ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

সংশোধনের সুযোগ

-

প্রকাশিত: ২০:২৪, ১৬ এপ্রিল ২০২৪

সংশোধনের সুযোগ

সম্পাদকীয়

সম্প্রতি রাজধানীসহ দেশের অনেক স্থানে কিশোর গ্যাংয়ের ক্রমবর্ধমান উৎপাত-উপদ্রবে তাদের সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারণা গড়ে উঠেছে জনমনে। তবে মনে রাখতে হবে, তারা আর দশজন বয়স্ক অপরাধীর মতো নয়। পেছন থেকে মদতদাতা গডফাদারের জন্যই হোক অথবা নিছক কৌতূহল বা এ্যাডভেঞ্চারবশত সম্ভবত তারা জড়িয়ে পড়ছে কোনো অপরাধমূলক কর্মকা-ে, বালক বয়সে যা অস্বাভাবিক নয়। তাই তাদের প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো বাঞ্ছনীয়।

সবাইকে মনে রাখতে হবে, তারা আমাদের সন্তানতুল্য। তাদেরও মা-বাবা-ভাই-বোন-পরিবার রয়েছে। সে অবস্থায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলেও জেলখানায় অন্য অপরাধীদের সঙ্গে রাখা যাবে না তাদের। কারাগারে প্রয়োজনে পৃথক সেল খুলে সেখানে রাখতে হবে কিশোর অপরাধীদের। তাদের সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে কিছু নির্দেশনা প্রদান করেন। 
কিশোর অপরাধীদের প্রতি সমাজ এবং রাষ্ট্রের বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গির ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। কিশোররা কোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়লেও তাদের যেন দীর্ঘমেয়াদে দাগি অপরাধী বানিয়ে ফেলা না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। মনোবিজ্ঞানীদের মাধ্যমে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এর সঙ্গে অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের করতে হবে সম্পৃক্ত।

তারা যেন বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কারাগার থেকে বাইরে বেরিয়ে এসে নানামুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে সমাজে পুনর্বাসিত হতে পারে, সে বিষয়ে নজর দিতে হবে। ভালো নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে তাদের। বর্তমানে যে তিনটি কিশোর সংশোধনাগার আছে সেগুলো জনভারাক্রান্ত। মানসম্মতও নয়। এর জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে আরও নতুন সংশোধনাগার তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্র ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে। সব মিলিয়ে কিশোর অপরাধীদের প্রতি একটি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তাদের সংশোধনসহ যথাযথ প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা বাঞ্ছনীয়। 

কিশোর-তরুণদের বখে যাওয়া, দলাদলি, গ্রুপিং-লবিং, পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা ইত্যাদিকে বলা হয় ‘গ্যাং কালচার।’ আইনের পরিভাষায় জুভেনাইল সাবকালচার। এসব নাকি নগরায়ণের সঙ্গে সম্পর্কিত। এরা প্রায়ই তুমুল হর্ন বাজিয়ে তীব্র গতিতে রাজপথ দাপিয়ে বেড়ায় হোন্ডায়, সমবয়সী মেয়েদের সকাল-বিকেল উত্ত্যক্ত করে, ফেসবুকে আপত্তিকর স্ট্যাটাস দেয়, মোবাইলে অশ্লীল ছবি ধারণ করে ব্ল্যাকমেল করে, খেলার মাঠে হামলা চালায় প্রতিপক্ষের ওপর, সর্বোপরি ছিনতাই-চাঁদাবাজি-মাদক তো আছেই।

কিশোরদের এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য শুধু মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ফেসবুক, ইন্টারনেট ইত্যাদিকে দায়ী করা যাবে না। শুধু থানা-পুলিশ দিয়েও হবে না। এক্ষেত্রে সবিশেষ গুরুদায়িত্ব রয়েছে সমাজ, পরিবার ও অভিভাবকদের, বিশেষ করে মা-বাবা, ভাইবোনদের। খেলাধুলা কিংবা পার্টির ছলে ছেলেটি কোথায় যায়, কী করে, কাদের সঙ্গে মেশে তা নিয়মিত রাখতে হবে নজরদারিতে। পাড়া-মহল্লার মুরব্বিরাও এক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারেন। যথাযথ ভালোবাসা ও আন্তরিকতা দিয়ে সন্তানদের বোঝালে বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষা পেতে পারে কিশোর প্রজন্ম।

×