ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ১৩ আগস্ট ২০২২, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

প্রসঙ্গ ইসলাম ॥ অধ্যাপক হাসান আবদুল কাইয়ূম

সূরা ফাতিহার তাৎপর্য

প্রকাশিত: ০৪:০৮, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

সূরা ফাতিহার তাৎপর্য

কুরআন মজীদের প্রথম সূরার নাম ফাতিহা। ফাতিহা শব্দের অর্থ হচ্ছে উপক্রমণিকা, প্রারম্ভিকা, ভূমিকা। এই সূরার বেশ কয়েকটি নাম রয়েছে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে : উম্মুল কিতাব, উম্মুল-কুরআন, সুরাতুর রুকিয়া, আসাসুল কুরআন, ওয়াফিয়া, কাফিয়া, সুরাতুল কান্্য, সূরাতুল হাম্্দ, সূরাতুস সালাত, সূরা দু’আ, সাব’আল মাছানী। তবে সূরা ফাতিহা উম্মুল কুরআন, উম্মুল কিতাব, সাব’আল মাছানী নামে সমধিক পরিচিত। একে ফাতিহাতুল কিতাবও বলা হয়েছে। প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম সূরা ফাতিহাকে শ্রেষ্ঠতম সূরা বলেছেন। তিনি একে শ্রেষ্ঠতম অভিহিত করে বলেন : এই বার বার পঠিত সাতটি আয়াত (সাব‘আ মাছানী) এবং মহান কুরআন (আল কুরআনুল আজীম) যা আমাকেই প্রদান করা হয়েছে। (বুখারী শরীফ, কিতাবুত তফসীর)। সূরা ফাতিহায় সাতখানি আয়াতে কারীমা রয়েছে। এই সূরা প্রত্যেক সালাতের প্রত্যেক রাক’আতে অবশ্যই পাঠ করতে হয়। যে কারণে একে বার বার পঠিত সাত আয়াত বলা হয়। কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে : (হে রসূল) আর আমি তো আপনাকে দিয়েছি সাত আয়াত যা পুনঃ পুনঃ আবৃত্তি হয় এবং দিয়েছি মহান কুরআন (সূরা হিজর : আয়াত ৮৭)। সূরা ফাতিহাকে উম্মুল কুরআন বা উম্মুল কিতাব এই জন্য বলা হয় যে, এই সূরা দিয়েই কুরআন মজীদের উদ্বোধন হয়েছে এবং কুরআন মজীদের সমগ্র শিক্ষার সারকথা এতে রয়েছে। উম্মু-এর আভিধানিক অর্থ মা বা জননী। উম্মুল কিতাবের উল্লেখ কুরআন মজীদে রয়েছে। ইরশাদ হয়েছে : (হে রসূল) তিনিই (আল্লাহ) আপনার প্রতি এই কিতাব নাযিল করেছেন যার কর্তৃক আয়াত মুহকাম (সুস্পষ্ট), এগুলোই উম্মুল কিতাব (কিতাবের মূল)। (সূরা আল-ইমরান : আয়াত ৭)। সূরা ফাতিহা নাযিল হয় কুরআন নাযিলের সূচনাকালেই। প্রথমে নাযিল হয় সূরা আলাকের প্রথম পাঁচখানি আয়াতে কারীমা ৬১০ খ্রিস্টাব্দের ২৭ রমাদান রাতে। এর তিন বছর পর সূরা মুদদাসসির ও সূরা মুযযাম্মিলের অংশবিশেষ নাযিল হয় এবং অধিকাংশের মতে এই সময়েই যে পূর্ণাঙ্গ সূরা নাযিল হয় সেই সূরাখানিই হচ্ছে সূরা ফাতিহা। এই সূরার শুরুতেই আল্লাহর প্রশংসা, তাঁর পরিচয় তুলে ধরে ইরশাদ হয়েছে : আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল ’আলামীন- যাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের রব আল্লাহরই জন্য। দ্বিতীয় আয়াতে কারীমায় ইরশাদ হয়েছে, আর রহমানির রাহীম- পরম করুণাময় দয়ালু দাতা। আল্লাহর এই দুইখানি গুণবাচক নাম এই সূরা ফাতিহাতেই সর্বপ্রথম ঘোষিত হয়। কুরআন মজীদের বিভিন্ন স্থানে এই যুগল নাম বিধৃত হয়েছে। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম- এই প্রারম্ভিক উচ্চারণেও রহমান, রহীম দুই মুবারক নামকে যুক্ত অবস্থায় দেখতে পাই। সূরা ফাতিহার তৃতীয় আয়াতে রয়েছে, মালিক ইয়াওমিদ্দীনÑ রোজ হাশরের মালিক বা কর্মফল দিবসের মালিক। এর অর্থ প্রতিদান দিবসের মালিকও করা যায়। আল্লাহ হাশরের ময়দানে বিচার করবেন। পৃথিবীতে বিন্দু পরিমাণ ভালো কাজ করলে সেটাও দেখানো হবে, আর বিন্দু পরিমাণ মন্দ কর্ম করলে সেটাও দেখানো হবে এবং তারই নিরিখে বিচারে কেউ ভালো বলে বিবেচিত হলে সে জান্নাতে যাবে আর মন্দ লোক যাবে জাহান্নামে। আল্লাহ রহমানুর রহীম সেই রোজহাশরে নিখুঁত বিচার করবেন। সূরা ফাতিহার চতুর্থ আয়াতে কারীমায় বান্দাকে আল্লাহর নিকট চাওয়ার বাক্যগুলো শিখিয়ে দেয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে : ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যা কানাসতা’ঈনÑ আমরা আপনারই ইবাদত করি এবং আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি। এই উচ্চারণের মধ্য দিয়ে বান্দা মূলত আল্লাহর নিকট সামগ্রিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। তখন তার মধ্যে নিজের অজান্তেই যেন অনুরণিত হয় : লাইলাহা ইল্লাল্লাহুÑ আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, লা মওজুদা ইল্লাল্লাহÑ আল্লাহ ছাড়া কোনো অস্তিত্ব নেই, লা মকসুদা ইল্লাল্লাহÑ আল্লাহ ছাড়া কোনো আকাক্সক্ষা নেই, লা মালিকা ইল্লাল্লাহÑ আল্লাহ ছাড়া কোনো মালিক নেই আমার সব চাওয়া-পাওয়া আল্লাহরই নিকট। আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণের দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণার মধ্য দিয়ে আল্লাহর কাছে সহজ-সরল পথের দিশা লাভের জন্য আবেদন করার বাণী প্রস্ফুটিত হয়ে উঠেছে সূরা ফাতিহার পঞ্চম ও ষষ্ঠ নম্বর আয়াতে কারীমা দু’খানিতে। ইরশাদ হয়েছে : ইহদি নাসসিরাতাল মুসতাকীম, সিরাতাল্লাযীনা আন’আমতা ‘আলায়হিমÑ আমাদেরকে সহজ সরল পথ (সিরাতুল মুসতাকীম) দেখান, তাদের পথ যাদেরকে আপনি নি’আমত (অনুগ্রহ) দান করেছেন। এখানে সিরাতুল মুসতাকীম কোনটি তা বলতে গিয়ে বলা হয়েছে যে, সিরাতুল মুসতাকীম হচ্ছে সেই সিরাত বা পথ যে পথে চলে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করে যাঁরা ধন্য হয়েছেন, যাঁরা আল্লাহর প্রিয় ও মনোনীত বান্দা হিসেবে পরিগণিত হয়েছেন, সেই পথ। কুরআন মজীদের অন্য এক আয়াতে কারীমায় এই নি’আমত প্রাপ্ত কারা তাঁদের পরিচয় দিয়ে ইরশাদ হয়েছে : আল্লাযীনা আন’আমাল্লাহু আলায়হিম মিনাননাবীয়ীনা ওয়াস্্ সিদ্দিকীনা ওয়াস শুহাদা ওয়াস সালিহীনÑ আল্লাহ যাঁদের প্রতি নি’আমত দান করেছেন তাঁরা হচ্ছেন : নবীগণ, সিদ্দীকগণ, শহীদগণ এবং সালিহ অর্থাৎ সৎ কর্মপরায়ণগণ। এখানে লক্ষণীয় যে, নবী-রসূলগণের পরে সিদ্দীক, তারপর শহীদ ও সালিহ বান্দাদের মর্যাদা তুলে ধরা হয়েছে। এঁরাই হচ্ছেন সেই সব ওলী, গওস, কুতুব যাঁরা আল্লাহর বিধানকে (শরী’আত) সমুন্নত করেছেন এবং তা নিজ নিজ জীবনে পুঙ্খানুপুঙ্খ পালন করে আল্লাহর মা’রিফাত হাসিলের জন্য তরীকত অনুযায়ী যিকর-আযকার, মুরাকাবা-মুশাহাদা করে হকীকতে উন্নীত হয়ে মারি’ফাত হাসিল করেছেন। এঁরাই হচ্ছেনÑ হাক্কানী পীর-মুরশিদ। তাঁরা রূহানী কামালত নিজেরা কঠোর রিয়াযতের মাধ্যমে লাভ তো করেনই, তাঁদের কাছে মুরীদ হয়ে সবকাদি গ্রহণ করে অন্যরাও রিয়াযতের মাধ্যমে সেই ইনাম লাভ করতে পারেন। সূরা ফাতিহার সপ্তম আয়াতে কারীমায় ভ্রান্ত পথ, শয়তান ও তাগুতের পথ থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য আবেদন-নিবেদন ব্যক্ত হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে : গায়রিল মাগদুবি ‘আলায়হিম ওয়ালাদদল্লীনÑ তাদের পথ নয়, যাদের ওপর আপনার গজব নিপতিত হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট। সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম আমীন বলতেন : যে কারণে এই সূরাখানি পড়ে আমীন বলতে হয়। আমীন অর্থ হচ্ছে কবুল করো। আমরা খ্রিস্টানদেরও প্রার্থনা শেষে আমিন (আমেন) বলতে দেখি। সূরা ফাতিহার মাহাত্ম্য রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে : হযরত ইমাম জাফর সাদিক (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, ৪০ বার বিসমিল্লাসহ সূরা ফাতিহা পাঠ করে পানিতে ফুঁক দিয়ে সে পানি জ্বরাক্রান্ত কিংবা কঠিন রোগাক্রান্ত রোগীর চোখে-মুখে ছিটিয়ে দিলে আল্লাহর রহমতে রোগ নিরাময় হয়। যিনি এই ফুঁক দেবেন তাঁকে অবশ্যই শুদ্ধাচারী আমলদার কামিল ব্যক্তি হতে হবে। এছাড়াও কঠিন দুরারোগ্য অসুখে সূরা ফাতিহায় শিফা রয়েছে। এই সূরা তিলাওয়াত করলে সমগ্র কুরআন মজীদের দুই-তৃতীয়াংশ সওয়াব পাওয়া যায়। এই সূরার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে বান্দা কি পদ্ধতিতে চাইবে বা দু’আ করবে, তা শিখিয়ে দেয়া হয়েছে। সূরা ফাতিহা ছাড়া সালাত (নামায) হয় নাÑ এরই মধ্য দিয়ে এই সূরার গুরুত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব উপলব্ধি করতে পারি। ইলমে তাসাওউফ অর্জন করতে পারলে এর মর্ম প্রত্যক্ষ দর্শনের মাধ্যমে আত্মস্থ করা সম্ভব হয়। সূরা ফাতিহার এক নাম রুকিয়া, আর এক নাম শিফা। প্রথমটির অর্থ ফুঁক দেয়া আর দ্বিতীয়টির অর্থ নিরাময় বা আরোগ্য। এই সূরাই আদতে আসাসুল কুরআন অর্থাৎ কুরআনের বুনিয়াদ বা ভিত্তি। লেখক : পীর সাহেব দ্বারিয়াপুর শরীফ উপদেষ্টা ইনস্টিটিউট অব হযরত মুহম্মদ (সা.) সাবেক পরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২

