ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২

চাঁনরাতের মিলনমেলা

তামিম নূরানী প্রেমা

প্রকাশিত: ১৯:৩৭, ১৮ মার্চ ২০২৬

চাঁনরাতের মিলনমেলা

সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রার মতোই উৎসব উদ্যাপনের ধরনেও এসেছে বড় পরিবর্তন। ঈদ মূলত একটি পারিবারিক ও সামাজিক মিলনের উৎসব। কিন্তু বর্তমান সময়ে সব পরিবারের সদস্যকে একত্র করা সবসময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। বাংলাদেশের অনেক পরিবারের সদস্য জীবিকার তাগিদে প্রবাসে বসবাস করেন। তবে ‘আকাশ সংস্কৃতি’ বা আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে এই দূরত্ব অনেকটাই কমে এসেছে। এখন ঈদের দিনে ভিডিও কলে আলাপ-আলোচনা, কুশল বিনিময়, এমনকি সালামি আদান-প্রদানও অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। বর্তমানে ঈদের কেনাকাটায় অনলাইন ও অফলাইন উভয় ক্ষেত্রেই মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। তবে অনলাইন শপিং মানুষের এই ব্যস্ততার মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। শুধু কেনাকাটাই নয়, প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে ঈদযাত্রাও আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়ে উঠেছে। আগে স্টেশন বা বাস কাউন্টারে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার যে ভোগান্তি ছিল, এখন অনলাইনের মাধ্যমে তা অনেকটাই কমে গেছে। তবুও আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, এই প্রযুক্তি যেন আমাদের বাস্তব অনুভূতি ও আন্তরিক সম্পর্কগুলোকে ম্লান করে না দেয়। একসময় ঈদের আগের রাতে চাঁদ দেখার জন্য সবার মধ্যে এক অন্যরকম উচ্ছ্বাস ও ব্যাকুলতা কাজ করত। ‘চাঁদ রাত’ ছিল আনন্দ ও প্রত্যাশায় ভরা এক বিশেষ মুহূর্ত। কিন্তু এখন আর আগের মতো সেই আমেজ বা শোরগোল তেমন দেখা যায় না। আগে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা নতুন জামা পরে ঈদের দিন পাড়ার মেঠো রাস্তায় ঘুরে বেড়াত, হাসি-আনন্দে ভরে উঠত চারপাশ। অথচ বর্তমান সময়ে অনেক শিশুর ঈদের দিন কাটে স্মার্টফোনের স্ক্রিনে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা হাজার হাজার ছবি শেয়ার করি ঠিকই, কিন্তু সেই আনন্দের কতটুকু আমরা হৃদয় দিয়ে অনুভব করি সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। ঈদ শুধু একটি উৎসব নয়; এটি ভালোবাসা, সহমর্মিতা এবং পারিবারিক বন্ধনের এক পবিত্র উপলক্ষ। তাই এই আন্তরিক সম্পর্কগুলো যেন কেবল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি শেয়ার করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। আমাদের উচিত পরিবারের সবার সঙ্গে সরাসরি আনন্দ ভাগ করে নেওয়া এবং একে অপরের সান্নিধ্যে উৎসবের প্রকৃত আনন্দ অনুভব করা। এবারের ঈদ সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল হাসি ও আনন্দ। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে গড়ে উঠুক নিবিড় ভালোবাসা ও প্রকৃত আন্তরিকতা। তবেই ফুটে উঠবে ঈদের প্রকৃত সার্থকতা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে

প্যানেল/মো.

×