ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২

তেল-গ্যাসের অস্থিরতায় এবার ইরানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ঘোষণা

প্রকাশিত: ২২:১৬, ১৯ মার্চ ২০২৬

তেল-গ্যাসের অস্থিরতায় এবার ইরানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ঘোষণা

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে বিশ্বজ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানি তেলের ওপর থেকে কিছু বিধিনিষেধ শিথিলের পরিকল্পনা করছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, জরুরি পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসন তাদের নিজস্ব তেল মজুত থেকে সরবরাহ বৃদ্ধি করতে পারে।

এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে জানা গেছে, মার্কিন প্রশাসনের অনুমোদন নিয়ে ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলো হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে সরবরাহ করছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের প্রবাহ বজায় রাখতে সহায়তা করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি ইরানের সাউথ পারস গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, এবং প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে। এই সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাসের দাম চরমভাবে বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার অতিক্রম করেছে, যা এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে গ্যাসের দামও প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তেলবাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি যদি বন্ধ থাকে, তেলের দাম আরও বেশি বেড়ে যেতে পারে।

বিশ্লেষক বন্দনা হারি জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের মানদণ্ড তেল ইতিমধ্যেই ১৫০ ডলারের বেশি মূল্যবৃদ্ধি করেছে। বর্তমানে ব্রেন্ট বা ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ২০০ ডলারের দিকে ধাবিত হতে পারে।

এই পরিস্থিতির প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারে ছড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যে পাইকারি গ্যাসের দাম ১৪০ শতাংশ বেড়ে প্রতি থার্ম (২.৮ ঘনমিটার) ১৭১.৩৪ পেন্স বা ২.২৯ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, তেলের ভবিষ্যৎ দাম নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালির কার্যক্রম কতদিন স্থগিত থাকবে তার ওপর।

Mily

×