২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বিশ্বের তরুণ নেতৃত্ব


বর্তমান বিশ্বে সম্পদশালী ব্যক্তিত্বের সংখ্যা অনেক। প্রতিবছর প্রতিবেদনও প্রকাশ হয় এদের অর্জিত সম্পদের তথ্য নিয়ে। ধনীদের অবস্থান বা র‌্যাঙ্কিংয়ের প্রতিবেদন বিশ্বব্যাপী আলোচিত ও আগ্রহের বিষয়। এ ক্ষেত্রে মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিলগেটস থেকে এ্যাপেলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস, একটা অসম প্রতিযোগিতা সার্বক্ষণিক লক্ষণীয়। আর এই প্রতিযোগিতা দেশ, মহাদেশ বা সমগ্র বিশ্বজুড়ে। সম্পদ বা বিত্ত অর্জনেরও সব ক্ষেত্রেই একটা শ্রেণী বা ক্যাটাগরি রয়েছে । পৃথিবীতে যারা খুব অল্প বয়সে ক্যারিয়ার শুরু করেছেন এবং পৌঁছে গেছেন সম্পদ অর্জনের শীর্ষে তাদের নিয়ে আলোচনা বা কৌতূহল একটু বেশি হওয়াই স্বাভাবিক। নিজেদের মেধা, সামর্থ্য সফল হওয়ার ইচ্ছাই আজ তাদের আলোচনায় নিয়ে এসেছে। হয়ত নিজেরাই ভাবেনি জীবনের ওই পদক্ষেপগুলোই সঠিক প্রমাণিত হবে। বিশ্বব্যাপী এদের সংখ্যাও কম নয়। তেমনি ইয়াং ইনোভেটিভ থিংকিং দিয়ে সম্পদ অর্জনের শীর্ষে রয়েছে তাদের প্রথম দশজনের ক্যারিয়ার নিয়ে আজকের এই আয়োজন।

* মার্ক জুকারবার্গ সমগ্র পৃথিবীজুড়ে যার রয়েছে সুপরিচিতি, কেউ তার সম্পদের খোঁজখবর রাখুক বা না রাখুক তার দেখানো পথের খবর সবাই রাখেন। বন্ধু হোক আর বান্ধবী হোক কিংবা পরিবারের সদস্য হোক, কাছে দূরে সবার সঙ্গে যোগাযোগের সহজ সামাজিক মাধ্যম ইন্টারনেটভিত্তিক ফেসবুক- মার্ক জুকারবার্গের ইউনিক থিংকিং। ২০০৪ যখন তিনি হার্ভার্ডের ছাত্র, বয়স মাত্র ১৯ বছর,- সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কের সাইট ফেসবুক চালু করেন। এক্ষেত্রে ব্যবসা সম্পর্কে কিছুই জানতেন না তিনি। স্কুলে থাকা অবস্থায় নিজেই ফেসবুকের কোডিং করতেন। তার কোডিংয়ের জন্য মাইক্রোসফট থেকে ১ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। পরে নিজেই তৈরি করেন মিউজিক স্ট্রিমিংয়ের নতুন এ্যাপ। পরবর্তীতে এমটিভি তার ফেসবুক বিক্রির ৭৫ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দেন। এসব উল্লেখ করার কারণ হলো মার্ক জুকারবার্গ নিজের চিন্তা কাজের প্রতি খুবই সংবেদনশীল। এ কারণেই আজ তিনি ইয়াং বিলিনিয়র।

* জাস্টিন মস্কোভেজ যার ডাক নাম ‘ড্রেসট্রয়’।তিনি শুরুতে সামাজিক যোগাযোগের সাইট ফেসবুকের সঙ্গেই ছিল। হার্ভার্ডে অধ্যয়নকালীন মার্ক জুকারবার্গ ও জাস্টিন দুজনে ছিল রুমমেট । ফেসবুক লঞ্চ করার পর জাস্টিন চিফ টেকেনোলজি অফিসার ছিলেন। পরে ফেসবুক থেকে বেড়িয়ে এসে নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন অংধহধ নামের প্রতিষ্ঠান, এটা ছিল জাস্টিনের ইনোভেটিভ থিংকিং। তার প্রতিষ্ঠান এমন একটি এ্যাপ তৈরি করল যে, এ্যাপ বা এ্যাপ্লিকেশন সহকর্মীদের ই-মেইল ছাড়াই একে অপরকে সহযোগিতা করতে পারবে। জাস্টিনের এই ইনোভেটিভ এ্যাপ পেশাগত কর্মক্ষেত্রে একটা ইউনিক থিংকিং ছিল।

