ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

থ্রেডসে অ্যাপে যেসব সুবিধা

প্রকাশিত: ২০:৫৮, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩

থ্রেডসে অ্যাপে  যেসব সুবিধা

থ্রেডসে অ্যাপ

সামাজিকতা এখন অনেকটাই প্রযুক্তিনির্ভর। ইন্টারনেটজুড়েই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ছড়াছড়ি। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার ইত্যাদি। প্রত্যেকটিতেই পছন্দের সেলিব্রেটিদের ফলো করা যায় এবং পরিচিত, অপরিচিতদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যায়। ব্যবহারকারীর সংখ্যা যেমন দিন দিন বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাজারে আসছে নতুন নতুন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপলিকেশন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। ইতোমধ্যে বহুল জনপ্রিয় একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হলো টুইটার, যার বর্তমান মালিক স্পেস এক্স এবং টেসলা কোম্পানির মালিক ইলন মাস্ক। টুইটারের প্রতিযোগী হিসেবে সম্প্রতি ফেসবুকের প্যারেন্ট কোম্পানি মেটাথ্রেডনামে একটি অ্যাপ চালু করেছে। অ্যাপটি অফিসিয়ালি চালু হয় জুলাই, ২০২৩ সালে। অ্যাপটিতে টুইটারে থাকা ফিচারগুলোর পাশাপাশি থাকবে নতুন কিছু সংযোজন। কোম্পানি জানায়, ইতোমধ্যেই তাদের অ্যাপটিতে ৩০ মিলিয়নের বেশি সাইন ইন সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বড় বড় ব্র্যান্ড, সেলিব্রিটি, সাংবাদিকসহ আরও অনেকে।

এই প্ল্যাটফর্মটিতে টুইটারের মতোই ফিড হিসেবে মূলত টেক্সটভিত্তিক পোস্টগুলো থাকবে। তবে ছাড়াও ব্যবহারকারীরা ছবি, লিংক এবং ভিডিও শেয়ার করতে পারবেন এবং কমেন্টের মাধ্যমে একে অন্যের সঙ্গে কথোপকথন করতে পারবেন। টুইটারের যে বার্তা বা টুইট তা ২৮০ অক্ষরের মধ্যে সীমাবদ্ধ, তবে থ্রেডসে সর্বমোট ৫০০ ক্যারেক্টার পর্যন্ত পোস্ট করা যাবে। অ্যাপটিতে শেয়ার করা পোস্টটি চাইলে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতেও সরাসরি শেয়ার করা সম্ভব। টুইটারের মতো থ্রেডস অ্যাপটিতেও অ্যাকাউন্ট প্রাইভেট বা পাবলিক উভয় আকারেই লিস্ট করা সম্ভব। যেসব অ্যাকাউন্ট ইতোমধ্যেই ইনস্টাগ্রামে ভেরিফায়েড, সেগুলো থ্রেডসেও স্বয়ংক্রিংয়ভাবে ভেরিফাই হয়ে যাবে। ব্যবহারকারীর ইনস্টাগ্রামে ব্যবহৃত ইউজার নেম, পাসওয়ার্ড এবং অ্যাকাউন্ট নেম ব্যবহার করে থ্রেডস অ্যাপে অ্যাকাউন্ট  রেজিস্ট্রেশন করতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইনস্টাগ্রামে তারা যেসব অ্যাকাউন্ট ফলো করেন, সেগুলো সরাসরি থ্রেডস অ্যাপে ফলো করতে পারবেন। ব্যবহারকারী চাইলে তার ইনস্টাগ্রামের বায়ো পাল্টে আলাদা বায়ো লিখতে পারেন। তবে থ্রেডস অ্যাকাউন্ট ডিলিট করাটা একটা ঝামেলাপূর্ণ কাজ। ব্যবহারকারী চাইলে কিছুদিনের জন্য তাদের প্রোফাইল ডিঅ্যাক্টিভেট করে রাখতে পারলেও একেবারের জন্য অ্যাকাউন্ট ডিলিট করতে চাইলে তাদের আগে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ডিলিট করতে হবে। ইনস্টাগ্রামের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় ডিলিট করাটা অসুবিধা হলেও ব্যবহারকারী এর বেশকিছু সুবিধাও পাবেন।

যেমন- লগইন করার সময় ইনস্টাগ্রামের সাহায্যেই লগইন বা সাইন ইন করা যাবে। পাশাপাশি সেখানে যাদের ফলো করছেন, তাদের পোস্ট দেখা যাবে থ্রেডসের ফিডে, সঙ্গে বাড়তি পাওনা হিসেবে থ্রেডস নিজে থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিছু রেকমেন্ডেশন বা সাজেশন দেবে। ছাড়াও ব্যবহারকারীর যদি কোনো শব্দ অপছন্দ হয়, তাহলে তিনি তা ফিল্টার করতে পারবেন। কে বা কারা মেনশন করতে পারবেন- তাও ব্যবহারকারী নিজেই ঠিক করতে পারবেন। তবে অ্যাপটি নিয়ে কিছু তর্ক-বিতর্ক রয়েছে। থ্রেডসকে টুইটার কিলার হিসেবে দাবি করলেও আছে মতভেদ। অনেকে এটিকে কপিক্যাট হিসেবেও দেখছেন, যা টুইটারের আদলেই তৈরি। তবে যেহেতু থ্রেডস ইনস্টাগ্রামের মতো বৃহৎ একটি অ্যাপের সঙ্গে সংযুক্ত, সেহেতু এর প্রসারে খুব বেশি বেগ পেতে হবে না মেটার। অ্যাপটি প্লে স্টোর এবং অ্যাপেল স্টোর থেকে একদম ফ্রিতে ডাউনলোড করা যাবে।

×