ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব

মোস্তাফা জব্বার

প্রকাশিত: ২০:১৮, ১৪ আগস্ট ২০২২; আপডেট: ২০:৫৪, ১৪ আগস্ট ২০২২

বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব

.

কথা ছিল ৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচী বিস্তারিতভাবে ঘোষণা করবেনসবাই জানেন সেটি ঘটেনিপঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর খুনীরা কেবল বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচীই বাতিল করেনি, কালক্রমে দ্বিতীয় বিপ্লব বাস্তবায়ন করার জন্য তিনি যে রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ ওরফে বাকশাল গঠন করেন, সেটিকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একটি গালিতে পরিণত করেপরবর্তীতে আওয়ামী লীগ স্বনামে আবির্ভূত হয়বাকশাল নামক একটি রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগের মূল স্রোতের চাইতে স্বতন্ত্র পরিচয় নিয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়৯৬ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বিরুদ্ধাচরণকারীরা ক্ষমতায় থাকার ফলে আওয়ামী লীগ বাকশাল ভুলে থাকারই চেষ্টা করে এবং ৯৬ বা তার পরে সরকারে থেকেও বাকশাল বা বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব বিষয়ে কোন আলোচনাই করেনিএখনও বাকশাল বা বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব সাধারণভাবে আওয়ামী লীগের আলোচিত বিষয় নয়সাম্প্রতিককালে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচীর কথা বলেন এবং একটি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেনবঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লবের বিভিন্ন কর্মসূচীর ইতিবাচক দিকগুলোও তুলে ধরেনএটি নিশ্চিত করেই বলা যায় যে, বঙ্গবন্ধু যদি তার দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে পারতেন, তবে স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা অনেক আগেই পেতামএমনকি বৈষম্য নামক কোন শব্দকেই রাষ্ট্রের কোথাও খুঁজে পেতাম নাবাংলাদেশের অগ্রগতিকেও আজ ২২ সালে উন্নয়নশীল দেশের হিসাব করতে হতো না, এটি পরিণত হতো উন্নত দেশেদুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের নতুন প্রজন্ম তো দূরের কথা, প্রৌঢ়রাও দ্বিতীয় বিপ্লব সম্পর্কে তেমন কোন ধারণাই রাখেন নাএই বিষয়ে আলোচনা-সমালোচনা বা গ্রন্থাদিও তেমন নেইতবে মনে করি বঙ্গবন্ধুকে সম্পূর্ণ জানতে হলে বাকশাল বা দ্বিতীয় বিপ্লব সম্পর্কেও জানতে হবেখুব সংক্ষেপে চেষ্টা করব দ্বিতীয় বিপ্লবের সারাংশটুকু তুলে ধরতে

দ্বিতীয় বিপ্লবের পটভূমি : বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব আকাশ থেকে ঝরে পড়া কোন বিষয় নয়এটি বস্তুত সারাবিশ্বে বিশ শতকে কমিউনিজম বা সমাজতন্ত্রের যে বিকাশ ঘটে, তারই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর নিজের মতো করে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগস্বাধীনতার পরপরই বঙ্গবন্ধুর এই নীতি ও আদর্শকে মুজিববাদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিলঅনেকে বলতেন এটি গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের অনন্য এক সংমিশ্রণতবে এটি বলতেই হবে যে, কমিউনিজম বা সমাজতন্ত্র বঙ্গবন্ধুর সময়েরই প্রথম ধারণা নয়বরং রুশ বিপ্লব থেকে এর বিকাশসূচনা কার্ল মার্ক্সের দর্শনের ওপরবস্তুত বিশ্বের ইতিহাসে এটি একটি অসাধারণ ধারণা, যা প্রচলিত পুঁজিবাদী দুনিয়ার চাইতে অবশ্যই ব্যতিক্রমীমনে করা হয় ১৯০৫ সালে রুশ বিপ্লবের সূচনা হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ বা লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে ১৯১৭ সালের অক্টোবরে জয়ী হয় সমাজতন্ত্রীরা

