ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে

পরিকল্পিত গুজব

অপূর্ব কুমার/ফজলুর রহমান

প্রকাশিত: ২২:৫১, ৭ জুন ২০২৩

পরিকল্পিত গুজব

গুজবে ভাসছে দেশ। পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে গুজব

গুজবে ভাসছে দেশ। পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে গুজব। ব্যবহার করা হচ্ছে ফেসবুক, ইউটিউব ও হোয়ার্টসঅ্যাপের মতো জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। মার্কিন ভিসানীতির পর গুজব ছড়ানোর ধারা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। দেশ ও বিদেশ থেকে একটি চক্র পরিকল্পিভাবে ছড়াচ্ছে এসব গুজব। বেশিরভাগ গুজবই তৈরি হচ্ছে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে এবং উস্কানিমূলক। উদ্দেশ্য সরকারকে বিব্রত করা, দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করা এবং প্রশাসনের মনোবল ভেঙে দেয়া। সরকারের দিক থেকে অবশ্য বলা হচ্ছে, এসব গুজব-অপপ্রচার ঠেকানোর নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।   
নির্বাচন সামনে রেখে প্রযুক্তিতে দক্ষ সরকারবিরোধী সাইবার কর্মীরাই গুজব ছড়ানোর কাজে লীপ্ত হয়েছে। টার্গেট করে ব্যক্তিগত বিষয়াদি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনীতি, অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, দেশের চিন্তাশীল মানুষের বিরুদ্ধে প্রচার করা হচ্ছে কল্পকাহিনী। তরুণ প্রজন্মের বিরাট একটি অংশ তাদের টার্গেট। আগামী নির্বাচনে যেন এই তরুণরা অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পক্ষে চিন্তা করতে না পারে, সেই বিষয়গুলো বেছে বেছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। 

গুজব ও অপপ্রচারের জবাব দিতে সরকার সজাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন নীতি নির্ধারকরা। আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) উদ্যোগে প্রচারের পাশাপাশি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। গঠন করা হচ্ছে-বিশেষ তথ্য-প্রযুক্তি সেল। সেলের মাধ্যমে কেন্দ্র এবং তৃণমূল নেতাদের কাছে সরকারবিরোধী অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সঠিক জবাব বা তথ্য এবং সরকারের উন্নয়ন চিত্রের আদান-প্রদান করা হবে। যেকোনো অপপ্রচার বা গুজবের জবাব তৃণমূল নেতারাই দিতে পারেন। যাতে জনগণ কোনো অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়।

