ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯

জাপানের বিপক্ষে আরেক কঠিন পরীক্ষা আজ কৃষ্ণাদের

প্রকাশিত: ০৬:৪৯, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭

জাপানের বিপক্ষে আরেক কঠিন পরীক্ষা আজ কৃষ্ণাদের

রুমেল খান ॥ এএফসি অ-১৬ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপের মূলপর্বে নিজেদের প্রথম গ্রুপ ম্যাচে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছে দুঃস্বপ্নের মতো। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়ার কাছে তারা শোচনীয়ভাবে হেরেছে ০-৯ গোলে। দ্বিতীয় ম্যাচে আজ বৃহস্পতিবার তারা মুখোমুখি হবে জাপানের। ‘উত্তর কোরিয়া খুবই শক্তিশালী দল। সবধরনের বয়সভিত্তিক চ্যাম্পিয়নশিপেই তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। সোমবারের ম্যাচে বাংলাদেশের কিছু খেলোয়াড় তাদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারেনি। তাছাড়া গোলরক্ষক বেশকিছু ভুল করেছে ম্যাচে। নয়তো ৪ থেকে ৫টি গোল কম হজম করতো কৃষ্ণারা। আজকের ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ জাপান। তারাও অনেক শক্তিধর প্রতিপক্ষ। দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন বলেছেন, ‘আশাকরি আমাদের খেলোয়াড়রা তাদের বিরুদ্ধে সেরা খেলাটাই খেলবে। তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ তৈরি আছে।’ প্রথম ম্যাচের আগে সকালে বাংলাদেশের মেয়েদের ৪৫ মিনিট হার্ড ট্রেনিং করানো হয় বাফুফের স্ট্র্যাটেজিক ডিরেক্টর পল স্মলির নির্দেশে। এমন হার্ড ট্রেনিংয়ের কুফল হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে পুরো দল। দলের সব ফুটবলারই ছিল ক্লান্ত। এর প্রভাব পড়ে ম্যাচে। অগোছাল ফুটবল খেলে তারা। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ দল দুই গোল খাওয়ার পর ডাগআউটে স্মলিকে দেখা গেছে কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে। ফলে হেড কোচ ছোটন হয়ে পড়েন গুরুত্বহীন। লড়াই করার প্রত্যাশা থাকলেও কোরিয়ানদের বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি গোলাম রব্বানী ছোটনের দল। দাঁড়াতেই পারেনি বাংলাদেশ। দুঃস্বপ্নের বড় হার দিয়ে শুরু করে তারা। থাইল্যান্ড যাবার আগে ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর, চীন ও জাপানে গিয়ে অনেকগুলো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে কৃষ্ণবাহিনী। থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য মূলপর্বের আসরে শীর্ষ তিন দলের মধ্যে থাকতে পারলে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিতব্য ২০১৮ সালের ফিফা অনুর্ধ-১৭ মহিলা বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলতে পারবে বাংলাদেশের মেয়েরা। তবে প্রথম ম্যাচে কোরিয়ার কাছে বাজেভাবে হেরে সেই স্বপ্নপূরণ অনেকটাই এখন দুরূহ। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ বাছাইপর্বের ‘সি’ গ্রুপ থেকে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে মূলপর্বে ওঠে। বাছাইপর্বে ইরানকে ৩-০ গোলে, সিঙ্গাপুরকে ৫-০, কিরগিজস্তানকে ১০-০, চাইনিজ তাইপেকে ৪-২ এবং আরব আমিরাতকে ৪-০ গোলে হারিয়েছিল কৃষ্ণারা। যদি চাওয়াটা হয় নিখুঁত, তাহলে পাওয়াটা হবে সুনিশ্চিত। তবে নিখুঁত প্রাপ্তির জন্য দরকার ইচ্ছা, পরিকল্পনা, পরিশ্রম করার মানসিকতা, আত্মবিশ্বাস ও খানিকটা ভাগ্যের ছোঁয়াও। এসব কিছুর সমন্বয় ঘটাতে পারলে হয়তো থাই-ভূমিতে কিছু একটা করে দেখাতে পারবে ছোটনের শিষ্যারা। এখন দেখার বিষয়, আজকের ম্যাচে জাপানের সঙ্গে কেমন খেলে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ দল ॥ গোলরক্ষক : মাহমুদা আক্তার, রোকসানা বেগম, রূপা আক্তার; রক্ষণভাগ : মাসুরা পারভীন, নারগিস খাতুন, শামসুন্নাহার, শিউলি আজিম, নিলুফা ইয়াসমিন নিলা, আনাই মগিনি, নাজমা; মধ্যমাঠ : মিশরাত জাহান মৌসুমী, মারজিয়া, সানজিদা আক্তার, মনিকা চাকমা, ইশরাত জাহান রতœা, তহুরা খাতুন, আঁখি খাতুন, রাজিয়া খাতুন, মারিয়া মান্দা (সহ-অধিনায়ক); আক্রমণভাগ : কৃষ্ণা রানী সরকার (অধিনায়ক), আনুচিং মগিনি, সিরাত জাহান স্বপ্না ও সুলতানা; দলনেতা : আমিরুল ইসলাম বাবু, টেকনিক্যাল ডিরেক্টর : পল স্মলি, ম্যানেজার : জাকির হোসেন চৌধুরী, প্রধান প্রশিক্ষক : গোলাম রব্বানী ছোটন, সহকারী প্রশিক্ষক : মাহবুবুর রহমান লিটু।