৩ এপ্রিল ২০২০, ২০ চৈত্র ১৪২৬, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

বাংলাদেশীদের উহান থেকে এখনই ফেরানো যাচ্ছে না ॥ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত : ২৯ জানুয়ারী ২০২০

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ সরকারের প্রস্তুতি থাকলেও চীনের নিষেধাজ্ঞার কারণে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল উহান থেকে এখনই বাংলাদেশীদের ফেরানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন। মঙ্গলবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রায় পাঁচ শ’ ছাত্রছাত্রী থাকে উহানে। তাদের কেউ যদি স্বদেশে আসতে চায়, প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য। আমরা সেজন্য প্লেনও রেডি করেছি। তবে আমরা চীনা সরকারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তারা বলেছে, আগামী দুই সপ্তাহ বা কমপক্ষে ১৪ দিন ওদের আসতে দেবে না।’ খবর বিডিনিউজের।

নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য দেশের আবেদনেও চীন সরকার একই রকম সাড়া দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘তাদের ওখানে পুরোপুরি শাট ডাউন, কোথাও যেতে দেয় না। কোথাও নিয়ে গেছে মার্কেটে বাজার করার জন্য, আবার নিয়ে এসেছে। তারা বলেছে, ১৪ দিন তারা কোন দেশের লোকদের ওই এলাকা ছাড়তে দেবে না।’

মধ্য চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানে গত বছরের শেষ দিনে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়। নিউমোনিয়ার মতো লক্ষণ নিয়ে নতুন এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় সপ্তাহখানেক আগে রাজ্যের সব গণপরিবহন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়। কেউ কেউ শহর ছেড়ে গেলেও অনেকে সেখানে কার্যত অবরুদ্ধ।

নতুন ধরনের এই করোনাভাইরাসে চীনে এখন পর্যন্ত ১০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৪ হাজার ৫১৫ জন, যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।

বছরের এমন এক সময়ে চীনে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে, যখন চন্দ্রবর্ষের উৎসবে প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটাতে বিপুলসংখ্যক মানুষ এক শহর থেকে অন্য শহরে যাতায়াত করে। ফলে ভাইরাস ছড়ানোর সুযোগও বেড়ে গেছে অনেক। ভাইরাস ছড়ানো ঠেকাতে হুবেই প্রদেশের সঙ্গে অন্যান্য অঞ্চলের বাস চলাচল একপ্রকার বন্ধ করে দিয়েছে চীন সরকার। হুবেই থেকে যারা বেজিং বা সাংহাই যাচ্ছেন, তাদের ১৪ দিনের পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।

আটকে পড়াদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা রয়েছেন।

তবে উহানে থাকা বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য খোলা ‘ওয়েবপেজের’ মাধ্যমে ২৪৫ জনের সঙ্গে ’সার্বক্ষণিক আলাপ-আলোচনা’ চলছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

চীন সফরের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চীন ও আশপাশের দেশ থেকে আগতদের বিষয়ে বাংলাদেশ সতর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, যারাই ওইসব এলাকা থেকে আসবে, তাদের আমরা মনিটরিংয়ের মধ্যে রাখব। তাদের নাম-ঠিকানা রাখব, তারা কোথা থেকে আসছেন, কোথায় যাচ্ছেন। যাতে কোন কিছু ঘটলে আমরা বলতে পারি, কি কারণে ঘটল।

এর আগে গুলশানের লেকশোর হোটেলে ‘তৃতীয় ইউনিভার্সাল পেরিওডিক রিপোর্টস বাস্তবায়ন নিয়ে কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের পরিচালনায় ওই অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বক্তব্য দেন।

পায়রা তাপবিদ্যুত কেন্দ্রের চীনা নাগরিকদের সতর্ক করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, করোনা ভাইরাস নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকতে কলাপাড়ার পায়রা তাপবিদ্যুত কেন্দ্রে কর্মরত প্রায় আড়াই হাজার চীনাসহ আরও ছয় হাজার বাঙালী শ্রমিককে পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্যবিভাগ। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় পায়রা তাপ বিদ্যুত কেন্দ্র অভ্যন্তরে বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিপিসিএল) কর্মরত চীনা এবং বাংলাদেশী কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের উপস্থিতিতে এক সচেতনতামূলক সভা করা হয়েছে।

তামাবিল স্থলবন্দরে মেডিক্যাল টিম ॥ স্টাফ রিপোর্টার জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তকরণে সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দরে মেডিক্যাল টিম কাজ শুরু করেছে। মঙ্গলবার তামাবিল স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশনে বসানো হয়েছে মেডিক্যাল টিম। গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য অফিস সূত্রে জানা যায়, সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দরে ভারত থেকে তামাবিল হয়ে বাংলাদেশে আসা পর্যটক,অভিবাসীদের মেডিক্যাল চেকআপের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

হুবেই থেকে নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে ভারত ॥ নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়া চীনের হুবেই প্রদেশ থেকে নিজ নাগরিকদের সরিয়ে নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমারের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স।

এক টুইটে রবীশ কুমার বলেন, ‘চীনের হুবেই প্রদেশে করোনা-২০১৯ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সমস্যায় পড়া ভারতীয় নাগরিকদের সরিয়ে আনার প্রস্তুতি শুরু করেছি আমরা।’

প্রকাশিত : ২৯ জানুয়ারী ২০২০

২৯/০১/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: