ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

সিরিয়ায় রুশ হামলার সুযোগে কুর্দিরা ভূখ- দখল করায় ক্ষুব্ধ আঙ্কারা

বিভেদের পথে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক

প্রকাশিত: ০৪:০৭, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

বিভেদের পথে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে মার্কিন সমর্থিত কুর্দি যোদ্ধাদের দ্রুত অগ্রযাত্রা যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে। সরকারবিরোধীদের ওপর রুশ বিমান হামলার সুযোগ নিয়ে কুর্দিরা তুর্কি সীমান্তের কাছে ভূখ- দখল করতে থাকায় আঙ্কারা ক্ষুব্ধ হয়েছে এবং এতে ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়ার উপক্রম হয়েছে। খবর ইয়াহু নিউজের। ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ার কুর্দিশ ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন পার্টি (পিওয়াইডি) ও এর সামরিক শাখা ওয়াইপিজি গ্রুপকে সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াই করার সবচেয়ে সম্ভাবনামর শক্তি হিসেবে দেখে এসেছে। এতে ন্যাটো সদস্য তুরস্ক ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। কারণ তুরস্ক ওই গ্রুপটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে দেখে থাকে এবং গ্রুপটি তুরস্কের নিজস্ব সংখ্যালঘু কুর্দি নাগরিকদের মধ্যে আরও অসন্তোষ ছড়িয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করছে। রুশ বিমানের বোমাবর্ষণ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পাঁচ বছর ধরে চলমান সিরীয় গৃহযুদ্ধের গতিপ্রকৃতি পাল্টে দিয়েছে। যুদ্ধের মোড় মস্কোর মিত্র প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পক্ষেই চূড়ান্তভাবে ঘুরে গিয়েছে। সিরীয় সেনাবাহিনী তুর্কি সীমান্তের ২৫ কিলোমিটার (১৫ মাইল) ভেতর এসে পড়েছে। সেনাবাহিনী বলছে, তাদের লক্ষ্য বিদ্রোহী ভূখ-মুখী প্রধান সরবরাহপথ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে এবং আলেপ্পো পুনর্দখল করে সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া। আলেপ্পো সিরিয়ার সবচেয়ে বড় শহর। এদিকে, ওয়াইপিজি পরিস্থিতির সুযোগ দিয়ে ওই অঞ্চলে অন্যান্য সিরীয়বিরোধী গ্রুপের কাছ থেকে ভূখ- দখল করেছে। কুর্দিরা মস্কোর সঙ্গে সরাসরি সহযোগিতা করছে এমনটি ওয়াশিংটন মনে করছে না বলে জানায়। কিন্তু ওয়াইপিজির অগ্রযাত্রা রাশিয়ার এক সফল কৌশলই হতে পারে। কারণ ন্যাটো মিত্র তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যে কোন মতবিরোধ থেকে রাশিয়ার সুবিধা হতে পারে। স্বতন্ত্র নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং অবসরপ্রাপ্ত তুর্কি সেনা অফিসার মেতিন গুরকান বলেন, এখন ওয়াইপিজিই উভয়সঙ্কটে পড়েছে; গ্রুপটি আমেরিকা না রাশিয়ার সঙ্গে থাকবেÑ কোন কৌশল বেছে নেয়া হয়, তা-ই সিরিয়ার ভবিষ্যত এবং তুরস্কে চলমান সংঘর্ষের ওপর প্রভাব ফেলবে। তুরস্ক সিরিয়ার অভ্যন্তরে টানা চার দিন ধরে ওয়াইপিজি অবস্থানগুলোর ওপর গোলাবর্ষণ করছে। আঙ্কারা এ মিলিশিয়া বাহিনীকে নিষিদ্ধঘোষিত কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) এক সম্প্রসারণ হিসেবে দেখে থাকে। পিকেকে তুরস্কের কুর্দিপ্রধান দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের স্বায়ত্তশাসনের জন্য তিন দশক ধরে বিদ্রোহী লড়াই চালিয়ে এসেছে। তুরস্ক কুর্দিদেরও রাশিয়ার দাবার ঘুঁটি বলে দেখাতে চায়। গত বছর তুরস্ক সিরিয়ার আকাশসীমায় এক রুশ যুদ্ধবিমানকে গুলি করে ভূপাতিত করার পর সাবেক ঠা-া লড়াইকালীন এ প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে সম্পর্কের গুরুতর অবনতি ঘটে। তুরস্ক এখন চলতি সপ্তাহে হাসপাতালে হামলা চালানোসহ সিরিয়ার বেসামরিক লোকজনের ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে বোমাবর্ষণের দায়ে রাশিয়াকে অভিযুক্ত করছে। আঙ্কারা একে সরকারী বাহিনীর অগ্রাভিযানের আগে ভূখ-কে জনমানবশূন্য করার লক্ষ্যে সংঘটিত ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে অভিহিত করছে। এ কথা অস্বীকার করে মস্কো সিরিয়ার জিহাদী জঙ্গী দলগুলোকে প্রকাশ্যে মদদ যোগানোর দায়ে তুরস্ককে অভিযুক্ত করছে। যুক্তরাষ্ট্র উত্তর সিরিয়াতে দ্বন্দ্ব-বিরোধের মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে পারেÑ এমন তৎপরতা বন্ধ করতে ওয়াইপিজির প্রতি আহ্বান জানায়। ওয়াশিংটন অন্যত্র ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কুর্দি যোদ্ধাদের সমর্থন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ওয়াইপিজির অবস্থানগুলোর ওপর গোলাবর্ষণ বন্ধ করতে আঙ্কারার প্রতিও আহ্বান জানায়। ওয়াইপিজি রুশদের সঙ্গে সহযোগিতা করছে বলে ওয়াশিংটন কোন প্রমাণ পায়নি। পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র মার্ক টোনার চলতি সপ্তাহে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান। প্রায় তিন কোটি কুর্দি ইরান, তুরস্ক, ইরাক ও সিরিয়াতে বাস করে। সিরিয়ায় কুর্দিরাই সবচেয়ে বড় জাতিগত সংখ্যালঘু এবং তারা প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ও তার আগে তার পিতার শাসনামলে দশকের পর দশক ধরে নির্যাতন ভোগ করে। এখন কুর্দিরা সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে নিজেদের জন্য এক ভূখ- ভাগ করে নিতে শুরু করেছে। উত্তর ইরাকে তাদের স্বগোত্রীয়রা যে স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে তার অনুসরণেই সিরীয় কুর্দিরা তাদের চেষ্টা চালাচ্ছে।

শীর্ষ সংবাদ:

নিত্যপণ্য ক্রয়ক্ষমতায় রাখতে পদক্ষেপ নেবে সরকার
শাস্তিমূলক ব্যবস্থায় আপত্তি থাকবে না: চীনা রাষ্ট্রদূত
বঙ্গোপসাগরে ফের লঘুচাপ : সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর সতকর্তা
চীনে আকস্মিক বন্যায় ১৬ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ৩৬
পাকিস্তান থেকেও হত্যার হুমকি পেলেন তসলিমা নাসরিন
দাবি আদায়ে মাধবপুরে চা শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ
ডলারের দাম কমেছে ১০ টাকা, স্বস্তিতে ডলার
ডিমের দাম হালিতে কমলো ১০ টাকা
আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য
রেলওয়ে জমির অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে শহরজুড়ে মাইকিং
আন্দোলন অব্যাহত, চা শ্রমিকরা দাবিতে অনড়
ভক্তদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার পরামর্শ দিলেন ওমর সানী