১৯১৭ সালে রুশ বিপ্লবের পর ১৯১৯ কমিনটার্ন জন্ম নেয়এই পটভূমিকায় ১৯২০ সালের ১৭ অক্টোবর মানবেন্দ্রনাথ রায় (নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য)-এর সক্রিয়তায় সোভিয়েত ইউনিয়নের তাসখন্দ শহরে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠা হয়প্রতিষ্ঠার সময় পার্টির সভ্য হন ৭ জন১) মানবেন্দ্রনাথ রায়, ২) এভেলিন ট্রেন্ট রায়, ৩) অবনী মুখার্জি, ৪) রোজা ফিটিংহফ, ৫) মুহম্মদ আলি (আহ্মদ হাসান), ৬) মুহম্মদ শফিক সিদ্দিকী, ৭) এমবিটি আচার্য বা এম প্রতিবাদী আচার্যপার্টির সম্পাদক হন মুহম্মদ শফিক সিদ্দিকীকমিনটার্ন (১৯১৯-৪৩) নির্ধারিত নীতি অনুসরণ করে এবং ভারতের পরিস্থিতির উপযোগী একটি কর্মসূচী গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয়কমিনটার্ন ১৯২১ সালে সিপিআইকে কমিউনিস্ট গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়এরপর কলকাতা, বোম্বাই, মাদ্রাজ, লাহোর, কানপুর শহরকে কেন্দ্র করে পার্টি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন মোজাফ্ফর আহ্মেদ, এস এ ডাঙ্গে, সিঙ্গারাভেলু চেট্টিয়ার, গোলাম হুসেন প্রমুখ নেতারাhttps://cpimwb.org.in/wp-content/ uploads/.....

অন্যদিকে, পাকিস্তানে কমিউনিস্ট পার্টির জন্মের বিবরণটা উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে এ রকম : ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর পাকিস্তানে একটি স্বতন্ত্র কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়এ উদ্দেশ্যে ঢাকায় ৭ সদস্যের একটি আঞ্চলিক কমিটি গঠন করা হয় (১৯৪৭)১৯৪৮ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত কমিউনিস্ট পার্টির দ্বিতীয় কংগ্রেসে পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আগত কাউন্সিলররা ৬ মার্চ পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি গঠন করেনসাজ্জাদ জহিরকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়একই দিনে পূর্ববঙ্গের কাউন্সিলরগণ ১৯ সদস্যের পূর্ববঙ্গ প্রাদেশিক কমিটি গঠন করেনএ কমিটির সম্পাদক নির্বাচিত হন খোকা রায়উইকিপিডিয়ার মতে, চীন-সোভিয়েত দ্বন্দ্বের পরিপ্রেক্ষিতে পার্টিতে অভ্যন্তরীণ মতানৈক্য দেখা দিলে ১৯৬৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানে কমিউনিস্ট পার্টি ভাঙ্গনের শিকার হয়ফলত পার্টি মণি সিংহের নেতৃত্বে মস্কোপন্থী গ্রুপ এবং মোহাম্মদ তোয়াহার নেতৃত্বে চীনপন্থী গ্রুপÑ এই দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েকমিউনিস্ট পার্টি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফা কর্মসূচীকে (১৯৬৬) পূর্ণ সমর্থন দিয়েছিল

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ব্রিটিশ ভারত বা পাকিস্তানে রাজনীতির এই ধারার সঙ্গে মোটেও যুক্ত ছিলেন নাতিনি বস্তুত হুসেইন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর শিষ্য ছিলেনব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তিনি মুসলিম লীগকে অবলম্বন করেই অংশগ্রহণ করেন রাজনীতিতেভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি বা অন্য কোন দলের রাজনীতি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেনিবরং স্বাধীনতা উত্তরকালের জনগণের রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সম্মেলনের সভাপতি মওলানা ভাসানী ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল জেলার কাগমারীতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আওয়ামী লীগ ত্যাগ করেন পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর বিপক্ষে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি গঠন করেনতারও পরে মস্কো-পিকিং দ্বন্দ্বে ভাসানীর দল ন্যাপ দুভাগে বিভক্ত হয়মওলানা ভাসানী পিকিংপন্থী ও মোজাফফর আহমেদ মস্কোপন্থী ন্যাপের নেতা থেকে যানকালক্রমে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের কাছে তারা পরিণত হন নিভু নিভু প্রদীপে

তবে আওয়ামী লীগ কমিউনিস্ট বা সমাজতন্ত্রের ধারার রাজনৈতিক দল না হলেও সময়ের দাবিতে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ-সংগঠনসমূহে বাম ধারার রাজনীতির প্রভাব পড়েবস্তুত তখনকার নতুন প্রজন্মের কাছে কমিউনিজম বা সমাজতন্ত্র একটি প্রচ- আকর্ষণ হিসেবে কাজ করেছেআওয়ামী লীগের নেতা সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের একটি অংশ সমাজতান্ত্রিক চেতনায় বেড়ে ওঠে এবং এরই প্রকাশ ঘটে স্বাধীনতার পরবর্তীকালে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের নামে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের জন্মের মধ্য দিয়ে

৭২ সালের সংবিধানে বঙ্গবন্ধু সমাজতন্ত্রকে রাষ্ট্রীয় মূল ৪ নীতির একটি হিসেবে গ্রহণ করেনপরে এই সংবিধানের অনেক কাটাঁেছড়া হয়আজকের দুনিয়াতে সমাজতন্ত্র তেমন বেশি উচ্চারিত শব্দ নয়বিশেষত বার্লিন দেয়ালের পতনের পর, রুশ প্রজাতন্ত্র ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া এবং চীনও সমাজতন্ত্রের আদি ধারণা থেকে সংশোধনবাদী সমাজতান্ত্রিক দেশ হয়ে পড়ায় এখন সারাবিশ্বে হাতেগোনা কয়েকটি সমাজতান্ত্রিক দেশ আছেতারাও সমাজতন্ত্রের সঙ্গে ধনবাদী ব্যবস্থাকে মিশ্রণ করে একটি নতুন জীবনধারা গড়ে তুলেছেকমিউনিস্ট পার্টি বা সমাজতান্ত্রিক দলসমূহের বিস্তারও গ্রহণযোগ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে নাপশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের কয়েকটি রাজ্যে এক সময়ে সমাজতন্ত্রের প্রচন্ড দাপট ছিলকেন্দ্রীয় সরকার গঠন করতে না পারলেও পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা ইত্যাদি রাষ্ট্রে সমাজতন্ত্রী বা কমিউনিস্ট দল বা বাম ফ্রন্ট ক্ষমতায় ছিল দীর্ঘদিনবাংলাদেশকে প্রচলিত ধারণার বাইরে নিজস্ব ধরনের সমাজতান্ত্রিক ধারণার দেশে পরিণত করার রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানবঙ্গবন্ধুর এই প্রচেষ্টার প্রথম প্রকাশ ১৯৭২ সালের সংবিধান, যা এখনও পুরোপুরি না হলেও কার্যকর রয়েছেতিনি ১৯৭৫ সালে তাঁর দল আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগে রূপান্তরসহ রাজনৈতিক ভাবনার কিছু মৌলিক পরিবর্তন করেনঅনেকেই বাকশালকে একদলীয় শাসন বলে না জেনে-বুঝেই গালি দেয়তবে বিজ্ঞজনরা বঙ্গবন্ধুর সেই দুঃসাহসী পদক্ষেপকে দ্বিতীয় বিপ্লব বা শোষিতের গণতন্ত্র বলে আখ্যায়িত করেনতাদের মতে, স্বাধীনতাযুদ্ধ করে আমরা প্রথম বিপ্লব সম্পন্ন করিশোষিতের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে আমরা দ্বিতীয় বিপ্লব সম্পন্ন করতে চেয়েছিকাকতালীয় বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক ঘরানার রাজনৈতিক দলগুলোও এখন তাদের মূল ভাবনা অনুসারে সমাজতন্ত্রের কথা ভুলেও উচ্চারণ করে না

যারা পুরো বিষয়টা বোঝেন না, তাদের ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব, চীনের মাও সেতুংয়ের বিপ্লব, কিউবার ফিডেল ক্যাস্ট্রো, ভিয়েতনামের হো চি মিনের লড়াই ইত্যাদি পাঠ করতে পারেনমার্ক্সের দ্যস ক্যাপিটাল, কমিউনিস্ট পার্টির ইতিহাস, লেনিন ও মাও সেতুংয়ের রচনাবলী পাঠ করলে সমাজতন্ত্র/কমিউনিজম সম্পর্কে আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারবেনবস্তুত রুশ বিপ্লবের পরেই সারাবিশ্বে কমিউনিজম বা সমাজতন্ত্রের ব্যাপক প্রভাব পড়তে থাকেভারতবর্ষও এর ব্যতিক্রম নয়

সমাজতন্ত্রের উপত্তি ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব এবং তার থেকে উদ্ভূত পরিবর্তনের ভেতরে নিহিত, যদিও এটি আগের আন্দোলন এবং ধারণা থেকেও বিভিন্ন ধারণা গ্রহণ করেছেকার্ল মার্ক্স ও ফ্রেডরিক এঙ্গেলসের লেখা কমিউনিস্ট ইস্তেহার বইটিতে  বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কথাটি ব্যবহার করা হয়বইটি ১৮৪৮ সালের সামান্য আগে লেখা হয়বইটি পুরো ইউরোপকে নাড়িয়ে দিয়েছিলইউরোপে ১৯ শতকের শেষ তৃতীয়াংশে মার্ক্সবাদকে গ্রহণ করে সমাজতান্ত্রিক দলগুলো ওপরে আসতে শুরু করেঅস্ট্রেলিয়ান লেবার পার্টি বিশ্বের প্রথম নির্বাচিত সমাজতান্ত্রিক পার্টি, যখন পার্টি ১৮৯৯ সালে কুইন্সল্যান্ড রাজ্যে নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল

১৯৭৫ সালের ২৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীবলে বহুদলীয় সংসদীয় সরকার পদ্ধতি পরিবর্তন করে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করেন এবং দেশের সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে ১৯৭৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বাকশাল নামক একটি একক রাজনৈতিক দল গঠন করেনবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজেই এ দলের চেয়ারম্যান এবং সম্পাদক হন এম মনসুর আলীসংসদে উত্থাপনের মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে এই বিল সংসদে পাস হয়ে যায়ইত্তেফাক, বাংলাদেশ টাইমস, দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ অবজারভার- এ চারটি দৈনিক ছাড়া বাকশাল ব্যবস্থায় সকল সংবাদপত্রের ডিক্লারেশন বাতিল করা হয়১৮টি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বাকশাল গঠিত হয়েছিলবঙ্গবন্ধুর বাকশাল ছিল দেশ বদলে দেয়ার কর্মসূচীবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এম মনসুর আলী, খোন্দকার মোশতাক আহমদ, আবদুল মালেক উকিলসহ মোট ১৫ জন সদস্য নিয়ে বাকশালের নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছিলসমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি জনগণের অভূতপূর্ব সাড়া পানমানুষ বঙ্গবন্ধুর এ দ্বিতীয় বিপ্লবের প্রতি ব্যাপকহারে সাড়া দিয়ে বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেনকিন্তু এরপরের মর্মান্তিক ঘটনাপ্রবাহ আমাদের সবার স্মৃতিতে আছে

  ঢাকা১৪ আগস্ট ২২ 

লেখক :  তথ্যপ্রযুক্তিবিদকলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান- সাংবাদিক, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যার এবং বিজয় ডিজিটাল শিক্ষা সফটওয়্যারের উদ্ভাবক, ডিজিটাল প্রযুক্তির অনেক ট্রেডমার্ক, প্যাটেন্ট ও কপিরাইটের স্বত্বাধিকারী

[email protected]
www.bijoyekushe.net.bd

সম্পর্কিত বিষয়: