ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ২৬ জুন ২০২৪, ১৩ আষাঢ় ১৪৩১

দুই সাংবাদিক লাঞ্ছিত

জাবিতে অস্ত্র হাতে হল ছাত্রলীগের মহড়া, শিক্ষার্থীকে মারধর 

জাবি সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ২৩:৪১, ২৩ মার্চ ২০২৩

জাবিতে অস্ত্র হাতে হল ছাত্রলীগের মহড়া, শিক্ষার্থীকে মারধর 

তুচ্ছ ঘটনায় মারামারিকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে

তুচ্ছ ঘটনায় মারামারিকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের (জাবি) বটতলায় মহড়া দিয়েছে শাখা ছাত্রলীগের মীর মশাররফ হোসেন হলের নেতাকর্মীরা। এ সময় সংবাদ সংগ্রহকালে দুই সাংবাদিক কয়েক ছাত্রলীগ কর্মীর হাতে লাঞ্ছনার শিকার হন। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ^বিদ্যালয়ের বটতলায় এই ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে মীর মশাররফ হোসেন হলের এক শিক্ষার্থীকে বিশ^কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের কিছু শিক্ষার্থী মারধর করে। এই মারধরের পরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মীর মশাররফ হোসেন হল ছাত্রলীগ নেতাদের নির্দেশে একদল শিক্ষার্থী রামদা, লোহার পাইপ, রড, কাচের বোতলসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হল থেকে মহড়া দিয়ে বটতলার ভাসানী চত্ব¡রে আসে।

এ সময় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন পদধারী নেতার উপস্থিতিতে সংবাদ সংগ্রহকালে বাংলাদেশ টুডের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি জুবায়ের আহমেদ ও ডিবিসি নিউজের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুনের ওপর চড়াও হয়ে মারধরের চেষ্টা করে মীর মশাররফ হোসেন হল ছাত্রলীগের কয়েক কর্মী। বিক্ষিপ্তভাবে হামলা করে জুবায়ের আহমেদের গায়ের জামা ছিঁড়ে ফেলা হয়। বটতলায় প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছিল ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত মীর মশাররফ হোসেন হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দাবি করে, বুধবার সন্ধ্যায় বটতলায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ও মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক ছাত্র আহমেদ গালিবকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের একদল শিক্ষার্থী মারধর করে। এর জের ধরেই তারা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের দিকে যাচ্ছিল।

এদিকে মীর মশাররফ হোসেন হলের শিক্ষার্থীদের অস্ত্রশস্ত্রসহ মহড়ার খবর পেয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের বটতলায় আগে থেকেই অবস্থান নেয় প্রক্টরিয়াল টিম। শিক্ষার্থীরা বটতলায় এসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল অভিমুখে যাওয়ার চেষ্টা করলে প্রক্টরিয়াল টিম তাদের বাধা প্রদান করে। সেখানে ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী বাগবিত-া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থী ও প্রক্টরকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় স্লোগান ও গালাগাল দিতে থাকে।

পরে সাংবাদিককে হেনস্থার ঘটনায় সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকরা প্রতিবাদ করলে হলের নেতাদের নির্দেশে বটতলা এলাকা ত্যাগ করে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা। এ সময় বটতলার রাস্তাজুড়ে তাদের সঙ্গে নিয়ে আসা কাচের বোতল ভাঙচুর করতে করতে তারা হলে ফিরে যায়।
এ সময় ঘটনাস্থলে শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হাসান মাহমুদ ফরিদ, সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফারুক ইমরান, সহ-সভাপতি সজীব হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. বিপ্লব হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক লেলিন মাহবুব উপস্থিত ছিলেন। 
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটন। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাবিবুর রহমান লিটন বলেন, ‘আমরা সাংবাদিককে হামলার ঘটনা সম্পর্কে জানতাম না। জানলে আসতামও না। এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।’
সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল বলেন, ‘আমি ক্যাম্পাসের বাইরে ছিলাম। তাই ঘটনাস্থলে আসতে দেরি হয়েছে। ছাত্রলীগের কেউ দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্যাম্পাসে দেশীয় অস্ত্র থাকলে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তো একরকম শঙ্কা তৈরি হয়। আমরা এসবের বিরুদ্ধে রয়েছি। এক্ষেত্রে হল থেকে এসব নির্মূলে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনকে আমরা সর্বাত্মক সহায়তা করব।’
এদিকে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক জুবায়ের আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগপত্রে তিনি বলেন, ‘আমি সংবাদকর্মী হিসেবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলাম।

এক পর্যায়ে রাত সাড়ে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি, মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রভোস্ট, নিরাপত্তা কর্মীদের উপস্থিতিতে মীর মশাররফ হোসেন হলের একাধিক শিক্ষার্থী আমার ওপর ও আমার সহকর্মী ডিবিসি নিউজের বিশ^বিদ্যালয় প্রতিবেদক আব্দুল্লাহ আল মামুনের ওপর লোহার পাইপ, রামদা নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়। এ সময় তারা ভিডিও করতেছে, ‘ধর ওরে!’, ‘ঐ যে সাংবাদিক, মার ওগোরে’ এ ধরনের কথা বলে। হামলার ফলে মামুন মুখম-লে ও শরীরে আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং আমার শার্ট ছিঁড়ে যায়।’
অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করে বলেন, ‘তাদের কর্মকা- স্পষ্টতই ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ২০১৮’ এর ধারা ৫ এর (গ), (ঘ) ও (ঢ) লঙ্ঘন করে।’
বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, আজকের ঘটনাটি অপ্রত্যাশিত। আমরা এই ধরনের ঘটনাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রেখে তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেই। এক্ষেত্রেও সেটিই করা হবে। এর বাইরে কোন ধরনের অভিযোগ পেলে সেগুলোও খতিয়ে দেখা হবে।

×