ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯

monarchmart
monarchmart

আজ জিতলেই সিরিজ টাইগারদের

মো. মামুন রশীদ

প্রকাশিত: ০০:০৮, ৭ ডিসেম্বর ২০২২

আজ জিতলেই সিরিজ টাইগারদের

শেরেবাংলায় অনুশীলন শুরুর আগে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে মেহেদি হাসান মিরাজ

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট কেমন তা জানা অতীব জরুরি। তাই নিয়ম করে এই উইকেট যত বেশি দেখা যায় ততই ভালো। তাই দ্বিতীয় ম্যাচের আগে সেদিকেই যাচ্ছিলেন ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা। প্রথম ম্যাচে এই উইকেটে নাকানি-চুবানি খেয়ে ১ উইকেটের হার দেখেছে ভারত। আজ দ্বিতীয় ওয়ানডে শুরু দুপুর ১২টায়। পথে রোহিতের দেখা হয়েছে মেহেদি হাসান মিরাজের সঙ্গে। যে মিরাজ প্রথম ম্যাচে রোহিতের হাতের মুঠো থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন জয়।

এবার তাকে নিয়েও পরবর্তী ম্যাচে পরিকল্পনা সাজাতে হবে ভারতীয় দলকে। রোহিত হ্যান্ডশেক করে পিঠও চাপড়ে দিয়েছেন মিরাজের। কি বলেছেন তা জানা যায়নি, কিন্তু শুধু সাকিব আল হাসান, লিটন কুমার দাস ও মুস্তাফিজুর রহমানই নয় এবার রোহিতদের টার্গেট হয়ে উঠেছেন মিরাজও। সিরিজ হার ঠেকাতে হলে আজ জিততেই হবে ভারতকে। ঘুরে দাঁড়ানোর সেই প্রত্যয় ঘোষণা করেছে তারা। আর উজ্জীবিত বাংলাদেশ আজ জিতে আগেভাগেই সিরিজের ট্রফি নিশ্চিত করতে আত্মবিশ্বাসী। কারণ মোক্ষম সুযোগ এটাই।

২০১৫ সালে প্রথমবার ভারতের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ জয় করে বাংলাদেশ। সেবার মিরপুরে হওয়া ৩ ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছে টাইগাররা। সেই হারের বেদনা নিয়ে প্রায় সাড়ে ৭ বছর পর আবার বাংলাদেশে এসেছে ভারতীয় দল। প্রথম ম্যাচেই হেরেছে আবার। মাঝে ৫টি ওয়ানডে খেলে ভারতের বিপক্ষে আর জিততে পারেনি বাংলাদেশ দল। অর্থাৎ সাড়ে ৭ বছর পর আবার ভারতের বিপক্ষে জয় পেয়েছে টাইগাররা।

কিন্তু দুই দলের মধ্যে স্নায়ু টানটানা ম্যাচে শেষ মুহূর্তে চাপ সামলাতে না পেরে হেরেছে বাংলাদেশ। এবার সেই চাপটাকে জয় করেছে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতেই। এ কারণে স্নায়ুচাপে বারবার ব্যর্থ হওয়ার ‘জুজু’ কাটিয়ে এখন উজ্জীবিত বাংলাদেশ। উভয় দল অবশ্য প্রথম ওয়ানডের পর কোনো অনুশীলন করেনি। কিন্তু মঙ্গলবার ঘাম ঝরিয়েছেন দুদলের ক্রিকেটাররা। পরিস্থিতি ভিন্ন হলেও উভয় দলের লক্ষ্য একটাই- সেটি হচ্ছে জয় তুলে নেওয়া। ভারতের বিপক্ষে ৪টি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলে সেই একবারই ট্রফি জিততে পেরেছে বাংলাদেশ।

২০১৫ সালের সেই সিরিজে টানা ২ ম্যাচ জিতে আগেভাগেই ট্রফি নিশ্চিত করে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। এবারও সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করার মোক্ষম সুযোগ। কিন্তু শিষ্যদের সতর্কবার্তা দিয়েছেন প্রধান কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো। এ বিষয়ে তিনি মঙ্গলবার বলেছেন, ‘আমাদের দল এই ফরম্যাটে অনেক আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু এটা সহজ (সিরিজ জয়) হবে না। ভারত খুবই ভালো দল। তারা অবশ্যই শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়াবে। যদিও আমি আগামীকালের খেলায় ০-১ ব্যবধানে পিছিয়ে নয়, ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে নামব কিন্তু আমাদের প্রথম খেলায় যা করেছি তার চেয়ে ভালো খেলতে হবে।’
দুই দলেরই ব্যাটিংয়ের চিত্র ছিল ভয়াবহ। ব্যাটিং দুর্দশা কাটিয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ ও ভারতের। ডোমিঙ্গো স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ে ভালো করার ওপর জোর দিয়েছেন। কারণ প্রথম ওয়ানডেতে ভয়াবহ ধস নামে এবং মাঝপথে মাত্র ৮ রানের মধ্যে ৫ উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের। তবে তার দাবি সব বিভাগেই উন্নতি না করতে পারলে ভারতের বিপক্ষে আবারও জিতে যাওয়া খুবই কঠিন হবে।

