ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির ছায়ায় এবার ফিকে হয়ে গেছে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ। মাথার ওপর দিয়ে নিয়মিত উড়ে যাওয়া ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন হামলার আতঙ্কে দিন কাটছে সেখানে অবস্থানরত প্রায় ৫৬ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশির। বিশেষ করে ইরান, কাতার, কুয়েত এবং বাহরাইনে অবস্থানরত প্রবাসীদের মধ্যে প্রাণহানির শঙ্কা এখন উৎসবের আমেজকে ছাপিয়ে গেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা। কাতারের দোহা ও আল-শাহনিয়া অঞ্চলে নিয়োজিত বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, প্রতিনিয়ত পুলিশি টহল এবং সাইরেন বাজার সাথে সাথে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার মহড়া চলছে। হামলার আশঙ্কায় কাতার ও কুয়েত সরকার ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে যে, এবার খোলা ময়দানে কোনো ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে না; নিরাপত্তার খাতিরে সব জামাত মসজিদের ভেতরে আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কুয়েত ও ওমান থেকে দেশে ফেরার পরিকল্পনা থাকলেও ফ্লাইট বাতিল ও বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় আটকা পড়েছেন অনেক বাংলাদেশি। নরসিংদীর আজিজ আহমেদের মতো অনেকেই টিকিট কেটেও পরিবারের কাছে ফিরতে পারেননি। কাতার প্রবাসী কবীর জানান, বোমা হামলার আশঙ্কায় বিভিন্ন শহরের সংযোগ সড়ক বন্ধ থাকায় বন্ধুদের সাথে দেখা করার সুযোগও এবার নেই। লিন্ডা, আল ওয়াব বা লুসাইল সিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে জনগণের চলাচল সীমিত করা হয়েছে।
সৌদি আরব ও বাহরাইনের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধ সংক্রান্ত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য শেয়ার না করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অমান্যকারীদের গ্রেপ্তারের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনের তেল শোধনাগার ও মার্কিন ঘাঁটি সংলগ্ন এলাকায় থাকা বাংলাদেশিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। ইতিমধ্যে কয়েকটি দেশে বিচ্ছিন্ন হামলায় বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় প্রবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগের পাহাড় জমেছে। সব মিলিয়ে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কায় বিদেশের মাটিতে উৎসবহীন এক ঈদ পালন করতে যাচ্ছেন রেমিট্যান্স যোদ্ধারা।
এফএ








