ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই মিলন। বছরের অন্য সময়গুলোতে জীবনের ব্যস্ততা মানুষকে ছড়িয়ে দেয় নানা জায়গায় কাজ, পড়াশোনা বা জীবিকার টানে অনেকেই পরিবার থেকে দূরে থাকেন। কিন্তু ঈদ এলেই যেন সবাই আবার ফিরে যেতে চান শিকড়ে। পরিবারের সঙ্গে বসে খাওয়া, কোলাকুলি, বড়দের দোয়া আর ছোটদের হাসি এই সবকিছু মিলিয়েই গড়ে ওঠে ঈদের প্রকৃত আনন্দ। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঈদ উদ্যাপনের ধরনেও এসেছে পরিবর্তন। একসময় ঈদের আনন্দের প্রধান কেন্দ্র ছিল পরিবার, পাড়া-প্রতিবেশী এবং আত্মীয়স্বজন। ঈদের নামাজ শেষে সবাই একে অন্যের বাড়িতে যেতেন, খোঁজখবর নিতেন, মিষ্টিমুখ করতেন। পাড়া ভরে উঠত মানুষের আনাগোনায়, শিশুদের নতুন জামার উচ্ছ্বাসে। এখন সেই চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন বাস্তবতা ফেসবুক, ইন্টারনেট এবং তথাকথিত আকাশ সংস্কৃতির প্রভাব। ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর জন্য একসময় চিঠি, ফোন বা সরাসরি দেখা ছিল প্রধান মাধ্যম। এখন তার জায়গা অনেকটাই দখল করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ঈদের দিন ভোর থেকেই ফেসবুকের টাইমলাইন ভরে যায় শুভেচ্ছা বার্তা, ছবি আর ভিডিওতে। অনেকেই পরিবারের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো শেয়ার করেন, আবার অনেকেই দূরে থেকেও অনলাইনের মাধ্যমে কাছের মানুষদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
ইন্টারনেটের এই যুগে ঈদের আনন্দ যেন এক অর্থে আরও বিস্তৃত হয়েছে। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে থাকা মানুষ ভিডিও কলের মাধ্যমে মুহূর্তেই পরিবারের সঙ্গে যুক্ত হতে পারছেন। প্রবাসে থাকা সন্তানও ঈদের সকালে মায়ের মুখ দেখতে পারছেন মোবাইলের পর্দায়। দূরত্ব যেন প্রযুক্তির কারণে কিছুটা হলেও কমে এসেছে। তবে এই পরিবর্তনের মাঝেও একটি প্রশ্ন থেকে যায়, প্রযুক্তির উপস্থিতি কি কখনো কখনো বাস্তব সম্পর্কের উষ্ণতাকে কমিয়ে দিচ্ছে? অনেক সময় দেখা যায়, একই ঘরে বসে থাকা মানুষও নিজেদের মধ্যে কথোপকথনের বদলে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন মোবাইলের পর্দায়। ফলে সরাসরি দেখা হওয়ার যে মানবিক আনন্দ, তা কিছুটা হলেও ম্লান হয়ে যেতে পারে। তাই প্রয়োজন একটি ভারসাম্য। প্রযুক্তি আমাদের যোগাযোগকে সহজ করেছে, দূরের মানুষকে কাছে এনেছে, এটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। কিন্তু ঈদের মূল চেতনাটি হলো মানুষে মানুষে সম্পর্কের উষ্ণতা, পারিবারিক বন্ধন এবং আন্তরিকতার প্রকাশ।
মধ্যনগর, সুনামগঞ্জ থেকে
প্যানেল/মো.








