‘সুপার ফোরে’ কোয়ালিফাই-ই নয়, নেট রান রেটে দ্বিতীয় স্থানও নিশ্চিত করে বিরাট কোহলির দল। ব্যাট হাতে যথারীতি উড়ছেন সেনাপতি কোহলি। আর মুম্বাইকে হারিয়ে টেবিলের শীর্ষে সুরেশ রায়নার গুজরাট। লোকাল দুই তারকার ওপর বিশেষ দৃষ্টি থাকবে। যেখানে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে এরই মধ্যে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় তুলে নিয়েছেন ‘সুপার’ কোহলি। অথচ ক্রিস গেইল, এবি ডি ভিলিয়ার্স, শেন ওয়াটসনের মতো বিশ্বতারকাদের নিয়েও প্রায় বাদ পড়তে যাচ্ছিল ব্যাঙ্গালুরু। কি অবিশ্বাস্যভাবেই না ঘুরে দাঁড়ানো। চ্যালেঞ্জার্সদের ঘুরে দাঁড়ানোর পথে প্রতিটি ম্যাচের গল্পই নিজ হাতে লিখিয়েছেন কোহলি। লীগ পর্বের শেষ ম্যাচটার কথাই ধরা যাক। সুপার ফোরে উঠতে দিল্লীর বিপক্ষে জিততেই হতো, সেখানেও ‘নায়ক’ সেই কোহলি। ৪৫ বলে ৬ চারের সাহায্যে ৫৪* ১৩৯ রানের লক্ষ্যটাকে ডাল-ভাত বানিয়ে ফেলেন ‘সেনসেশনাল’ উইলোবাজ। ৬ উইকেটের বিশাল জয়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে ব্যাঙ্গালুরু। লীগ পর্বে ১৪ মাচে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৯১৯ রান। সেঞ্চুরি ৪ ও হাফ সেঞ্চুরি ৬টি। অর্থাৎ ১০ বারই পঞ্চাশোর্ধ রানের ইনিংস! কেবল আইপিএল নয়, পৃথিবীর আর কোন টি২০ টুর্নামেন্টেই এ পর্যন্ত কোন ব্যাটসম্যান এক আসরে ১০টি হাফ সেঞ্চুরি করতে পারেননি। ব্যাটিং গড় ৯১.৯০, স্ট্রাইক রেট ১৫২.৪০। হাঁকিয়েছেন ৭৮টি চার ও ৩৬টি ছক্কা! আইপিএলের এক আসরে সর্বোচ্চ রান, সর্বাধিক সেঞ্চুরি, হাফ সেঞ্চুরিসহ ভেঙ্গে দিয়েছেন অনেক অনেক রেকর্ড। সেটিকে ‘অবিশ্বাস্য’ উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার হাতছানিও থাকছে। আর মাত্র ৮১টি রান করলে আইপিএলের এক আসরে ১ হাজার রানের ‘বিরল’ কীর্তি গড়বেন ভারত টেস্ট অধিনায়ক। সঙ্গে এবি ডি ভিলিয়ার্সও ভাল করছেন, ব্যাট হাতে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছেন লোকেশ রাহুল, আছেন ‘ডাইনামাইট’ গেইল। শুরুতে বোলিংয়ে যে দুর্বলতা ছিল ক্রমশ সেটি কাটিয়ে উঠেছে কোহলির দল। ১১ ম্যাচে ১৯ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ শিকারি লেগস্পিনার যুবেন্দ্র চাহাল! পেস আক্রমণে ওয়াটসনকে দারুণ সঙ্গ দিচ্ছেন শ্রীনাথ অরবিন্দ। অন্যদিকে আইপিএলের নতুন দল গুজরাটকে টানছেন অধিনায়ক রায়না। এ পর্যন্ত ৩ হাফ সেঞ্চুরিতে করেছেন ৩৯৭ রান। শনিবার ‘ডিফেন্ডিং’ চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে বিদায় করার দিনেও ৩৬ বলে খেলেন ৫৮ রানের চমৎকার ইনিংস। আহামরি না হলেও ৩২১ রান করে ভাল সমর্থন দিচ্ছেন ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম। দিনেশ কার্তিকও দারুণ ব্যাট করছেন। আছেন হার্ডহিটার এ্যারন ফিঞ্চ, ডোয়াইন স্মিথ, অলরাউন্ডার রবিন্দ্র জাদেজা। গুজরাটের বোলিংয়ের নেতৃত্ব ডোয়াইন ব্রাভো ও ধাওয়াল কুলকার্নি। ‘চ্যাম্পিয়ন, চ্যাম্পিয়ন’ খ্যাত ব্রাভো নিয়েছেন ১৫ উইকেট। অবশ্য আগের ম্যাচে প্রতিপক্ষ মুম্বাই, তথা জাতীয় দল সতীর্থ কাইরেন পোলার্ডের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েছিলেন ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার। অভিজ্ঞ প্রবীন কুমারও জ্বলে উঠছেন। প্রয়োজনে স্মিথ-জাদেজার বোলিং সামর্থ্য প্রমাণিত। প্রতিপক্ষ ব্যাঙ্গালুরু শিবিরে যেহেতু কোহলি-গেইল-ডি ভিলিয়ার্সের মতো ভয়ঙ্কর সব ব্যাটসম্যান, তাই গুজরাট বোলারদেরই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। জিতলে প্রথমবারের মতো খেলতে এসেই ফাইনালের টিকেট- রায়নারা তাই জীবন বাজি রেখে লড়বেন। অবশ্য হারলেও আরেকটা সুযোগ থাকছে। বুধবার সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের মধ্যকার (এলিমিনেটর ম্যাচ) বিজয়ী দলের বিপক্ষে ‘কোয়ালিফায়ার-২’-এ অংশ নিতে পারবে তারা।