ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০

নাশকতা-বিশৃঙ্খলা রোধে তৎপর র‌্যাব, পুলিশ

বুদ্ধিজীবী, বিজয় দিবস বড়দিন ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্কতা

​​​​​​​শংকর কুমার দে

প্রকাশিত: ০০:০৭, ১১ ডিসেম্বর ২০২৩

বুদ্ধিজীবী, বিজয় দিবস  বড়দিন ঘিরে  সর্বোচ্চ সতর্কতা

.

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে চলতি ডিসেম্বর মাসে বুদ্ধিজীবী দিবস, বিজয় দিবস, বড়দিন, থার্টি ফার্স্ট নাইট অনুষ্ঠানগুলো হওয়ার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বাড়তি নিরাপত্তা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। পুলিশ প্রশাসন থেকে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন বানচাল করার জন্য মাঠে তৎপর আছে অশুভ শক্তি। পর্দার অন্তরালে কলকাঠি নাড়ছে এবং ষড়যন্ত্রে লিপ্ত দেশী-বিদেশী নানা মহলের কালো হাত। এজন্য যে কোনো ধরনের নাশকতা বিশৃঙ্খলা রোধে তৎপর রয়েছে ্যাব-পুলিশ।

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, আগামী জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল প্রত্যাহারের দাবিতে হরতাল-অবরোধ কর্মসূচির আড়ালে যানবাহনে আগুন দিয়ে পোড়ানো, ককটেল-বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো, গুপ্ত সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ভাঙচুর নাশকতা করে যাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে উগ্র মৌলবাদী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর মেরুদ- ভেঙে দেওয়া হলেও নতুন বছর শুরুর আগে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব। এরপরই রয়েছে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদ্যাপনের মতো বড় অনুষ্ঠান। এই দুটি অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পালনের জন্য নিরাপত্তা জোরদার করার সতর্কতা অবলম্বনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, বিজয় দিবস, বড়দিন থার্টি ফার্স্ট নাইটকে কেন্দ্র করে কেউ যেন কোনো অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা অনলাইনে গুজব সৃষ্টি করে কেউ যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর সুযোগ না পায় সে ব্যাপারে আগে থেকেই সাইবার মনিটরিং জোরদার রাখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট। স্বাধীনতা বিরোধী চক্র ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় দিবসকে আজও মনে-প্রাণে মেনে নিতে পারেনি। সুযোগ পেলেই স্বাধীনতা বিরোধী চক্র নাশকতা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে স্বাধীনতা বিরোধী তৎপতার মাধ্যমে নিজেদের জানান দেয়। এজন্য বিশেষ করে এবার দ্বাদশ নির্বাচনের আগে এসব দিবস অনুষ্ঠান ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বাড়তি নিরাপত্তা সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াত সমমনা দলগুলোর চলমান অবরোধ-হরতালে যানবাহনে আগুন দেয়া, ভাঙচুর, ককটেল বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো, নাশকতা নৈরাজ্য সৃষ্টি করার অভিযোগে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদেরকে ডিসেম্বর মাস কেন্দ্রিক দিবসগুলোতে কোনো পরিকল্পনা আছে কি না সেই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অবরোধ হরতালকে কেন্দ্র করে বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এরই মধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যারা জিজ্ঞাসাবাদে বলেছে, বড় ভাইয়ের নির্দেশে তারা নাশকতা করেছে। নাশকতা করার পর সেইসব ঘটনার ভিডিও করে আবার লন্ডনসহ বিভিন্ন মহলে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। এই ধরনের তথ্য পাওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই ধরনের পরিস্থিতিকে সামনে রেখে বড়দিন থার্টি ফার্স্টকে কেন্দ্র করে নেওয়া হচ্ছে বিশেষ সতর্কতা। ইতোমধ্যেই থার্টি ফার্স্ট নাইটকে কেন্দ্র করে বাইরে কোথাও কোনো ধরনের অনুষ্ঠান করা যাবে না বলে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। ছাড়া সমবেত বা জড়ো হওয়ার ক্ষেত্রেও বেশকিছু বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। এদিন রাজধানীর বারগুলো বন্ধ রাখা হবে। মাতাল হয়ে কেউ যেন গাড়ি চালাতে না পারে, সে ব্যাপারেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চেকপোস্ট পরিচালনা করার মতো পরিকল্পনা করেছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) . . মহিদ উদ্দিন জানিয়েছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে বছর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, বিজয় দিবস, বড়দিন এবং থার্টি ফার্স্ট নাইটকে কেন্দ্র করে বাড়তি সতর্কতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কাজ করা হচ্ছে। গোয়েন্দারা মাঠে কাজ করছেন। তবে চলমান হরতাল-অবরোধকে কেন্দ্র করে বেশকিছু ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে নাশকতার ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। থার্টি ফার্স্ট নাইট উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে উন্মুক্ত স্থানে যে কোনো সমাবেশ প্রতিরোধের বিষয়ে এবার কঠোর থাকবে পুলিশ।

্যাবের আইন গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেছেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, বিজয় দিবস, বড়দিন, থার্টি ফার্স্ট নাইটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছে গোয়েন্দারা। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনলাইনে যে কোনো অপপ্রচার রোধে সাইবার মনিটরিং জোরদার রয়েছে।

 

×