১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ঘুরে আসুন নিঝুম দ্বীপের জেলা নোয়াখালী...


‘আঙ্গো বাড়ি নোয়াখালী রয়েল ডিস্টিক্ট ভাই। ফেনী, মাইজদী, চৌমুহনীর নাম কে হুনে নাই?’ হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপ পর্যটনের মূল, নোয়াখালী না আসিয়া করিও না ভুল। প্রিয় পাঠক, আজ আমরা নোয়াখালী জেলার গল্প আপনাদের শুনাব। বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে অন্যতম জেলা নোয়াখালী। নোয়াখালী জেলার পূর্ব নাম ছিল ‘ভুলুয়া’। ইতিহাসবিদদের মতে একবার ত্রিপুরার পাহাড় থেকে প্রবাহিত ডাকাতিয়া নদীর পানিতে ভুলুয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভয়াবহভাবে প্লাবিত হয় ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য ১৬৬০ সালে একটি বিশাল খাল খনন করা হয়, যা পানির প্রবাহকে ডাকাতিয়া নদী হতে রামগঞ্জ, সোনাইমুড়ী ও চৌমুহনী হয়ে মেঘনা এবং ফেনী নদীর দিকে প্রবাহিত করে। এই বিশাল খালকে নোয়াখালীর ভাষায় ‘নোয়া (যার শাব্দিক অর্থ নতুন) এবং খাল’ বলা হতো। এর ফলে অঞ্চলটি একসময় নোয়াখালী হিসেবে মানুষের মুখে উচ্চারিত হতে থাকে। এক সময় নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর এবং ফেনী মহকুমা নিয়ে বিশাল এক জেলা ছিল ‘নোয়াখালী’। তারপর লক্ষ্মীপুর ও ফেনী আলাদা জেলা হিসেবে রূপ লাভ করে। নোয়াখালী জেলার মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধের রণক্ষেত্রে পাক-সেনাদের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরে। নোয়াখালী জেলার বেশির ভাগ মানুষ কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত।এ জেলার অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। মৎস্য চাষ আর মৎস্য আহরণ মূলত প্রধান পেশা। নোয়াখালীতে রয়েছে অনেকগুলো চিত্তাকর্ষক স্থান। এসব স্থানে ভ্রমণ করলে অনেকেরই মন ভাল হয়ে যাওয়ার কথা। নদীর মিতালী, দ্বীপ, বনাঞ্চল আর চর-ভ্রমণপ্রিয়সী মানুষের মনের খোরাক জোটাতে বদ্ধপরিকর।

নিঝুম দ্বীপ : নিঝুম দ্বীপ বাংলাদেশের একটি ছোট দ্বীপ হলেও এর সৌন্দর্য ভ্রমণপ্রিয়সী মানুষদের মনে দোলা দিয়ে যায়। নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার অন্তর্গত নিঝুম দ্বীপ। এটি দ্বীপ বলে আখ্যায়িত হলেও মূলত এটি একটি ‘চর’। নিঝুম দ্বীপের নাম পূর্বে ছিল ‘চর-ওসমান’। নিঝুম দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে পর্যটকরা প্রতিনিয়তই সেখানে ভিড় জমান। নিঝুম দ্বীপে পর্যটকদের জন্য রয়েছে অবকাশের নিঝুম রিসোর্ট। সেখানে রয়েছে সাপ্লাই পানি এবং জেনারেটর। খাবারের জন্য রয়েছে স্থানীয় হোটেল। নিঝুম দ্বীপে রয়েছে মহিষ, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, হরিণ। এছাড়া শীতের সময় বিপুল পরিমাণ অতিথি পাখির মেলা বসে এই দ্বীপটিতে।

কিভাবে যাবেন নিঝুম দ্বীপে : ঢাকার সায়েদাবাদ, মহাখালী, কমলাপুর থেকে সোনাপুরগামী বাসে যেতে হবে সোনাপুর। ভাড়া ৩৫০-৫০০ টাকা। সেখান থেকে সিএনজি অটোরিক্সাতে চেয়ারম্যানঘাট। এরপর ট্রলারে চেপে যেতে হবে নলচিরা ঘাট। এরপরই নিঝুম দ্বীপ ঘাট থেকে নামার বাজার (নিঝুম দ্বীপ)। সময়ের বিবর্তনে যাতায়াতে ভাড়ার তারতম্য থাকতে পারে। তাই যাতায়াতে ভাড়া মুলিয়ে নিন।

গান্ধী আশ্রম

গান্ধী আশ্রম নোয়াখালীর একটি দর্শনীয় স্থান । স্থানটি দেখতে পর্যটকের ভিড় পরে যায় প্রায়ই সময়। নোয়াখালী জেলার মাইজদী কোর্ট হতে প্রায় ২৫ কি.মি. উত্তরে সোনাইমুড়ী উপজেলায় অবস্থিত গান্ধী আশ্রম। তৎকালীন জমিদার হেমন্ত কুমার ঘোষের বাড়িতে ওই গান্ধী আশ্রমটি স্থাপিত হয়। বর্তমানে গান্ধী আশ্রম একটি সেবামূলক সংগঠন হিসেবে নোয়াখালীসহ দেশের মানুষের আস্থা- ও বিশ^াস উপার্জন করেছে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯৪৬ সালের শেষ ভাগে সারা ভারতবর্ষে সাম্প্রদায়িক বিবাষ্প ছড়িয়ে পড়ে। তখন পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রভাব বাংলা দেশের নোয়াখালীতে ও দেখা দেয়। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়াসহ তা-বলীলা চলতে থাকে নোয়াখালীতে। তখন শান্তি মিশনের অগ্রদূত হয়ে নোয়াখালীতে আসেন মহত্মা গান্ধী। একপর্যায় ১৯৪৭ সালের ২৯ জানুয়ারি তিনি সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ গ্রামে, জেলার প্রথম ব্যারিস্টার হেমন্তকুমার ঘোষ জনকল্যাণে মহাত্মা গান্ধীর নামে দান করেন। সে থেকে এটি গান্ধী আশ্রম নামেই পরিচিত।

নোয়াখালী জেলায় আরও রয়েছে দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা। এসব দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা মন কেড়ে নেয় দর্শনার্থীদের। বাংলাদেেেশর মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব দেখিয়ে দেেেশর সর্বোচ্চ সম্মান বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত হওয়া বীর মুক্তিযুদ্ধা নৌ-বাহিনীর আর্টিফিসার শহীদ রুহুল আমিন এর স্মৃতিকে আগলে রেখে নির্মিত হয় শহীদ মোঃ রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর।ড্রিম ওয়ার্ল্ড পার্ক, শহীদ মিনার নোয়াখালী, জেলা জামে মসজিদ নোয়াখালী, বজড়া শাহী মসজিদ, শহীদ ভুলু স্টেডিয়াম নোয়াখালী। রয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বদ্যিালয়। নোয়াখালী জেলার সোনাপুরে ১০১ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত বিশ^বিদ্যালয়টি। তাই নোয়াখালী আসুন, নোয়াখালীর চিত্তকর্ষক স্থাপনাগুলো ভ্রমণ করে মনের প্রশান্তি দূর করুন।