ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১

নাগরিক সমাজের আন্দোলনে কবীর চৌধুরী

শাহরিয়ার কবির

প্রকাশিত: ২০:৪৯, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

নাগরিক সমাজের আন্দোলনে কবীর চৌধুরী

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক আন্দোলনে শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীরা সব সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক আন্দোলনে শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীরা সব সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। গত শতকের পঞ্চাশের দশকে ভাষা আন্দোলন, ষাটের দশকে বাঙালি জাতিসত্তার আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, সত্তর ও আশির দশকে মৌলিক অধিকার ও সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, নব্বইয়ের দশকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী আন্দোলনে সিভিল সমাজ অগ্রণী ভূমিকায় ছিল।

২০০১ সালে নির্বাচনোত্তর সংখ্যালঘু নির্যাতন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিনাশী কর্মকা-, মানবাধিকার লঙ্ঘন, জঙ্গি মৌলবাদের উত্থান এবং রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সংবাদপত্র ও সুশীল সমাজের ভূমিকা শুধু জাতীয় পর্যায়ে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হয়েছে। বাংলাদেশের সুশীল সমাজের আন্দোলনের পুরোগামী নেতা অধ্যাপক কবীর চৌধুরী।
বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় দেড় শতাধিক গ্রন্থের রচয়িতা ও অনুবাদক অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর পা-িত্য প্রবাদতুল্য। শিক্ষকতা তার ব্রত। দীর্ঘ কর্মজীবনে কিছু সময়ে সরকারি চাকরি করেছেন।

স্বাধীন বাংলাদেশে তিন বছরের জন্য শিক্ষা ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে সচিবের গুরুদায়িত্বও পালন করেছেন। তারপর স্বেচ্ছায় সচিবের চাকরি ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার জগতে ফিরে গেছেন। হয়েছেন জাতীয় অধ্যাপক। আমৃত্যু তিনি যুক্ত ছিলেন শিক্ষকতার সঙ্গে। সাহিত্যের অধ্যাপক হলেও তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেন চিত্রকলা, নাটক, চলচ্চিত্র, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও দর্শনের বিশাল জগতে। ১৯৯৭ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মৌলবাদ যখন পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়, তিনি ছিলেন এ বিষয়ের অদ্বিতীয় অধ্যাপক। অনুবাদের জগতেও তিনি অনন্য।

সমকালীন বাংলা সাহিত্যকে তিনি পরিচিত করেছেন বহির্বিশ্বে। একইভাবে ইউরোপ ও আমেরিকার শ্রেষ্ঠ সাহিত্য সম্ভারের অনুবাদে সমৃদ্ধ করেছেন আমাদের সাহিত্য। তবে আমাদের বিবেচনায় শিক্ষকতা ও সাহিত্যের জগতে বিশাল অবদানের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সিভিল সমাজের আন্দোলনে তার নেতৃত্ব। দেশ ও জাতির বিভিন্ন সংকট মুহূর্তে যখন রাজনৈতিক নেতৃত্ব  নানাবিধ কারণে নীরব থেকেছে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্বিধাগ্রস্ত হয়েছেন, মৃদুভাষী অধ্যাপক কবীর চৌধুরী তখন মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার দাবিতে রাজপথে নেমে এসে মিছিলের পুরোভাগে দাঁড়িয়েছেন।

১৯৯২-এর জানুয়ারিতে আমরা যখন ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’ গঠন করি, তখন বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের অনেকেই ছিলেন ১০১ জন প্রতিষ্ঠাতার তালিকায়। তবে তাদের সকলেই যে আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এমন বলা যাবে না। শহীদ জননী জাহানারা ইমাম যাদের প্রতিনিয়ত পাশে পেয়েছেন, তাদের ভেতর অগ্রগণ্য দুটি নাম হচ্ছে কবি সুফিয়া কামাল ও অধ্যাপক কবীর চৌধুরী। সুফিয়া কামালের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল যুদ্ধাপরাধীদের দুষ্কর্ম অনুসন্ধানের জন্য জাতীয় গণতদন্ত কমিশন। অধ্যাপক কবীর চৌধুরী ছিলেন গণআদালতের বিচারক। জামায়াত নেতা যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের প্রতীকী বিচারের জন্য গঠিত গণআদালতের ১২ সদস্যবিশিষ্ট বিচারকম-লীর চেয়ারপার্সন ছিলেন জাহানারা ইমাম।
’৯৪-এর ২৬ জুন জাহানারা ইমামের মৃত্যুর পর আমরা নির্মূল কমিটিকে দলনিরপেক্ষ অবস্থান থেকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করি। কারণ, জাহানারা ইমামের জীবদ্দশায় নির্মূল কমিটির পৃথক সাংগঠনিক কাঠামো ছিল না। নির্মূল কমিটির উদ্যোক্তারা সবাই সর্বদলীয় ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটির কাঠামোর ভেতর কাজ করেছেন। অধ্যাপক কবীর চৌধুরীসহ গণআদালতের বিচারকরা ছিলেন জাতীয় সমন্বয় কমিটির উপদেষ্টা। যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় জাহানারা ইমামসহ স্টিয়ারিং কমিটি নিয়ত উপদেষ্টাদের সঙ্গে পরামর্শ করতেন।
’৯৫-এ নির্মূল কমিটি পুনর্গঠন করতে গিয়ে আমরা তৎকালীন বিএনপি সরকারের দ্বিবিধ বাধার মুখোমুখি হয়েছিলাম। আমাদের অনেক নেতা ‘নির্মূল কমিটি আওয়ামী লীগের পকেটে চলে গেছে’Ñ এই অজুহাতে আন্দোলন থেকে সরে গেলেন। তাদের কেউ কেউ পরবর্তীকালে সরকারি দলে যোগ দিয়েছেন এবং যাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন সেই যুদ্ধাপরাধী জামায়াতিদের ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে মন্ত্রিসভার সদস্য হতেও সাহায্য করেছেন।

সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ নির্মূল কমিটির আন্দোলনকে ভেতর থেকে ভাঙবার চেষ্টাও কম করেনি। ’৯৫-এর সম্মেলনের পর কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে উৎকোচ প্রদান করে ‘আওয়ামী লীগ আর জামায়াতের ভেতর কোনো পার্থক্য নেই’- এই তথ্য ফেরি করার জন্য নিযুক্ত করা হয়েছিল। যেহেতু স্বয়ং আহ্বায়ককে সরকারি গোয়েন্দা বিভাগ বশীভূত করতে পেরেছিল, সেহেতু গোটা আন্দোলন প্রচ- সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল।

সংগঠন ও আন্দোলনের সেই দুঃসময়ে কবি সুফিয়া কামাল, অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, কথাশিল্পী শওকত ওসমান, অ্যাডভোকেট গাজীউল হক, ব্যারিস্টার শওকত আলী খান, সংগীতশিল্পী কলিম শরাফী, মাওলানা আবদুল আউয়াল প্রমুখ নেতৃবৃন্দ শক্ত হাতে প্রতিকূল পরিস্থিতি অনুকূলে এনেছেন আহ্বায়কসহ কেন্দ্রের ১১ জনকে সংগঠন থেকে অপসারণ করে। তখন থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধকরণের আন্দোলনে হাল ধরেছেন অধ্যাপক কবীর চৌধুরী।
নির্মূল কমিটি গঠনের পর থেকে জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের সহযোগী অপরাপর মৌলবাদী সংগঠনগুলো কবীর চৌধুরী, সুফিয়া কামাল, শামসুর রাহমান, আহমদ শরীফ ও শওকত ওসমানকে ‘মুরতাদ’ আখ্যা দিয়ে তাদের হত্যার জন্য অনুসারীদের প্ররোচিত করেছে। জামায়াতের ঘাতকদের তালিকায় কবীর চৌধুরীর নাম একাত্তরেও ছিল। আলবদরের ঘাতকরা দেশের অন্যান্য বরেণ্য বুদ্ধিজীবীর সঙ্গে তার অনুজ অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করেছে। তারা কবীর চৌধুরীর বাড়িতেও হানা দিয়েছিল। অন্যত্র অবস্থানের কারণে তখন তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন।

নির্মূল কমিটির আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার পর বহুবার তাকে ‘মুরতাদ’, ‘কাফের’ ইত্যাদি আখ্যা দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এসব হুমকি ও মৃত্যুভয় কখনো তাকে আন্দোলন থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। নির্মূল কমিটি ছাড়াও তিনি বহু সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে আন্দোলনের তরুণ নেতাকর্মী-সংগঠকদের প্রেরণা জুগিয়েছেন।
নিজেদের সেক্যুলার এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বলে দাবি করেন এমন অনেক বুদ্ধিজীবী বিভিন্ন সময়ে নির্মূল কমিটিকে আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সংগঠন বলার পাশাপাশি অধ্যাপক কবীর চৌধুরীকে আওয়ামীপন্থি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধুর বিশেষ অনুরোধে তিনি কিছু সময়ের জন্য শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে ‘সকল কাজের কাজী’ আমলাদের পরিবর্তে কয়েকজন বিশেষজ্ঞকে সচিবের দায়িত্ব দেবেন।

এ কারণেই তিনি অধ্যাপক কবীর চৌধুরীকে শিক্ষা ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু আমলাতন্ত্র তার পছন্দ হয়নি। বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশাতেই তিনি এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে অধ্যাপনার জগতে ফিরে গিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধাপোষণের অর্থ যে আওয়ামী লীগ করা নয়, অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর বহু কাজে তা প্রতিফলিত হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বপ্রদানকারী আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো দল যখনই রাজনীতিতে ধর্মকে ব্যবহার করেছে, তিনি এর প্রতিবাদ করেছেন। ২০০৮ সালে নির্বাচনের প্রাক্কালে আওয়ামী লীগ যখন খেলাফত মজলিশের সঙ্গে পাঁচ দফা চুক্তি করে, অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর নেতৃত্বে নির্মূল কমিটি এর প্রতিবাদ করেছে। ব্যক্তি জীবনে ধর্মপালনের সমালোচনা তিনি কখনো করেননি, কিন্তু রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক কর্মকা-ে ধর্মকে অস্ত্র বা কৌশল হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে তার অবস্থান ছিল সব সময় সোচ্চার।