আইনশৃৃঙ্খলা বাহিনী ও এসব দেখভালের দায়িত্বে থাকা সরকারি সংস্থার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সব সময়ই কোনো না কোনো বিষয় নিয়ে গুজব রটানো হয়। তারা এসবের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নিয়ে থাকেন। ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হয়। আগামী নির্বাচনে গুজব ঠেকানো হবে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিষয়টি মাথায় রেখেই আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। 
রিউমার স্ক্যানার নামে একটি সংগঠনের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত বছর ১৪০০টি গুজব শনাক্ত করেছে সংগঠনটি। এর মধ্যে ধর্মীয় বিষয়ে ২০৬টি, রাজনীতি নিয়ে ৯২টি, জাতীয় ইস্যুতে ১১৫টি, খেলাধুলা নিয়ে ১৫৬টি ও শিক্ষা বিষয়ে ৩৮টি গুজব শনাক্ত করেছে রিউমার স্ক্যানার। এছাড়াও আছে কাতার বিশ্বকাপ নিয়ে ১১১টি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় দেশে ছড়িয়ে পড়া ৬৬টি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্তের সংখ্যাও। এইসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মার্কিন ভিসানীতি এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দৌড়ঝাঁপ নিয়ে নানা কল্পকাহিনী। এমনো গুজব ছড়ানো হচ্ছে যাতে মনে হয় সরকারের পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। কোনো কোনো গুজবে সরকার পতনের দিন তারিখ পর্যন্ত লিখে দেয়া হচ্ছে।
বরাবরই মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে উস্কে দেওয়ার অপ্রচেষ্টা দেখা গেছে। বিশেষ করে পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে, ভিত্তিহীন এমন গুজব রটিয়ে সারাদেশে ছেলে ধরা সন্দেহ অন্তত ২২ জনকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ব্যাংকে রিজার্ভ নেই, বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার মতো দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে, এমন গুজব ছড়িয়ে জনমনে ভীতি সৃষ্টি করা হয়। এই অপরাধে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ইসলামী ব্যাংকের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন (অব.) হাবিবুর রহমানসহ চারজনকে আইনের আওতায় আনে। তারা জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার চারজন এও স্বীকার করেছে, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই পরিকল্পিতভাবে এমন গুজব ছড়ানো হয়েছে। এর আগে কুমিল্লা, রামু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও দিনাজপুরে গুজব ছড়িয়ে মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি ও অস্থিতিশীল করে তোলার চেষ্টা করে একটি চক্র। এমন গুজব নিয়ে পরিস্থিতি নাশকতায় রূপ নেয়। দেশের পাঠ্যপুস্তক থেকে ইসলাম ধর্ম বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের নাস্তিক বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে- এমন দাবি করে সম্প্রতি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়েছে একটি গোষ্ঠী। এর মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে দেশে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে তারা। প্রকৃতপক্ষে এসব গুজবের কোনো ভিত্তি ছিল না। এখনো প্রায় প্রতিটি পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। 
শুধু  দেশে নয়; দেশের বাইরে বসেও কতিপয় লোক সরকার ও রাষ্ট্র বিরোধী নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। ইউরোপ, লন্ডন থেকে কিছু পেজ ও ব্লকে মনগড়া তথ্য দিয়ে লেখা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে বহির্বিশ্বেও বাংলা ভাষাভাষী মানুষও এসব গুজবে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। গুজব সৃষ্টিকারীরা নতুন করে সক্রিয় হয়েছে ভিসানীতি নিয়ে। সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মনোবল ভাঙতে নতুন ইস্যু সৃষ্টি করে অপপ্রচার নিয়ে। এসব অপপ্রচারের মূল টার্গেট ছিলো-আওয়ামী লীগ বা সরকারের প্রতি জনগণকে উস্কে দিয়ে ক্ষমতা থেকে হটানো। সরকার সতর্কতার সঙ্গে বিষয়গুলো মোকাবিলা করার চেষ্টা করছে। 
জামায়াত-বিএনপির অপপ্রচারে যাতে জনগণ বিভ্রান্ত না হয়, সেজন্য অপপ্রচারের জবাব এবং সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরতে নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারবিরোধী অপপ্রচার নিয়ে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোও তৎপর হয়ে উঠেছে। যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের উদ্যোগেও এ বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে। ছাত্রলীগের উদ্যোগে সাইবার ব্রিগেড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাইবার ব্রিগেডের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন প্রচারসহ গুজব প্রতিহত করা হবে।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান জনকণ্ঠকে বলেন, স্বাধীনতার পূর্ব সময় থেকেই একটি চক্র গুজব রটিয়ে আসছে। তারা বলেছে, বাংলাদেশ স্বাধীন হলে ভারতের অধীনে চলে যাবে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এসব গুজব প্রতিহত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ছাত্রলীগ গঠিত সাইবার ব্রিগেড সব সময় জামায়াত-শিবিরের এসব অপপ্রচারের জবাব দিয়ে আসছে। ছাত্রলীগের সাইবার ব্রিগেড অপশক্তির বিরুদ্ধে, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে, রাষ্ট্র বিরোধী ও রাষ্ট্রের গুণীজন বিরোধী গুজবের জবাব দিচ্ছে। আগামী নির্বাচনে যারা রাষ্ট্র ও আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে গুজব রটাবে, তাদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে। সাইবার ব্রিগেড টিম যখনই অপপ্রচার দেখে, তখনই এর সঠিকতা, সত্যতা তুলে ধরছে। এটি প্রতিনিয়ত করা হবে। 
বেশ কিছুদিন ধরেই একটি চক্র নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছিল বাংলাদেশে মার্কিন প্রশাসন নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে। সম্প্রতি বিরোধী দল বিএনপির পক্ষ থেকে সারাদেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহের তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে যারা গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেই সময়ে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি, জেলার এসপি ও ডিসি যারা ছিলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত সে সকল কর্মকর্তাদের বিশেষ তালিকা করছে বিএনপি। বিষয়টি এমন যে তারা এই তালিকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশে পাঠিয়ে সরকারকে বিপদে ফেলার চেষ্টা চালাবে। দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে তারা বাংলাদেশের প্রশাসন, পুলিশসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিদেশীদের জানাচ্ছে। 
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, একটি গ্রুপ নিজস্ব মনগড়া তথ্য দিয়ে ফেসবুকে ভিউ বাড়াতেই দেশে-বিদেশে বসে অপপ্রচার চালাচ্ছে। কুচক্রী মহলের এ ধরনের অপপ্রচারে সরকারি কর্মকর্তাদের মনোবল ভাঙবে না। যারা গুজব রটাচ্ছে, তাদের অনেকেই মনে করে বিদেশের মাটিতে আছি, ভিউ বাড়িয়ে কিছু টাকা উপার্জন করি। এতে আরেকটু ভালোভাবে চলতে পারব। এমনটা যারা মনে করে, তাদের উদ্দেশে বলব- সঠিক তথ্য প্রচার করুন। গুজব ছড়ানো মানবিকভাবে খারাপ কাজ, আইনগতভাবে অপরাধ। এসব অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশ সব সময় সজাগ রয়েছে। যারাই গুজব রটাবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। সাময়িকভাবে গুজব রটিয়ে হয়তো পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা চলছে, তবে সেটি হতে দেওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সবগুলো সংস্থা সজাগ রয়েছে। 
২০১৮ সালে নিরাপদ সড়কের দাবিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে পুঁজি করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিস্থিতি ঘোলাটে করার পাঁয়তারা করেছিল। এক তরুণী ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করে, জিগাতলায় আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ের পাশে নির্বাচনী অফিসে আন্দোলনরত কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে পিটিয়ে মারা হয়েছে। তখন বিভিন্ন স্থান থেকে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা এসে জিগাতলায় জড়ো হন। তারা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অফিসে ইটপাটকেল ছোড়ে।

পরবর্তীতে এ ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। পুলিশ লাইভে আসা ওই মডেলকে আটকও করেছে। পুলিশ বলছে, যাদের ফেসবুক, ইউটিউবের ফলোয়ার বেশি, সেসব আইডি বা পেজে কোনো বিষয় পোস্ট করলে অল্প সময়ের মধ্যে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তখন আটক করা মডেলের ফেসবুক ফলোয়ারও ছিল অনেক। তাই মিথ্যা তথ্যটি সহজে ছড়িয়ে পড়েছে। আর এতে শিক্ষার্থীরা গুজবে কান দিয়ে আওয়ামী লীগের অফিসে হামলার ঘটনা ঘটায়। 

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের তথ্য মতে, ওই ঘটনার পর নায়ক-নায়িকা, মডেলসহ বিভিন্ন পেশার কয়েক শ’ ব্যক্তির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের লিংক সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। মূলত যেসব ভেরিফায়েড আইডি বা পেজে একটি বিষয় পোস্ট করলে অল্প সময়ের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, সেসব আইডিগুলো। এগুলো সব সময়ই মনিটরিং করা হয়। নির্বাচনের সময় কিংবা দেশের কোনো পরিস্থিতিতে এসব আইডি থেকে কোনো মিথ্যা, ভিত্তিহীন, মনগড়া তথ্য দিয়ে গুজব রটানো হয় কিনা, সেটি মনিটরিং করা হবে। এছাড়া পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার ইউনিট টিম রয়েছে। প্রতিটি টিম প্রতিনিয়ত গুজব রটানোকারীদের আইনের আওতায় আনছে। 
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা মুখে যাই বলুন গুজব নিয়ে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। কারণ প্রযুক্তির ছোঁয়া এখন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে পৌঁছেছে। সবার হাতে হাতে এখন স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ। তাই অনলাইন ব্যবহার করে মানুষ এখন হারিয়ে যাচ্ছে এক জগৎ থেকে আরেক জগতে। থানা পুলিশেরও অন্য অপরাধ সামলাতে গিয়ে সাইবার অপরাধ নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। ক্রমশ সাইবার অপরাধ বাড়ছে।  
কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সাইবার, ডিবি সাইবার ও র‌্যাবের সাইবার ইউনিটের কয়েক বছরের পরিসংখ্যান থেকে দেখা গেছে, এই তিনটি ইউনিটের সাইবার ইউনিটের যাত্রার পর থেকে এখন পর্যন্ত মামলা হয়েছে ১৩২৭টি। এসব মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৭৫৯ জন সাইবার সন্ত্রাসীকে। জানতে চাইলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) মো. মনজুর রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, গুজব ঠেকাতে হলে প্রথমে এর বিপরীতে সঠিক তথ্যটা তুলে ধরতে হবে। আমাদের সাইবার টিম এসব নিয়ে কাজ করছে। যারাই গুজব রটাচ্ছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। সাইবার টিম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রতিনিয়ত মনিটরিং করে। এটি অব্যাহত থাকবে। 
গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটারসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব বিষয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। সংস্থাটি বেশকিছু সাইট বন্ধ করে দিয়েছে। বিটিআরসির উপ-পরিচালক (মিডিয়া) মো. জাকির হোসেন খান জনকণ্ঠকে বলেন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিটিআরসি সব সময় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম নজরদারিতে রাখে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটারের সঙ্গে ত্রৈমাসিক সভা করা হয়। আগে এমন বৈঠক হতো না। তিনি জানান, গত ৬ ফেব্রুয়ারি টিকটক, ১৬ ফেব্রুয়ারি টুইটার, ১৩ মার্চ ফেসবুক ও ইউটিউবের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। বৈঠকে আপত্তিকর কনন্টেট, মনগড়া তথ্য দিয়ে পোস্ট করা লিংক সরানোর অনুরোধ করা হয়। তথ্য আদান-প্রদান করা হয়। এতে সংস্থাগুলো রিপ্লাইও দিচ্ছে। শুধু নির্বাচনকালীনই নয়; বিটিআরসি সব সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাইবার সংক্রান্ত সহায়তা চাইলে সহযোগিতা করা হয়।

×