১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

স্মৃতি সংরক্ষিত হোক


মহান জাতির মহান সন্তান মুক্তিযোদ্ধারা আগামী ৩০-৪০ বছর পরে হয়ত আর কেউ জীবিত থাকবে না, কারণ তারা আজ বার্ধক্যের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে মাতৃভূমির দুর্নিবার আকর্ষণে অকুতোভয় বাঙালী সন্তানেরা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করে মাতৃভূমি বাংলাদেশের জন্ম দেয়। মুক্তিযোদ্ধারা তাদের জীবদ্দশায় কিছু পাক বা না পাক, নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা বলে গর্ববোধ করে। ইতোপূর্বে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষীয় সরকার মুক্তি যোদ্ধাদের জন্য সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা করেছেন, মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের ব্যবস্থা করেছেন, এটাই বা কম কি! পল্লী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের পারিবারিকভাবে যেখানে সেখানে দাফন করা হয় যার ফলে কয়েক মাসেই কবরের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়।

ইতোপূর্বে উপজেলা পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আলাদা কবরস্থান নির্মাণের প্রস্তাব দিয়ে লেখালেখি হয়েছে। স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার কবর বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ইতিহাসের প্রয়োজনে মুক্তিযোদ্ধাদের কবর সংরক্ষণ, সমাধি অথবা স্মৃতিসৌধ নির্মাণ সময়ের দাবি। ২৩ বছর আন্দোলন, সংগ্রামের সফল বাংলাদেশ, এমতাবস্থায় জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি রক্ষার্থে প্রত্যেক উপজেলা সদরে ২৩ ফুট উঁচু মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন রাখছি। বিষয়টির প্রতি মুক্তিযোদ্ধা, মহামান্য রাষ্ট্রপতির সুদৃষ্টি কামনা করছি।

মুর্শেদ উদ্দিন বাদশা মিয়া

চকবাজার, ঢাকা

বিজয়ের মাসে

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সারাদেশের মানুষ ধীরে ধীরে ধাবিত হচ্ছে রাজধানী ঢাকার দিকে। একের পর এক অঞ্চল হানাদারমুক্ত হওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধারা আনন্দ উল্লাস করে রাজধানীর দিকে ধাবিত হচ্ছে।

চারদিকে বিজয় কেতন উড়ছে। স্বাধীনতা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। গ্রামে-গঞ্জে থেকে আমরা রেডিওতে স্বাধীন বাংলা বেতারের বিভিন্ন গান শুনছি আর চারদিকের গুঞ্জন যে, দেশ স্বাধীন হয়ে যাচ্ছে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দেশ পাক হানাদারমুক্ত হচ্ছে। এই কথা শুনে হৃদয়ে যেন রক্তক্ষরণ শুরু হলো আনন্দের। মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু তখন পাকিদের কারাগারে বন্দী, অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। দেশ হানাদারমুক্ত। পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর ৯৩,০০০ সৈন্য আত্মসমর্পণের মাধ্যমে নিয়াজি দলিলে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু দুঃখ হয় আজও পাকিরা তাদের সেই অপকর্মের দায় স্বীকার করছে না। বিজয়ের এই মাসে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী বঙ্গবন্ধু মুজিবের কথা বেশি বেশি মনে পড়ে।

রণজিত মজুমদার

সোনাগাজী, ফেনী

মুকুলের চরমপত্র

এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয় বাংলা। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে বাঙালী জাতি এক কাতারে মিলিত হয়ে পাকসেনা, হানাদার বাহিনী, রাজাকার আলবদর বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। প্রখ্যাত সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এমআর আখতার মুকুলের চরমপত্র শুনে সর্বস্তরের মানুষ নানানভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসাহ ও সহযোগিতাদান করতে থাকে। চরমপত্র শুনে বাঙালীর মনের শক্তি ও মনোবল শতগুণ বৃদ্ধি পায়। প্রতি দিন শেষে সন্ধ্যায় পরে যে বাড়িতে রেডিও বা ট্রানজিস্টর থাকত সে বাড়িতে শত শত মানুষ তথা নর-নারী শিশু বৃদ্ধা একেবারে চুপচাপ বসে গভীর মনোযোগের সঙ্গে সেই ঐতিহাসিক চরমপত্র শুনত।

সেøাগান দিত, জয় বাংলা। আমার নেতা-তোমার নেতা, শেখ মুজিব-শেখ মুজিব। বকশি বাজারের ছক্কু মিয়ার কেচকিতে ধরা খেয়ে ইয়াহিয়া, ভুট্টো, নিয়াজীর পা ভেঙ্গে মাটিতে গড়াতে গড়াতে চিৎকার শেষে জিব বের হয়ে অক্কা পেয়ে খতম অইয়া গেল।

গোয়ালী মান্দ্রা, সৈয়দপুর যুদ্ধ শেষে ১৫০ জন কুকুর ছানা পাক সেনা ও ২৭ জন রাজাকার-আলবদর, মীরজাফর পুত্র মীরনের সৎভাই খতম অইয়া গেছে। শ্রীনগরে খালের পানিতে চুবাইয়া ১৩ জন পাক সেনা খতম শেষে বাকিরা ধরা খেয়ে বাঘের খোঁয়াড়ে বন্দী আছে। এমআর আখতার মুকুলের চরমপত্র উদ্দেশ্যমূলকভাবে এখন আর কোন মিয়িডা বা বেতারে প্রকাশ করে শোনানো হয় না। পাকি সরকারের সঙ্গে শেখ মুজিবের আলোচনা, বঙ্গবন্ধুকে আটক করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া, মুক্তি শেষে পালাম বিমানবন্দরে ভিভিগিরি ও ইন্দিরা গান্ধীর উপস্থিতিতে ভাষণদানÑ এসব দৃশ্য বাংলার মানুষ এখন আর দেখতে পায় না।

বিজয় দিবস, মুজিব-ইন্দিরা, এমএজি ওসমানী, অরোরা, ১১ সেক্টর কমান্ডার, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, এমআর আখতার মুকুলÑ এসব পরম শ্রদ্ধেয় মানুষদের নিয়ে বেশি বেশি লিখতে হবে।

মেছের আলী

কয়কীর্তন, শ্রীনগর