এর প্রমাণ ২০১৫ সালে হেরে যাওয়া সিরিজেই দিয়েছে তারা। শেষ ওয়ানডেতে সেবার দাপটের সঙ্গে ৭৭ রানের জয় তুলে নেয় তারা। মিরপুরের উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময়টা পাওয়া জরুরি সফরকারীদের জন্য। কিন্তু আজই রোহিতরা নিজেদের মানিয়ে নিয়ে জয়ে ফিরতে চান। রোহিত বলেছেন, ‘ওটা খুবই হাড্ডাহাড্ডি খেলা ছিল। আমরা ভালো ব্যাট করিনি। কিন্তু দারুণ বোলিং করে তাদের শেষ পর্যন্ত চাপে রেখেছিলাম।

আর ৩০-৪০ রান করতে পারলে ভিন্নরকম হতো। আমরা এ ধরনের উইকেটে অভ্যস্ত এবং আমাদের বুঝতে হবে কিভাবে ব্যাটিং করতে হবে। আশা করছি চাপের পরিস্থিতি সামলে কিভাবে ভালো করতে হয় সেটা শেখা জরুরি। পরের ম্যাচে আশা করছি সবকিছুতে পরিবর্তন আসবে।’ মিরপুরে লো-স্কোরিং ম্যাচে এমন লড়াই আগেও দেখা গেছে। ডোমিঙ্গোই জানিয়েছেন, ২০০ রানের ম্যাচেই এখানে লড়াই হয়। উইকেটের পরিস্থিতিতে ক্রিকেটারদের স্কিল এবং মানসিক শক্তির পরীক্ষা দিতে হয় মিরপুরে।

ভারতের ওপেনার শিখর ধাওয়ান সেই শিক্ষাটা পেয়ে এখন দ্বিতীয় ম্যাচের আগে আত্মবিশ^াসী ভালো করতে। তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, ‘নতুন করে সব শুরু হতে যাচ্ছে এবং আমরা সেটা করতেই মুখিয়ে আছি। আমরা খুবই ইতিবাচক এবং খুব ফুরফুরে মেজাজে আছি আগামীকাল (আজ) ভালো ক্রিকেট খেলার জন্য। আমরা অনেক আত্মবিশ^াসী ম্যাচটি নিয়ে। কারণ সিরিজের প্রথম ম্যাচ এটাই প্রথমবার হারিনি আমরা। এটা খুবই স্বাভাবিক। আর আমরা জানি এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়।’
ধাওয়ানের বক্তব্যই বলে দিচ্ছে আজ মরিয়া হয়েই নামবে ভারত। তার কথার বাস্তবতাও দেখা গেছে অনেকবার। ৩ ম্যাচের সিরিজে এখনো পর্যন্ত ৮ বার প্রথম ম্যাচ হেরেও ঘুরে দাঁড়ানোর ঘটনা ঘটিয়েছে ভারত। এর মধ্যে গত ৪ বছরেই এমনটি করেছে ৪ বার। মাস দেড়েক আগে ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেই প্রথম ম্যাচ হেরেও সিরিজের ট্রফিটা রোহিতরা রেখে দিয়েছেন।

কিন্তু ভারতের মতো শক্তিধর দলের বিপক্ষে দ্বিতীয়বার সিরিজ জয়ের এমন মোক্ষম সুযোগ ছাড়তে নারাজ বাংলাদেশও জয় তুলে নিতেই নামবে। এখন পর্যন্ত ৩ ম্যাচের সিরিজ ২০টি জিতেছে বাংলাদেশ দল। আজ ভারতকে হারিয়ে সেই সংখ্যা আরও বাড়ানোর সুযোগ। এ ম্যাচেও পুরোপুরি ফিট না হওয়া তাসকিন আহমেদকে ছাড়াই নামবে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে দুই অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এবং ওপেনিং জুটিতে বড় রানের আশায় থাকবেন অধিনায়ক লিটন দাস।

৩ ম্যাচের সিরিজ বাংলাদেশ হেরেছে ৩৮টি। তবে সিরিজের প্রথম ম্যাচ জেতার পর ব্যর্থতার হিসাব করলে হার মাত্র ২টি। দেখা যাক লিটনরা কি করতে পারেন। প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং করে ৪ উইকেট শিকারি পেসার এবাদত হোসেন অবশ্য বার্তা দিয়েছেন লড়াই করে জেতার, ‘সবাই মানসিকভাবে চাঙ্গা আছে যে, আমরা এরকম একটা ম্যাচ জিততে পেরেছি ভারতের সঙ্গে। পরের ম্যাচে আমরা সবাই মিলে ভালো খেলার চেষ্টা করব।

monarchmart
monarchmart