ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

ডা. শফিকুর রহমান

সংবিধান সংস্কার পরিষদ জটিলতার সমাধান সংসদকেই করতে হবে

সংসদ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৩:৪১, ১৫ মার্চ ২০২৬

সংবিধান সংস্কার পরিষদ জটিলতার সমাধান সংসদকেই করতে হবে

জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ অধিবেশন নিয়ে জটিলতার সমাধান সংসদেই করতে চায় বিরোধীদল। তবে সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশন শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
জামায়াত আমির বলেন, আজকে (রবিবার) সংসদের চলমান অধিবেশনের দ্বিতীয় কার্যদিবসের কর্মসূচিতে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব, ৭১ বিধিতে কিছু নোটিস ও প্রশ্নোত্তর পর্ব ছিল। আমরা শুরুতেই পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়েছিলাম।
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডারের মাধ্যমে ১২ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে দুটি তথা সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হয়েছে। এটা স্বাভাবিক সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় হয়নি। সেখানে অনেক কথা-শর্ত ছিল। মোট ১৫টি আদেশ সেখানে দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে বেশিরভাগ ছিল গণভোট সংক্রান্ত, আর সাধারণ নির্বাচনও এর সঙ্গে ছিল।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সে অনুযায়ী সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হওয়ার পর স্বল্পতম সময়ের মধ্যে অধিবেশন ডাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী লিখিতভাবে প্রেসিডেন্টকে আহবান জানাবেন। তিনি তাই করেছেন, কিন্তু একটি করেছেন, আরেকটি করেননি বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে। শুধু জাতীয় সংসদের অধিবেশন ডাকা হয়েছে, কিন্তু সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা হয়নি। প্রথমদিন যেহেতু সময় কম ছিল এবং একটা ইস্যুতে ওয়াকআউটও করেছিলাম। আমরা সেখানে কথা তুলেওছিলাম। কিন্তু সেই কথাটা আমলে নেওয়া হয়নি। আজকে অধিবেশনের শুরুতেই আমরা পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করেছি। তখন স্পিকার একঘণ্টা পরে আমাদেরকে ফ্লোর দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, আমরা ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর জারি করা আদেশের পুরোটাই পড়ে শুনিয়েছি এবং বলেছি যে, আজকে (রবিবার) পঞ্জিকা দিবসের শেষদিন। আমরা এর সমাধান চাই।  আমরা সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়েছি, শপথের কি হবে? যারা নেননি তারা কখন নেবেন? সেই সংস্কার পরিষদের অধিবেশন কখন ডাকা হবে? গণভোটকে আদৌ মান্য করা হবে কিনা? ৭০ শতাংশ জনগণ গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছেন, সেই গণভোটের শেষ অবস্থানটা কি হবে? এসব বিষয়ে কথা বলার পর স্পিকার বলেছেন যে, এ বিষয়ে আপনারা সুনির্দিষ্ট নোটিস দিলে আমরা সেটি বিবেচনায় নিয়ে আলোচনা করব। সেই ধারাবাহিকতায় এখন এটা চলতে পারে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা এখন নোটিস করব। নোটিস করে সংসদের  ভেতরেই এর সমাধান করতে চাই। কিন্তু কোনো কারণে যদি সংসদের ভেতরে জনগণের এই প্রত্যাশা বা আকাক্সক্ষার বাস্তবায়ন না পাই, তখন স্বাভাবিকভাবেই আমাদেরকে রাজপথে আন্দোলনে যেতে হবে। কিন্তু আমরা ওটা চাইনি। আজকে যেহেতু বিষয়টি উত্থাপন করেছি, স্পিকার যেহেতু এটা বিবেচনায় নিয়েছেন, নোটিস দিতে বলেছেন, সেই ধারাবাহিকতায় এটা চলতে পারে বলে মনে করি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, আমরা এটা কার্যউপদেষ্টার বৈঠকের বিষয় মনে করি না। আমরা মনে করি হাউজের বিষয়, হাউজেই এটার সমাধান হোক। তারপরে যদি তারা (সরকার পক্ষ) কথা উঠান, আমরা তখন দেখব।
আরেক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংবিধানে তো ২০২৬ সালের ভোট ছিল না। প্রেসিডেন্সিয়াল একই অর্ডার সংবিধানের বাইরে গেলেও মানবেন, আরেক অংশ মানবেন না, না মানলে দুটোই না মানেন। মানলে দুটোই মানতে হবে। একটা কথা আছে-‘পাবলিক ওপিনিয়ন, সুপ্রিম কনস্টিটিউশন’। সেখানে গণভোটে রায় দিয়ে দিয়েছেন। গণভোটের দাবি তো তাদেরও ছিল, আমাদেরও ছিল। আমাদের দাবি ছিল আগে হোক, আর তাদের দাবি ছিল একই দিনে হোক। তাদের দাবিই বাস্তবায়ন হয়েছে। তারা গণভোট চায়নি, এটা তো বলেননি। গণভোটে সংস্কারের পক্ষে প্রস্তাব বিজয়ী হয়েছে।
এর আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

 

প্যানেল / জোবায়ের

×