শীর্ষ সংবাদ:

দেশে করোনায় মৃত্যু আরও ২, শনাক্ত ২১৮
কক্সবাজারের লাবণী ও সুগন্ধা বিচে ভাঙন
বিদ্যুত সাশ্রয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক ছুটি দুইদিন হতে পারে
ইউক্রেনে পৌঁছালো যুক্তরাজ্যের অস্ত্রের নতুন চালান
অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা বেহেশতে আছি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সারাদেশে ব্যাংকের শাখায় কেনাবেচা হবে ডলার
বিএনপির হাঁকডাক লোক দেখানো : ওবায়দুল কাদের
তেলের পাচার ঠেকাতেই দাম বাড়ানো হয়েছে : তথ্যমন্ত্রী
একদিন এগিয়ে কাতার বিশ্বকাপ শুরু ২০ নভেম্বর
নিয়ন্ত্রণের বাইরে জিনিসপত্রের দাম দিশেহারা জনজীবন
সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ: ফখরুল
টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে দুই বোনের শ্রদ্ধা
জনসন অ্যান্ড জনসন টেলকম পাউডারের বিক্রি বন্ধ
এলাকাভেদে শিল্প-কারখানার সাপ্তাহিক ছুটি ভিন্ন দিনে
বিয়ের ২৫ ভরি স্বর্ণ হাতিয়ে নিতে স্ত্রীকে খুন
বগুড়ায় সার ব্যবসার কালোবাজর নিয়ন্ত্রণ করছে সিন্ডিকেট
বাকেরগঞ্জ অবৈধভাবে বালু উত্তলনের মহাউৎসব