ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১

কমছে দারিদ্র্যের হার

-

প্রকাশিত: ২০:২৬, ৩০ মার্চ ২০২৩

কমছে দারিদ্র্যের হার

সম্পাদকীয়

স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন ও অগ্রগতি হয়েছে এ কথা অনস্বীকার্য। দারিদ্র্য দূরীকরণ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন, মাতৃমৃত্যু-শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষার হার বৃদ্ধিসহ নানা আর্থ-সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ বেশ উন্নতি করেছে। ২০৪১ সালে দেশের দারিদ্র্যকে প্রায় শূন্যের কোটায় নামিয়ে উন্নত বিশ্বের তালিকায় স্থান করে নেওয়ার লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

ইতোমধ্যে করোনার প্রভাব কাটিয়ে নানামুখী কর্মসংস্থানমূলক ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণের ফলে দেশে ক্রমেই কমছে দারিদ্র্যের হার। অনেক মানুষ সুলভে কিংবা বিনামূল্যে খাদ্য সহায়তা ও নগদ আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে দেশে দরিদ্র মানুষের হার ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। আর এক হিসাবে দেখা যায়,  ২০০৯ সাল থেকে ক্রমান্বয়ে প্রতিবছর সর্বোচ্চ শতকরা ৩ থেকে নি¤œ ১ ভাগ হারে দরিদ্র ও হতদরিদ্র কমছে, যা আশাব্যঞ্জক। 
বর্তমান অর্থবছরে (২০২২-২৩) সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ে দেশের ৫ কোটি মানুষের জন্য নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৭ হাজার ২২৩ কোটি টাকা। বর্তমানে নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তার মধ্যে ভিজিএফ, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, ওএমএস, জিআর (খাদ্য), কাবিটা, কাবিখা এবং ভিডব্লিউবি কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষ খাদ্যসুবিধা পাচ্ছে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা, শহীদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা ও সম্মানী ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, বয়স্ক ভাতা, স্বামী নিগৃহীত ও বিধবা ভাতা, মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি, হিজড়া, বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ভাতা হিসাবে দেওয়া হচ্ছে নগদ অর্থ।

বছরে ১০০ দিনের টাকার বিনিময়ে কর্মসৃজন কর্মসূচিও চালু রয়েছে। এ ছাড়াও সরকারি কর্মচারীদের অবসর ও পারিবারিক অবসর ভাতাও দেওয়া হচ্ছে। ২৪টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মাধ্যমে দেশে সামাজিক নিরাপত্তা বলয় পরিচালিত হয়। এসব খাতে ১২৩টি কর্মসূচি চলমান। তবে অভিযোগ রয়েছে, একই ব্যক্তি একাধিক ক্ষেত্রে এসব সুবিধা ভোগ করছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানা যায়, একই ব্যক্তি যেন একাধিক সুবিধা না পান, সেজন্য অনলাইনে কার্যক্রমের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
টেকসই উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে নাগরিকদের জীবনমানকে এগিয়ে নিতে গেলে দারিদ্র্য কমানো জরুরি। এক্ষেত্রে অবকাঠামো উন্নয়নে বৃহৎ কর্মপরিকল্পনায় সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি দেশের সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রাকে বেগবান করবে। সাধারণ জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নে নতুন নতুন মহাপরিকল্পনায় দেশকে আরও শক্তিশালী করতে দারিদ্র্যের মতো অভিশাপকে মুছে ফেলার দৃঢ় প্রত্যয়ে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কৃষি খাতের আধুনিকীকরণ কিংবা শিল্প-কারখানায় বিনিয়োগই নয়, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করলে দারিদ্র্যসীমা তার অবস্থানকে অতিক্রম করতে পারে। সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

×