১৯৯৬-এর নির্বাচনের পর তার নেতৃত্বে নির্মূল কমিটির একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্মারকপত্র প্রদান করতে গিয়েছিলেন। সেই বৈঠকেও তিনি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছিলেন ধর্মকে রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক কর্মকা- থেকে বিযুক্ত রাখার জন্য। ধর্মনিরপেক্ষতার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুও বলেছিলেন, ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ ধর্মহীনতা নয়Ñ রাষ্ট্র ও রাজনীতির সঙ্গে ধর্মকে সম্পৃক্ত করা যাবে না।
আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিল তখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং মৌলবাদী-সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবিতে যখনই কোনো সমাবেশ ও মিছিল হয়েছে, অধ্যাপক কবীর চৌধুরী এর পুরোভাগে ছিলেন। ২০০১ সালে দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচটি দেশের সিভিল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে ঢাকায় মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী দক্ষিণ এশীয় সম্মেলন আয়োজনে তিনিই নেতৃত্ব দিয়েছেন। সম্মেলনের পর তাকেই সভাপতি নির্বাচন করে গঠিত হয়েছে ‘মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী দক্ষিণ এশীয় গণসম্মিলন’।

যে সংগঠনের সভাপতিম-লীর ভেতর আছেন ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্রকুমার গুজরাল, প্রাক্তন স্পিকার পিএ সাংমা, প্রাক্তন মন্ত্রী ড. ফুলরেণু গুহ, অধ্যাপক অম্লান দত্ত, চলচ্চিত্র নির্মাতা মৃণাল সেন, পাকিস্তানের এয়ার মার্শাল (অব.) আসগর খান, সাংবাদিক এম বি নকভী, অধ্যাপক হামজা আলাভী, অধ্যাপক এ এইচ দানী, নেপালের প্রাক্তন স্পিকার দামান ধুঙ্গানা, প্রাক্তন মন্ত্রী ঝালানাথ খানাল ও শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন ন্যায়পাল অধ্যাপক বাস্তিয়ামপিল্লাই।
তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা সম্পর্কে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করার জন্য ১৯৯৫-এ আমরা ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ কেন্দ্র’ গঠন করে এক নতুন ধরনের পাঠাগার আন্দোলনের সূচনা করেছিলাম। সেক্যুলার মানবিক শিক্ষা প্রসারের এই আন্দোলনেও অধ্যাপক কবীর চৌধুরী আমাদের পথপ্রদর্শক। ধর্মনিরপেক্ষতা, মানবিকতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে সিভিল সমাজের যত উদ্যোগ ও সংগঠন রয়েছে, সবখানেই তার নাম অপরিহার্য। তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন ৮৯ বছর বয়সে।

এই বয়সে শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের অন্য কোথাও সিভিল সমাজের আন্দোলনে তার মতো সক্রিয় কাউকে দেখিনি। তার লেখা পড়ে ইউরোপ ও আমেরিকার মানুষ জেনেছে বাংলাদেশে সেক্যুলার মানবিকতার ঐতিহ্যের পাশাপাশি মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী আন্দোলনে এদেশের সিভিল সমাজের অগ্রণী ভূমিকার কথা। বিভিন্ন সমাবেশে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তার সাহসী উচ্চারণ সব সময় উদ্দীপ্ত করেছে নতুন প্রজন্মকে।
জঙ্গি মৌলবাদের পুনর্গ্রহণ আজ গ্রাস করেছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সূর্যকে। এই সময় আমরা বারবার শুনতে চাই তার অতি পরিচিত উচ্চারণ- ‘অন্ধকার কখনো স্থায়ী হয় না, সত্যের জয় অনিবার্য, আমরা লড়ছি সত্য ও ন্যায়ের জন্য, আমরা অবশ্যই জয়ী হব’। তিনি কায়িকভাবে আমাদের সঙ্গে না থাকলেও মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, ধর্মনিরপেক্ষ মানবতার পক্ষে তার রচনাবলী আমাদের ঝড়ের রাতে বাতিঘরের মতো আলো জ্বেলে পথ দেখাচ্ছে। আমরা সেই আলোর পথযাত্রী। আমাদের পথ যত ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ, দুর্গম হোক- আমরা অবশ্যই গন্তব্যে পৌঁছব। জন্মের শত বৎসর পরও কবীর চৌধুরী ধ্রুবতারার মতো অন্ধকার আকাশে জ্বলজ্বল করছেন। কবীর চৌধুরী অমর।

লেখক : সাংবাদিক ও প্রামাণ্য চিত্রনির্মাতা, সভাপতি, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি

×