* কান্ট্রি গার্ডেন হোল্ডিং এর সিইও ইয়ং হুইয়ান । এশিয়া তথা সমগ্র বিশ্বের ইয়াং সম্পদশালী নারী। নিজের প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট কোম্পানিতে যুক্ত করে প্রতিষ্ঠা করেন কান্ট্রি গার্ডেন হোল্ডিং নামে একটি বৃহৎ ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি। সম্পদের সদ ব্যবহারের ইনেভেটিভ থিংকিং সম্পদ অর্জনের শীর্ষে নিয়ে আসেন এই ব্যক্তিত্বকে।

* ৯৯.ঈ০ কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত এডুয়ার্ডো সেভারাইন। বয়সে মার্ক জুকারবার্গের বড় হলেও হার্ভার্ড থেকেই দুইজনের খুব ভাল বন্ধুত্ব ছিল।

ফেসবুকের প্রথম বিনিয়োগকারী ছিলেন। পরবর্তীতে কোন এক অপ্রিতিকর ঘটনায় বেড়িয়ে আসেন ফেসবুক থেকে। আইনী মীমাংসায় বুঝে নেন পার্টনারশিপের টাকা। তারপর প্রতিষ্ঠা করেন ৯৯.ঈ০ নামে সিঙ্গাপুরভিত্তিক রিয়েলস্ট্রেট প্লাটফর্ম। সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে এডুয়ার্ডো সেভারাইন তরুনদের মধ্যে অন্যতম।

* এন্টারপ্রাইজ প্রোডাক্ট পার্টনারের প্রতিষ্ঠাতা স্কট ডানকান । তাঁর জাদুতেই বিলিনিয়ন ক্লাবের সদস্য হয় তাদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান এনার্জি পাইপলাইন কোম্পানি। তার তিন বোনও ছিলেন এক-একজন বিলিনিয়র। পরবর্তীতে স্কট নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন এন্টারপ্রাইজ প্রোডাক্ট পার্টার নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

* থ্রনোস এর প্রতিষ্ঠাতা এলিজাবেথ হোমসও মার্ক জুকারবার্গের মতো বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ব অসম্পন্ন রেখেই ত্যাগ করেন রাসায়নিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পর্ব। বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে পালো আল্টো ক্লেফভিত্তিক রক্ত নিদান বিদ্যার থ্রানোস প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে বনে যান ইয়াং ধনকুবের।

*অরৎনহন ইন্টারনেট ভিত্তিক মার্কেটিং ব্যবসার প্রতিষ্ঠান অরৎনহন এর সহ প্রতিষ্ঠাতা নাথান ব্লেচার্জকি ২০০৪ সালে ২০টি দেশের গ্রাহকদের নিয়ে শুরু হয় অরৎনহন এর ব্যবসায়িক কার্যক্রম। নাথান ব্লেচার্জকি আজ তরুণ বিলিনিয়র।

* অরৎনহন এর আর একজন প্রতিষ্ঠাতা ব্রান চেসকি। চেসকি ও তার রুমমেট জো গ্যারিয়া তাদের সানফ্রান্সিসকো এ্যাপার্টমেন্ট থেকে শুরু করেন তাদের প্রথম ব্যবসায়িক পদক্ষেপ।বর্তমানে ১৯০টি দেশে তাদের অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রম সচল আছে অরৎনহন এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ব্রান চেসকি ও একজন তরুণ বিলিনিয়র।

* জো গ্যারিয়া অরৎনহন কোম্পানির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও এর প্রধান পণ্য কর্মকর্তা। অরৎনহন প্রতিষ্ঠার পূর্বে তিনটি ছোট ছোট ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান করেছিলেন। পরবর্তীতে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া বুটিক্স গ্রাফিক্স ডিজাইনে ফোকাস করার উদ্দেশ্যে অরৎনহন এর সঙ্গে যুক্ত হন। এবং প্রমাণ করেন ধনী হবার নিজের সামর্থ্য।

* সুইডিস হার্টথ্রোব টমাস পারসন, লন্ডনের মেটফ্লিম স্কুলে ফ্লিম প্রোডাকশনে পড়াশোনা করেও পরবর্তীতে নিজেদের পারিবারিক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ঐবহহবং ্ গধঁৎরু ডরফড়ৎংং যুক্ত হয় পরবর্তীতে এই প্রতিষ্ঠানে প্রধান হন টমাস পারসন। টমাস টপটেন বিলিনিয়রের একজন।