ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

সূর্যকুমারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা

অশ্বিনকে ছাড়িয়ে সেরা আর্শদিপ

রুমেল খান

প্রকাশিত: ০০:২৮, ১৪ জুন ২০২৪

অশ্বিনকে ছাড়িয়ে সেরা আর্শদিপ

দুর্দান্ত বোলিংয়ে রেকর্ডের পাতায় নাম লিখিয়েছেন আর্শদিপ সিং (মাঝে)

বল হাতে একজন গড়েছেন রেকর্ড। হয়েছেন ম্যাচসেরাও। ব্যাট হাতে আরেকজন খেলেছেন পরিস্থিতি অনুযায়ী সাবধানী ও দায়িত্বশীল হার না-মানা ইনিংস। যার সুবাদে নিজ দলের অধিনায়কের কাছে পেয়েছেন অকুণ্ঠ প্রশংসা। যাদের কথা বলা হচ্ছে, তারা হলেন আর্শদিপ সিং এবং সূর্যকুমার যাদব। ভারত ক্রিকেট দলের অপরিহার্য দুই সেনানী।

তাদের গোলকবাজি-উইলোবাজির ওপর ভর করেই বুধবার আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপে ‘এ’ গ্রুপ থেকে সবার আগে ‘সুপার এইট’ পর্বে নাম লিখিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ইস্ট মিডোর নাসাউ কান্ট্রি ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে তারা ১০ বল হাতে রেখেই স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে হারায় ৭ উইকেটে।

এই ম্যাচের আগে দুদলই ছিল অপরাজিত। ফলে পরস্পরকে মোকাবিলার পর এক দলকে হারের স্বাদ পেতেই হতো। নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে এটা ভারতের তৃতীয় জয়। পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে তারা শীর্ষে থেকে সুপার এইটে খেলা নিশ্চিত করে ফেলে। পক্ষান্তরে সমান ম্যাচে এটা যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম হার। তারপরও আগের দুই জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে দুইয়ে। সুপার এইটে নাম লেখানোর ক্ষেত্রে বাকি তিন দলের (পাকিস্তান, কানাডা ও আয়ারল্যান্ড) চেয়ে অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে আছে তারা। 
টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে সেরা বোলিংয়ের মালিক এখন অর্শ্বদীপের। ২৫ বছর বয়সী ন্যাটা এই পেসার ম্যাচের  প্রথম বলেই উইকেট শিকার করেন। এরপর ওভারের শেষ বলে আরেকটি। পরে আরও দুটি উইকেট কব্জা করেন। আর এতেই এই পেসারের নাম উঠে যায় রেকর্ডের পাতায়।

যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৪ ওভার বল করে কোনো মেডেন না পেলেও মাত্র ৯ রানের খরচায় ৪ উইকেট শিকার করে তাক লাগিয়ে দেন আর্শদিপ। টি২০ বিশ্বকাপের ম্যাচে ভারতীয় কোনো বোলারের সেরা বোলিং ফিগার এটিই। এক্ষেত্রে আর্শদিপ যাকে টপকে যান, তিনি হলেন অফ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন।

২০১৪ আসরে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১১ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। ম্যাচের প্রথম বলেই  শায়ান জাহাঙ্গীরকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন আর্শদিপ। টি২০ বিশ্বকাপে ম্যাচের প্রথম বলে উইকেট নেওয়া চতুর্থ বোলার তিনি। ২০১৪ আসরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের মাশরাফি মুর্তজা, একই আসরে হংকংয়ের বিপক্ষে আফগানিস্তানের শাপুর জাদরান, নামিবিয়ার রুবেন ট্রাম্পেলম্যান ২০২১ আসরে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে এবং চলতি আসরে ওমানের বিপক্ষে একই কীর্তি গড়েছিলেন।
টি২০ ফরম্যাটে এটি ক্যারিয়ার সেরা বোলিং অর্শ্বদীপের। এর আগে ২০২২ সালে নেপিয়ারে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৭ রানে ৪ উইকেট ছিল আগের সেরা। মূলত তার দুর্দান্ত গোলকবাজিতেই ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১১০ রানের বেশি স্কোরবোর্ডে জমা করতে পারেনি মার্কিন বাহিনী। ১১১ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে নিজেদের ব্যাটিং ইনিংসে যুক্তরাষ্ট্রের মতোই শুরুতেই ধাক্কা খায় টিম ইন্ডিয়া।

ওপেনার বিরাট কোহলিকে (০) হারিয়ে ফেলে তারা। পরের ওভারেই আরেক ওপেনার ও অধিনায়ক রোহিত শর্মাও (৩) পথ ধরেন সাজঘরের। হাল ধরেন ঋশভ পন্ত ও সূর্যকুমার যাদব। 
দলীয় রান ৫০ হওয়ার আগেই যখন ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে ছিল ভারত, তখনই নিজেকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করেন সূর্যকুমার। যেখানে তিনি আগ্রাসী ব্যাটার হিসেবেই বেশি পরিচিত, সেখানে সূর্যকুমার খেলেন সতর্ক-হিসেবী ও দায়িত্বশীল এক ইনিংস।

কেননা পিচটি ছিল মূলত বোলিং পিচ, ব্যাটারদের জন্য যেন বধ্যভূমি! দলকে জিতিয়ে ফেরা সূর্যকুমারের এমন উইলোবাজিতে রীতিমতো মুগ্ধ ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা, ‘তিনি (সূর্যকুমার) দেখিয়েছেন, ভিন্ন ঘরানার ব্যাটিংয়ের সামর্থ্যও তার আছে। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের কাছ থেকে আপনি এটাই প্রত্যাশা করবেন। পরিস্থিতি অনুযায়ী মাঠে নেমে ভিন্নভাবে ব্যাটিং করা, সেটাই করেছে সূর্য। দুবের সঙ্গে তার জুটিটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শেষ পর্যন্ত আমাদের জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেওয়া দারুণ প্রচেষ্টা ছিল।’

×