২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বুলেট ট্রেন, পাতাল রেল!


দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বুঝি বিপ্লব ঘটতে চলেছে আগামী কয়েক বছরে। গত শনিবার রাজধানীর কমলাপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে নতুন বিরতিহীন ট্রেন সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী সেই স্বপ্নের কথা বলেছেন। এর ফলে মাত্র ৫ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাতায়াত সম্ভব হবে। প্রসঙ্গত বলা যেতে পারে যে, এই পথে ডবল লাইন স্থাপনও প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং চার লেন বিশিষ্ট সড়কপথও চূড়ান্ত প্রায়। ফলে খুব শীঘ্রই শিল্প, বাণিজ্য ও বন্দর নগরীর সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ সহজসাধ্য, সময় সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক হয়ে উঠবে। নতুন রেল সোনার বাংলা এক্সপ্রেস উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী দেশকে ঘিরে বিশেষ করে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তার স্বপ্নের কথা বলেছেন। তবে শুধু স্বপ্নের কথা বলেই তিনি ক্ষান্ত হননি; তার রূপরেখাও দিয়েছেন, যা বাস্তবায়িত হবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে। এদিন তিনি ঢাকায় যানবাহন চলাচলের সুবিধার জন্য খিলগাঁও ফ্লাইওভারের লুপ খুলে দেন এবং হাতিরঝিল প্রকল্পের সাউথ ইউ লুপের ফলক উন্মোচন করেন। তবে এর বাইরেও যোগাযোগ খাতের বড় দুই প্রকল্প বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে রবিবার। একটি হলো মেট্রোরেল এবং অন্যটি বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জাপান সফরকালীন অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে আগামীতে বুলেট ট্রেন এবং পাতাল রেল নির্মাণের কথাও বলেছেন, যা এক কথায় দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটাতে সক্ষম হবে।

বিশ্বের সবদেশেই রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত গতিসম্পন্ন, সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ী সর্বোপরি আরামদায়ক ও নিরাপদ। তবে বিএনপি-জামায়াত জোট বিশ্বব্যাংকসহ দাতাগোষ্ঠীর পরামর্শে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সঙ্কুচিত করে ফেলেছিল। দেশের বিভিন্ন রুটের রেল সার্ভিস তারা বন্ধ করে দেয়, এমনকি রেল লাইন পর্যন্ত সরিয়ে ফেলে। ১৯৯৬ সালে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার রেল পুনর্গঠনে উদ্যোগী হয়। তারা ভারতের ঋণ সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে নতুন রেলপথ নির্মাণসহ নতুন কোচ, বগি ও ইঞ্জিন সংগ্রহে মনোনিবেশ করে। গত কয়েক বছরে ৬২ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে রেলওয়ের ৫৫টি নতুন প্রকল্প এবং ৪২ হাজার ৬০১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৫টি সংশোধিত প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয় ও হচ্ছে। এর আওতায় রেলের বন্ধ শাখা লাইন চালু, ডবল লাইন নির্মাণ, নতুন রেললাইন স্থাপনের পাশাপাশি রেলওয়ের জন্য জনবল বৃদ্ধিতেও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশকে ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

এর পাশাপাশি রাজধানীর অসহনীয় যানজটসহ পরিবেশ দূষণ কমিয়ে আনতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে মেট্রোরেল ও বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্প বাস্তবায়নে। এর আওতায় উত্তরা থেকে রাজধানীর ৫টি বিভিন্ন রুটে মেট্রোরেল এবং গাজীপুর টার্মিনাল থেকে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর পর্যন্ত বিআরটি নির্মাণ করা হবে। এর ফলে কম সময়ে বেশি যাত্রী দ্রুত পারাপার, সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব ও আরামদায়ক যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ২০২০ সালের মধ্যে মেট্রোরেল ও বিআরটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হতে পারে বলে জানা যায়। মেট্রোরেলে উত্তরা থেকে শাপলা চত্বর পর্যন্ত ১৬টি স্টেশন পাড়ি দিয়ে আসতে সময় লাগবে ৩৭ মিনিট। অন্যদিকে গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ বিআরটি রুটের ১৫টি স্টেশনে নির্দিষ্ট লেনে চলবে ১২০টি আর্টিকুলেটেড বাস। এতে বর্তমানের দুর্বিষহ যানজট, পরিবেশ বিপর্যয় নিরসনসহ যাত্রীসাধারণের দুর্ভোগ কমবে।

২০৪১ সালের মধ্যে নানামুখী উন্নয়নের মধ্য দিয়ে উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে বুলেট ট্রেন, পাতাল রেল নির্মাণও অত্যাবশ্যক। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের চিন্তাভাবনা চলছে। স্বপ্ন ও সদিচ্ছা থাকলে আমরাও বুলেট ট্রেন ও পাতাল রেল নির্মাণের পথে অগ্রসর হতে পারব অচিরেই।