ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯

উৎসবের মাঝে আঘাতে কপাল ফাটল ঋতুপর্ণার

মোঃ মামুন রশীদ

প্রকাশিত: ০১:২৪, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২

উৎসবের মাঝে আঘাতে কপাল ফাটল ঋতুপর্ণার

কপাল ফাটল ঋতুপর্ণার

সাফ মহিলা ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জিতে বুধবার দেশে ফেরে বাংলাদেশের মেয়েরা। মহিলা ফুটবল দলকে বিমানবন্দরে দেশের মানুষ বরণ করেন তাদের ফুলেল শুভেচ্ছায়। এরপর ছাদখোলা বাসে গর্বিত বিজয়িনীদের বিমানবন্দর থেকে নেয়া হয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনে। সাধারণ জনগণের সঙ্গেই কোন ভিআইপি প্রটোকল ছাড়া তাদের পুরো রাস্তায় বহন করে বিআরটিসির ডাবল ডেকার বাসকে বিশেষভাবে ছাদখোলা বাসে পরিণত করে। তবে এর মাঝেই ঘটে যায় একটি  দুঃখজনক ঘটনা- এ যেন হরিষে বিষাদ। অন্যতম নির্ভরযোগ্য ফরোয়ার্ড ঋতুপর্ণা চাকমা কপালে আঘাত পান উৎসুক জনগণের অভিবাদন গ্রহণ করতে করতে যখন ছাদখোলা বাসে করে যাচ্ছিলেন। ফ্লাইওভারে লাগানো বিলবোর্ডের কাঠের কোনা তার কপালে লাগার পরে কেটে যায়।
তাৎক্ষণিকভাবে ঋতুপর্ণাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেয়া হলে আহত স্থানে ৩টি সেলাই দেয়া হয়। এরপর অবশ্য এ্যাম্বুলেন্সে করেই তিনি বাফুফে ভবনে আসেন। বাংলাদেশ ফুটবল দলের ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সোমবার নেপালের দশরথ স্টেডিয়ামে শক্তিশালী ও স্বাগতিক নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সাফ মহিলা ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয় করে বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল দল। এরপর থেকেই আনন্দের জোয়ারে ভাসতে থাকে গোটা দেশ। এই ফাইনালের আগে দলের অন্যতম তারকা ফুটবলার সানজিদা আক্তার সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘ছাদখোলা চ্যাম্পিয়ন বাসে ট্রফি নিয়ে না দাঁড়ালেও চলবে, সমাজের টিপ্পনীকে একপাশে রেখে যে মানুষ আমাদের সবুজ ঘাস ছোঁয়াতে সাহায্য করেছে, তাদের জন্য এটি জিততে চাই। যারা আমাদের এই স্বপ্নকে আলিঙ্গন করতে উৎসুক হয়ে আছেন, সেসব স্বপ্ন সারথিদের জন্য এটা আমরা জিততে চাই।’

এই কথাটির রেশ ধরেই বাংলাদেশের মেয়েরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর দেশজুড়ে দাবি ওঠে বিজয়িনীদের বরণে ছাদখোলা বাসের ব্যবস্থা করতে। অবশেষে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বিআরটিসির ডাবল ডেকারের ছাদ কেটে বিশেষভাবে তৈরি করে বাস। সাবিনা খাতুন, সানজিদা, ঋতুপর্ণারা এই ছাদখোলা বাসে করে বিমানবন্দর থেকে এগোতে থাকেন বাফুফে ভবনের দিকে। সাড়ি সাড়ি জনতা রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে তাদের স্বাগত জানায়, উৎফুল্ল মানুষের অভিবাদনের জবাব দেন গর্বিত মহিলা ফুটবলাররা। বিজয় মিছিলও চলতে থাকে।
তবে রেডিসন ব্লু হোটেল পেরিয়ে আসতেই ঘটে বিপত্তি। হোটেল পেরিয়ে ফ্লাইওভারের কাছে আসতেই একটি বিলবোর্ডের কোনা লাগে ঋতুপর্ণার কপালে। কেটে গিয়ে রক্ত ঝরতে থাকলে ক্ষণিক সময়ের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায় উৎসব। তাৎক্ষণিকভাবে বাস থামিয়ে ফায়ার সার্ভিসের এ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিএমএইচ নেয়া হয়। তার সঙ্গে ছিলেন সতীর্থ তহুরা খাতুন। সেখানে চিকিৎসকরা তার কপালে ৩টি সেলাই দেন।এরপর ঋতুপর্ণাকে ছেড়ে দেন তারা এবং তিনি তহুরার সঙ্গে এ্যাম্বুলেন্সে করেই বাফুফে ভবনে আসেন। এ বিষয়ে আমিরুল বাবু বলেন, ‘সে আঘাত পেয়েছিল।
তবে ডাক্তাররা তাকে দেখে সেলাই দিয়েছে। তেমন বড় কোন সমস্যা না থাকার কারণে ছেড়ে দিয়েছেন তাকে। বাফুফের নিজস্ব ডাক্তারই তার পরবর্তী চিকিৎসা চালাবেন।’ তহুরাও জানান হাসপাতাল থেকে বাফুফে যাওয়ার পথে বসে থেকেই পুরো রাস্তা এসেছেন ঋতুপর্ণা।