ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০

ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যার হাসপাতাল

বাড়ছে রোগী, স্যালাইন ওষুধের তীব্র সংকট

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঠাকুরগাঁও

প্রকাশিত: ২২:৫৭, ৭ ডিসেম্বর ২০২৩

বাড়ছে রোগী, স্যালাইন ওষুধের তীব্র সংকট

২৫০ শয্যা হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে গাদাগাদি করে রোগী নিয়ে থাকছেন স্বজনরা

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে ঠাকুরগাঁওয়ের ঘরে ঘরে বাড়ছে জ্বর, সর্দি ও কাশির রোগী। তবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। এ ছাড়া হঠাৎ করে রোগীর চাপ বাড়ায় হাসপাতালে দেখা দিয়েছে ওষুধ, স্যালাইন ও শয্যাসংকট। অপরদিকে চাহিদার তুলনায় হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ ও স্যালাইন না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে রোগী ও স্বজনরা। 
চিকিৎসকরা বলছেন, বৈশ্বিক আবহাওয়ার বিরূপ আচরণের প্রভাবে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ঠান্ডাজনিত রোগজীবাণুর ধরনে পরিবর্তন হয়েছে। এ কারণে শিশু, বৃদ্ধ নারী-পুরুষসহ আক্রান্ত হচ্ছে সব বয়সী মানুষ। এতে আতঙ্কিত না হয়ে সাধারণ মানুষকে মাস্ক পরা ও পুষ্টিকর খাবার খেতে পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। 
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ৫৩৮ রোগী  ভর্তি ছিল । এর মধ্যে শিশুর সংখ্যা ১৮০-১৮৫। তাদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৪৫ শয্যার ওয়ার্ড। এ জন্য একটি শয্যায় দুই-তিনজন করে শিশুকে থাকতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি এই ঠান্ডায় ওয়ার্ডের বারান্দা, চলাচলের পথেও শিশুদের রাখা হয়েছে। 
এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মা-বাবারা। এ ছাড়া অতিরিক্ত রোগীর কারণে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না স্বাস্থ্য সুরক্ষা। ঠাকুরগাঁও শহরের রহিমানপুর এলাকার মনি বেগম এসেছেন তার এক বছর বয়সী শিশুকে নিয়ে। প্রচ- ঠান্ডায় শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছিল তার শিশুটির। মনি বলেন, ‘গত চারদিন হলো শিশুটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিন হাজার টাকার ওষুধ কিনতে হয়েছে।’ আরজিনা নামের আরেকজন বলেন, ‘দুই-একটা ওষুধ ছাড়া বাকি সব ওষুধ বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনে আনতে হচ্ছে।’ 
শিশু ওয়ার্ডের ইনচার্জ ফাতেমা বেগম বলেন, ‘প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ জন শিশু ভর্তি হচ্ছে। এসব রোগীর জন্য যেসব ওষুধ হাসপাতাল থেকে ওয়ার্ডে সরবরাহ করা হয় তা দেওয়া হলেও চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। বাকিগুলো বাইরে থেকে কিনে আনতে বলি। কোনো ধরনের স্যালাইন সরবরাহ নাই।’ 
হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেজ্ঞ ডা. আবু মোহা. রাজিবুল দোযা বলেন, আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে শিশুদের শরীরে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ থাকছে না। এতে তারা জ্বর, সর্দিসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বর্তমানে প্রচুর রোগী ভর্তি হচ্ছে। শিশুদের জন্য এটি একটি দুর্যোগের সময়। জনবল কম থাকার পরও সেবা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ওষুধের কিছুটা সংকট রয়েছে বলেও জানান তিনি। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা রাকিবুল আলম বলেন, অন্য বছরের তুলনায় এবার ঠান্ডাজনিত আক্রান্ত বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের আক্রান্তের হার বেড়েছে। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা. নূর নেওয়াজ আহমেদ বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বেশি থাকার কারণে মানুষের শরীরে পুষ্টির অভাব হচ্ছে। মানুষ পুষ্টিকর খাবার খেতে পারছে না। ফলে তারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

×