মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১ আশ্বিন ১৪২৪, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

খুলনা শিপইয়ার্ডে বড় যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ ॥ ৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর উদ্বো

প্রকাশিত : ১ সেপ্টেম্বর ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস ॥ শিল্প বাণিজ্যে খুলনা শিপইয়ার্ড মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। সর্বোচ্চ কর দাতার সম্মানে ভূষিত এ শিল্প প্রতিষ্ঠানটি একের পর এক সফলতা অর্জন করে চলেছে। দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে নৌবাহিনীর পাঁচটি পেট্রোল ক্রাফট (যুদ্ধজাহাজ) নির্মাণ সম্পন্ন করার পর এবার নৌবাহিনীর জন্য বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক মানের আরও দুটি যুদ্ধজাহাজ (লার্জ পেট্রোল ক্রাফট) নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। দেশের মাটিতে বড় যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের উদ্যোগ এটাই প্রথম। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দুটি যুদ্ধজাহাজের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৯৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার লোকসানের ভারে ডুবতে বসা খুলনা শিপইয়ার্ডকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং ওই বছরের ৩ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে খুলনা শিপইয়ার্ডের সকল দায় দায়িত্ব নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। নৌবাহিনীর দক্ষ ব্যবস্থাপনায় খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। এটি এখন একটি লাভজনক শিল্প প্রতিষ্ঠান। আন্তর্জাতিক মানের জাহাজ নির্মাণ, বিভিন্ন ধরনের নৌযান, পন্টুন, ড্রেজার, ফুটওভার, শিল্প প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রাংশ তৈরি ও মেরামতে পারদর্শী এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটি এখন ছোট-বড় সকল সাইজের অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে সক্ষমতা অর্জন করেছে।

সূত্র জানায়, খুলনা শিপইয়ার্ডের দায়িত্ব গ্রহণের পর নৌবাহিনীর স্বপ্ন এখানে যুদ্ধজাহাজ তৈরি করার। প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা অনেক গবেষণা ও পরিকল্পনা করে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সে অনুযায়ী ২০১০ সালের মে মাসে খুলনা শিপইয়ার্ড ও নৌবাহিনীর মধ্যে ৫টি পেট্রোল ক্রাফট (যুদ্ধজাহাজ) তৈরির চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ২০১১ সালের ৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই ৫টি যুদ্ধজাহাজের (পেট্রোল ক্রাফট) নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন। সফলভাবে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার পর পর্যায়ক্রমে এ যুদ্ধজাহাজগুলো ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ৫টি যুদ্ধজাহাজ তৈরির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে খুলনা শিপইয়ার্ড এবার নৌবাহিনীর জন্য বড় আকারের অত্যাধুনিক দুটি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করতে যাচ্ছে। সশস্ত্র বাহিনীতে এগুলো লার্জ পেট্রোল ক্রাফট বা এলপিসি নামে পরিচিত। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই যুদ্ধজাহাজ দুটির নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করবেন।

শিপইয়ার্ড সূত্রে জানা গেছে, আর্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ শিপ বিল্ডিংয়ের ইতিহাসে এই যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ প্রকল্পটি সবচেয়ে বড়। এর মাধ্যমে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে খুলনা শিপইয়ার্ড তথা বাংলাদেশ। সূত্র জানায়, বড় আকারের এই যুদ্ধজাহাজ দুটি নির্মাণের জন্য গত বছরের ৩০ জুন নৌবাহিনীর সঙ্গে খুলনা শিপইয়ার্ডেও চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি জাহাজের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। এর প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৬৪ দশমিক ২০ মিটার এবং প্রস্থ ৯ মিটার। এর গভীরতা হবে ৪ মিটার। সমুদ্রপথে ঘণ্টায় ২৫ নটিক্যাল মাইল বেগে চলবে। জাহাজে ৭০ জন একসঙ্গে থাকতে পারবেন। জাহাজের পেট ও ইঞ্জিনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বিদেশ থেকে আমদানি করা হবে। শিপইয়ার্ডের ২৫০ শ্রমিক ও প্রকৌশলী জাহাজ নির্মাণ কাজে অংশ নিচ্ছেন। চীনের যুদ্ধজাহাজ বিশেষজ্ঞরা এতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিচ্ছেন। শুরুর দুই বছরের মধ্যে যুদ্ধজাহাজের নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

খুলনা শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কমডোর এস ইরশাদ আহমেদ জানান, খুলনা শিপইয়ার্ড দেশের একটি অগ্রগামী শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিনিয়ত নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের শিল্পবান্ধব নীতিমালা, বিভিন্ন সরকারী ও স্বায়ত্ত-শাসিত সংস্থার আন্তরিক সহযোগিতা, বাজারমুখী সক্রিয় কার্যক্রম, প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নির্ধারণ ও সর্বোপরি দক্ষ শ্রমশক্তি এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আজ আমরা আমাদের অবস্থানকে ক্রমাগত সুদৃঢ় করতে সক্ষম হয়েছি।

প্রসঙ্গত, খুলনা মহানগরীর দক্ষিণ দিকে রূপসা নদীর তীরে প্রায় ৬৯ একর জমির উপর খুলনা শিপইয়ার্ড অবস্থিত। ১৯৫৪ সালে শিপইয়ার্ড স্থাপনের কাজ শুরু“ এবং ১৯৫৭ সালে বিভিন্ন প্রকার নৌযান ও ভারি প্রকৌশল সরঞ্জাম তৈরি ও মেরামতের মধ্য দিয়ে খুলনা শিপইয়ার্ডের যাত্রা শুরু হয়।

প্রকাশিত : ১ সেপ্টেম্বর ২০১৫

০১/০৯/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ:
রোহিঙ্গা সমস্যার সৃষ্টি মিয়ানমারের ॥ সমাধান ওদের হাতে || বাবার ফেরার অপেক্ষায় পিতৃহারা অবোধ রোহিঙ্গা শিশুরা || বছরে রফতানি আয় বাড়ছে ৩ থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার || চালের বাজারে স্বস্তি প্রতিদিন দাম কমছে || বিদ্যুতের পাইকারি দর ১১.৭৮ ভাগ বৃদ্ধির সুপারিশ || মিয়ানমারে গণহত্যা বন্ধ নির্ভর করছে নিরাপত্তা পরিষদের ওপর || রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বাস্থ্য সেবায় ২৫ কোটি ডলার চেয়েছে বাংলাদেশ || আরও মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক || অপকৌশলে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা, বিপুল অর্থ আদায় || জেলে মাদক ও মোবাইল ফোন ব্যবহার ॥ সারাদেশে দুই শতাধিক কারারক্ষী গোয়েন্দা নজরদারিতে ||