বাগেরহাটের মোল্লাহাটে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত উপজেলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ী সোহাগ শেখ (৪০)-এর জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার বিকাল সোয়া পাঁচটায় মোল্লাহাট সরকারি ওয়াজেদ মেমোরিয়াল মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী ও বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে মোল্লাহাট বাজার বণিক সমিতির উদ্যোগে ব্যবসায়ীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন এবং শোক মিছিল বের করেন। এছাড়া প্রতিবাদস্বরূপ রবিবার দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মোল্লাহাট বাজারের সব দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়। নিহত সোহাগ শেখ মোল্লাহাট সদর উপজেলার উদয়পুর গ্রামের দাউদ আলী শেখের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মোল্লাহাট বাজারে টিন ও হার্ডওয়্যারের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত আনুমানিক সোয়া ১০টার দিকে সোহাগ শেখ তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে মোল্লাহাট পান বাজার এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে এর এক সপ্তাহ আগে, গত ৭ মার্চ রাতে সোহাগ শেখের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার নুর ইসলাম (২৭) সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন। কর্মস্থল থেকে নিজ বাড়ি কুলিয়া গ্রামে ফেরার পথে ঢাকা–খুলনা মহাসড়কের কাহালপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
একই প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও মালিকের ওপর এক সপ্তাহের ব্যবধানে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে। নিহতের মরদেহ বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী রমজানুল হক বলেন, “কয়েকদিন আগে সোহাগ শেখের দোকানের এক কর্মচারীকে গুলি করা হয়েছিল। কর্মচারীকে হত্যাচেষ্টা এবং মালিককে হত্যার পেছনে ব্যবসা সংক্রান্ত কোনো বিরোধ থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
সোহাগ শেখের জানাজায় উপজেলা বিএনপি সভাপতি শেখ হাফিজুর রহমান, সাবেক আহ্বায়ক শিকদার জামাল উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ সাহেদ আলী, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাফেজ মো. হেদায়েত উল্যাহসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।








