ধনী-গরিবের বৈষম্য এতো বেড়ে গেছে যে, ঈদের দিনের মিলনটা একটা প্রথাগত মিলনে পরিণত হয়েছে। ছোটবেলার ঈদ উদযাপন সবার কাছেই অন্যরকম মজা। যদি বড়দের কাউকে জিজ্ঞেস করা হয়, ‘ঈদের মজা আপনার কাছে এখন কেমন?’—তবে একবাক্যে সবাই ছোটবেলার ঈদ উদযাপনের কথাই বলবেন। দেখতে পেতাম ঈদের জামাত শেষে সহপাঠী বন্ধু প্রতিবেশী দল বেঁধে ঘুরে বেড়ানো, নতুন কাপড়চোপড় পরা, বড়দের কাছ থেকে নগদ টাকা পাওয়া ও বাড়ি-বাড়ি বেড়াতে গিয়ে খাওয়া দাওয়া যার মজাই ছিল আলাদা। এ-মজা আজকাল যেন অনেকটা কমে গেছে। কারণ বর্তমান সময়ে ঈদের জামাত আদায় করার পর কোলাকুলি পর্ব শেষে খাওয়া দাওয়া করে অনেককেই টেলিভিশনের হরেক রকমের অনুষ্ঠান দেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকতেই দেখা যায়। নানা ব্যস্ততায় এখন আর আত্মীয়স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীদের খোঁজখবর নেওয়া খুব একটা হয়ে ওঠে না। প্রতিবেশী এবং অন্য ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার যে রীতি আগে দেখা যেত এখন তা অনেকটা নিষ্প্রভ। ঈদের দিনে আত্মীয়তার একটি বন্ধন তৈরি হয়। এ আত্মীয়তা হচ্ছে কাছের ও দূরের সকলের সঙ্গে আত্মীয়তা। অসাম্প্রদায়িক আত্মীয়তা। ঈদের দিনে সমাজের নানাবিধ বৈষম্য থাকা সত্ত্বেও একে অন্যের কাছে আসি। কর্মক্ষেত্রে মিলনের মধ্যে অনেক সময় স্বার্থের সম্পর্ক বড় হয়ে দেখা দেয়। কিন্তু ঈদের দিনের মিলনে একটি সুন্দর অভিব্যক্তি আছে। এই মিলনে স্বার্থের সম্পর্ক নেই, আছে কেবল ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার তাগিদ। এ দিন উৎসবের দিন, আনন্দ ভাগাভাগি করার দিন। ধনী-গরিব মিলেমিশে উপভোগ করার দিন। ঈদ হলো প্রেমপ্রীতি ভালোবাসার উৎসব। আগেকার সময় ঈদের দিনে সহপাঠী বন্ধু প্রতিবেশী পরিবারের সদস্যরা ঘরেই তৈরি করতেন বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু খাবার। স্মার্টফোন না থাকায় তখন তাদের মধ্যে ছিল না কোনো কনটেন্ট তৈরি করার প্রচেষ্টা, ছিল না খাবারের ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করার ঝোঁক। শপিং করা নিয়ে তাদের মধ্যে ছিল না কোনো প্রকার আগ্রহ। ঘরেই সেলাই করা হতো ছোটদের জন্য নতুন নকশার জামা। দূরে যারা থাকতেন, তাদের ছিল না অনলাইনে অগ্রিম টিকিট কেটে রাখার সুযোগ। ফলে তাদের জন্য পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষায় থাকতেন। আগে একান্নবর্তী পরিবার ছিল বলে মানুষ অনেক দূরবর্তী স্থান থেকেও ছুটে আসত পরিবারের সঙ্গে ঈদ উপভোগ করার জন্য। কিন্তু এখন পরিবারগুলো ছোট ছোট হয়ে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ায় ঈদের আনন্দ আর আগের মতো ভাগাভাগি করা হয় না।
বোয়ালখালী, চট্টগ্রাম থেকে
প্যানেল/মো.








