১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বরিশাল নগরীর গভীর নলকূপে পানি উঠছে না


খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল ॥ নদীবেষ্টিত দক্ষিণাঞ্চলীয় বিভাগীয় শহর বরিশালে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। যত্রতত্র গভীর নলকূপ বসানো এবং খাল ভরাটের কারণেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। নগরবাসীর চাহিদার অর্ধেক পানিও যখন সরবারহ করা হচ্ছে না তখন বেশকিছু নলকূপে পানি না ওঠায় চরম দুর্ভোগের কবলে পড়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। চলমান সঙ্কট নিরসন ও ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় আগামী বছর থেকে নগরীতে ব্যক্তিগত যন্ত্রচালিত নলকূপ বসানো নিষিদ্ধ ও নতুন ৬টি পানির পাম্প চালুর কথা জানিয়েছেন, নগর ভবন কর্তৃপক্ষ।

সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, দ্রুত নগরায়নের ফলে নগরীতে ফ্ল্যাট বাড়ি, সরকারী ও বেসরকারী অফিস-আদালতের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে পানির চাহিদা। ভবন মালিকরা ব্যক্তিগতভাবে নলকূপ বসিয়ে পাম্পের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করতে থাকেন। এভাবে অসংখ্য নলকূপের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করায় এবং জলবায়ুর পরিবর্তনে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় পানির স্তর নিচে নেমেছে। বর্তমানে অনেক বহুতল ভবনের মালিক যান্ত্রিক নলকূপ বসিয়ে পাম্প দিয়েও পানি তুলতে পারছেন না।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত এক দশকে নগরীর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ১৬ থেকে ২০ ফুট নিচে নেমে গেছে। নলকূপ বসানোর কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার জাকির হোসেন বলেন, দুই বছর আগে নগরীতে গভীর নলকূপ বসানোর জন্য সাড়ে ৮শ’ থেকে সাড়ে ৯শ’ ফুট নিচে গেলে মিঠা পানি পাওয়া যেত; কিন্তু এখন পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও সুপেয় পানির প্রয়োজনে এক হাজার ফুট পর্যন্ত গভীরে যেতে হয়। বর্তমানে নগরীর প্রাণকেন্দ্র সদর রোড, নথুল্লাবাদ, নাজিরমহল্লা, আমানতগঞ্জ, ভাটিখানা ও জিলা স্কুলের মোড়সহ অনেক স্থানেই পানির স্তর পাওয়া যাচ্ছে না। এসব এলাকায় পুরনো আমলে বসানো গভীর নলকূপে পানি উঠছে না। নগরীর পুরনো এলাকার চেয়ে বর্ধিত এলাকায় পানির সঙ্কট বেশি। বর্ধিত নগরীর দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় এখন পর্যন্ত পানি সরবরাহের পাইপ লাইন স্থাপন করা হয়নি। তারা সকলেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে যন্ত্রচালিত নলকূপে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল। সিটি কর্পোরেশনের পানি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী মনিরুল ইসলাম স্বপন জানান, একটি গভীর নলকূপ থেকে অপর যান্ত্রিক নলকূপ কমপক্ষে এক হাজার ফুট দূরত্ব রেখে বসাতে হয়। অথচ নিয়ম ভেঙে মাত্র ২০Ñ৩০ ফুট ব্যবধানে নগরীর যত্রতত্র একাধিক যান্ত্রিক নলকূপ বসানো হচ্ছে। সিটি কর্পোরেশনের অধীন ফ্ল্যাট বাড়ি থেকে শুরু করে ছোট-বড় ঘর এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অফিস আদালত রয়েছে ৪০ হাজার। এর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার বাসা-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং অফিসে গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। বিসিসির জরিপ অনুযায়ী, নগরীতে বসবাসরত ৫ লক্ষাধিক মানুষের দৈনিক পানির চাহিদা ১ কোটি ২০ লাখ গ্যালন; কিন্তু কর্পোরেশনের সচল ২৭টি পাম্প থেকে প্রতিদিন মাত্র ৪৭ লাখ গ্যালন পানি উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে। চাহিদার বিপরীতে ঘাটতি থাকছে ৭৩ লাখ গ্যালন। বিদ্যুত বিভ্রাটের কারণে মাঝে-মধ্যে পানি সঙ্কট আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। সূত্রে আরও জানা গেছে, নগরবাসীর পানি সঙ্কট নিরসনে খুব শীঘ্রই আরও ৫টি পাম্প চালু করা হবে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম সহিদুল ইসলাম জানান, পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাওয়ার কারণে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের ওপর নির্ভরতা কমাতে সারফেজ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। নগরবাসীর পানি সঙ্কট নিরসনে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে কীর্তনখোলা নদীর পাড়ের দুইটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের পথে।