মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৩ জুন ২০১৭, ৯ আষাঢ় ১৪২৪, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

সূর্যের বুকে আজ ঘটবে বিরল মহাজাগতিক ঘটনা

প্রকাশিত : ৯ মে ২০১৬
সূর্যের বুকে আজ ঘটবে বিরল মহাজাগতিক ঘটনা

শাহীন রহমান ॥ সূর্যের বুকে বিরল মহাজাগতিক ঘটনা ঘটতে চলেছে আজ। বিকেল ৫টা ১২ মিনিট ১৯ সেকেন্ডে সূর্যের বুক চিড়ে অতিক্রম করবে একটি কালোবিন্দু। যাকে জ্যোতির্বিদরা বলছেন বুধ গ্রহের ট্রানজিট। অর্থাৎ বুধ গ্রহের ছায়া সূর্যের ওপর দিয়ে অতিক্রম করে চলে যাবে। আর এটি বাংলাদেশ থেকে যে কেউ প্রত্যক্ষ করতে পারবেন। তবে খালি চোখে নয়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন খালি চোখে এই দৃশ্য দেখা সম্ভব হবে না। মহাজাগতিক দৃশ্য দেখার জন্য উন্নতমানের দূরবীন বা টেলিস্কোপের সামনে সৌর ছাঁকনি বা সোলার ফিল্টার লাগিয়ে এই দৃশ্য দেখা যেতে পারে।

বাংলাদেশ এ্যাস্ট্রনোমিক্যাল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক এফআর সরকার বলেন, আজ ৫টা ১২ মিনিটে এ ঘটনা শুরু হলে মূলত তা প্রত্যক্ষ করা যাবে সাড়ে ৫টা থেকে সূর্য ডোবার আগ পর্যন্ত। তবে কেউ ইচ্ছা করলে এক্স-রে ফিল্ম ব্যবহার করে এটি প্রত্যক্ষ করতে পারবেন। কালো পলিমার বা ১৪ নং শেডের ওয়েল্ডিং কাঁচ দিয়ে তৈরি ফিল্টারের ভেতর দিয়েও দৃশ্যটি দেখা যেতে পারে। এর বাইরে খালি চোখে দেখা যাবে না। তবে তিনি জানান অস্ত যাওয়ার সময় সূর্য যখন লাল হয়ে যাবে তখন কেই ইচ্ছা করলে খালি চোখে এটি প্রত্যক্ষ করতে পারবেন। সূর্য ডুবে যাওয়ার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে এটি ভালভাবেই প্রত্যক্ষ করা যাবে এই মহাজাগতিক ঘটনা। যদিও রাত ১২টা ৩৯ মিনিট ধরে চলবে এ ঘটনা। সে সময়ে রাত থাকায় প্রত্যক্ষ করা যাবে না।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন সূর্যের ওপর বুধের ছায়ার (ট্রানজিট) অতিক্রমণ ঘটতে সময় লাগবে ৭ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। বাংলাদেশ থেকে বিকেল ৫টা ১২ মিনিটে এটি শুরু হবে। শেষ হবে রাত ১২টা ৩৯ মিনিটের ১১ সেকেন্ডর সময়। সূর্যাস্তের পর ভারতীয উপমহাদেশ থেকে এ ঘটন আর প্রত্যক্ষ করা যাবে না। তবে কেউ যদি এই মহাজাগতিক ঘটনা দেখতে ব্যর্থ হন তার জন্য এ ধরনের দৃশ্য দেখতে অপেক্ষা করতে হবে ১৬ বছর। ২০৩২ সালের ১৩ নবেম্বর এ ঘটনা ঘটনা পুনরায় ঘটবে। এই ঘটনা এতটাই বিরল যে, শতাব্দীতে মোটে ১৩ থেকে ১৪ বার এটা হয়ে থাকে। মে আর নবেম্বর মাসেই ঘটে এই মহাজগতিক ঘটনা বলে তারা উল্লেখ করেছেন। শেষবার এটি দেখা গিয়েছিল ২০০৬ সালে। গত ১০ বছর পর এই প্রথম আজ আবার এ ধরনের ঘটনা ঘটেতে যাচ্ছে। যদি বিজ্ঞানীরা জানিয়েছে ২০১৯ সালে ১১ নবেম্বর এ ধরনের ঘটনা আবার ঘটবে। তবে রাতে বেলায় হওয়ার কারণে বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে এটি তখন প্রত্যক্ষ করা যাবে না।

তারা জানিয়েছে সূর্যের বুক চিরে বুধ গ্রহের অতিক্রমণ মহাজগতের একটি অভিনব বিরল দৃশ্য। এদিন বুধ নিজের কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে পৃথিবী এবং সূর্যের ঠিক মাঝখানে চলে আসবে। দেখে মনে হবে ঠিক যেন সূর্যের বুক চিড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে সৌরজগতের এই ক্ষুদ্র গ্রহটি। তাদের মতে পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যে একমাত্র শুক্র ও বুধ গ্রহই নিজ কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে চলে আসতে পারে। তাই পৃথিবী থেকে শুধু বুধ ও শুক্রের ট্রানজিটই দেখা সম্ভব। তবে দৃশ্য বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় জাপানসহ পূর্ব এশিয়া, এ্যান্টার্কটিকা এই সমস্ত জায়গা থেকে বুধের এই ট্রানজিট দেখা যাবে না। তবে ইউরোপ, ভারতসহ মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা, প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর, ভারত মহাসাগর, উত্তর ও দক্ষিণ মেরু থেকে স্পষ্টভাবেই দেখা যাবে এই ট্রানজিট।

জ্যোর্তিবিজ্ঞানীরা বলছেন সূর্যের তুলনায় বুধ আয়তনে অনেক ছোট। তাই সূর্যের গায়ে একটি কালো দাগের মতো দেখাবে বুধকে। বুধ সৌরজগতের প্রথম এবং ক্ষুদ্রতম ও সূর্যের সবচেয়ে নিকটতম গ্রহ। ইংরেজীতে বুধকে বলা হয় মার্কারি। রোমানরা গ্রহটির এই নামকরণ করেছিল তাদের ক্ষীপ্রগতিসম্পন্ন বার্তাবাহক দেবতা মার্কিউরির নামানুসারে। পৌরাণিক কাহিনীতে মার্কারি (বুধ) হলো জুপিটার (বৃহস্পতি) ও মেইয়ার পুত্র। গোধূলিবেলায় আকাশে বুধকে অতি দ্রুতগতিতে চলতে দেখা যায়। সম্ভবত এই কারণেই এর এই নাম দেয়া হয়েছে। বুধের কোন উপগ্রহ নেই। এটি সূর্যকে প্রতি ৮৮ দিনে একবার প্রদক্ষিণ করে।

বুধের মতে শুক্র গ্রহও পৃথিবীর সূর্যের মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করে। এর আগে ২০১২ সালে শুক্র গ্রহের সূর্যের ওপর দিয়ে এ ধরনের অতিক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। তারও আগে ২০০৪ সালে শুক্রের অতিক্রমের ঘটনা ঘটে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছে সূর্যের সামনে দিয়ে নির্দিষ্ট সময় পরপর বুধের মতো শুক্র গ্রহও তার কক্ষপথ পরিভ্রমণ করে। পরিভ্রমণ করার সময় যখন পৃথিবী, বুধ, শুক্র ও সূর্য এক সরলরেখায় চলে আসে তখনই শুক্রের ট্রানজিট হয়।

প্রকাশিত : ৯ মে ২০১৬

০৯/০৫/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: