ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

কোথায় হারিয়ে গেল সেই ব্রাজিল!

জিএম মোস্তফা

প্রকাশিত: ০০:৫০, ২৬ জুন ২০২৪

কোথায় হারিয়ে গেল সেই ব্রাজিল!

লজ্জায় মুখ লুকিয়ে মাঠ ছাড়ছেন ব্রাজিলের ফুটবলাররা। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে

কোপা আমেরিকার শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে ব্রাজিল। দক্ষিণ আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের এই টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কোস্টারিকার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে সেলেসাওরা। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকালে অনুষ্ঠিত ম্যাচের পুরোটা সময়ই অবশ্য দাপট দেখিয়েছে কোচ ডোরিভাল জুনিয়রের শিষ্যরা। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ম্যাচে গোলের খেলায় কেবলমাত্র গোলটার দেখাই পায়নি ব্রাজিল!

ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রড্রিগো, লুকাস পাকেতারা মিলে কোস্টারিকার বিপক্ষে ৭৪ শতাংশ বলের দখল রেখে গোল লক্ষ্য করে ১৯টি শট নিলেও গোলের দেখা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই ম্যাচ দেখতে এদিন গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন চোটের কারণে ব্রাজিলের স্কোয়াড থেকে বাদ পড়া নেইমার। কিন্তু হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। কয়েক বছর ধরেই ব্রাজিলের খেলার ধরন বদলেছে। সেই সঙ্গে সাফল্যও কমেছে।

লাতিন আমেরিকার এই দেশটি শেষবার বিশ্বকাপ জিতেছিল ২০০২ সালে। তারপর একের পর এক বিশ্বকাপ এসেছে আর একরাশ হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ব্রাজিলের ভক্ত-অনুরাগীরা। কোপা আমেরিকায় অবশ্য সর্বশেষ দুটি আসরেই ফাইনাল খেলে সেলেসাওরা। ২০১৯ সালে চ্যাম্পিয়ন হলেও ২০২১ সালে ঘরের মাটিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গের বেদনা নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল। এবার তাই লাতিন আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের পুনরুদ্ধারের মিশন ডোরিভাল জুনিয়রের শিষ্যদের সামনে।

সেই লক্ষ্য নিয়েই মঙ্গলবার কোস্টারিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের কোপা আমেরিকার মিশন শুরু করে ব্রাজিল। নিজেদের থেকে ৪৭ ধাপ পিছিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে সহজ এক জয়ই প্রত্যশা করেছিল ব্রাজিলের ভক্তরা। ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আধিপত্য বজায় রাখে সেলেসাওরা। তবে কোস্টারিকার রক্ষণভাগ দেয়ালের মতো বাধা হয়ে দাড়ালে কোনোভাবেই ভেদ করতে পারছিল না ভিনিসিয়াস-রাফিনহারা।

পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের এলেমেলো ফুটবলে হতাশ হয়েছেন ভক্তরা। বলের দখল থাকলেও প্রতিপক্ষের সীমানায় যেয়ে বারবার খেই হারিয়েছেন ভিনিসিয়াস, পাকুয়েটারা। তাদের খেলা দেখে মনেই হয়নি তারা পেলে, রোনাল্ডোদের উত্তরসূরি। রীতিমতো জার্সি দেখে চিনতে হয়েছে ব্রাজিলের ফুটবলারদের!  ২২ মিনিটে দারুণ এক সুযোগ পান মিডফিল্ডার লুকাস পাকুয়েটা। বাঁদিক থেকে প্রতিআক্রমণে গিয়ে তার উদ্দেশে বল বাড়ান ভিনিসিয়াস জুনিয়র।

কিন্তু বলটি ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি ওয়েস্ট হ্যামের এই মিডফিল্ডার। ৩০ মিনিটে বল জালে পাঠায় ব্রাজিল। রাফিনহার নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে রড্রিগোর পাসে বক্স থেকে পায়ের স্পর্শে গোলটি করেন মার্কিনিয়োস। কিন্তু অনেকটা সময় ভিএআর চেকের পর সেটি বাতিল হয় অফসাইডের কারণে। 
বিরতির পরও আক্রমণ চালিয়ে যায় সেলেসাওরা। তবে ৬৩ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত তারা। কিন্তু পাতোর বুলেট গতির শট পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। ৭৯ মিনিটেও দারুণ এক সুযোগ আসে। সতীর্থের ক্রস বক্স থেকে দুর্দান্ত এক শট নেন আরানা। কিন্তু কোস্টারিকা গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে তা ঠেকিয়ে দেন। ৮৫ মিনিটে সাভিওর শটও ঠেকিয়ে দেন ভারগাস। ৮৭ মিনিটে বক্সে ফাউলের শিকার হন রড্রিগো।

ফলে চতুর্থবারের মতো পেনাল্টির আবেদন করলে ব্রাজিল প্রস্তাবে এবারও সায় দেননি ম্যাচ রেফারি। যোগ করা সময়েও সুযোগ পান রড্রিগো। এসময় গোলরক্ষককে একা পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড। ফলে শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় ডোরিভাল জুনিয়রের শিষ্যদের।

×