ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০৭ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯

ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ২০ লাখ টাকা লুট

সাবেক পুলিশ কনস্টেবল শাহীনসহ ৫ ডাকাত গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০০:০২, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

সাবেক পুলিশ কনস্টেবল শাহীনসহ ৫ ডাকাত গ্রেফতার

ডাকাতির অভিযোগে আটক আসামি ও তাদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র এবং গাড়ি জব্দ করে ডিবি পুলিশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সোনা ব্যবসায়ীর ২০ লাখ টাকা ছিনতাই ঘটনার হোতা সাবেক পুলিশ কনস্টেবল গোলাম মোস্তফা শাহীনসহ ৫ ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) রমনা বিভাগ। শাহীন ছাড়াও গ্রেফতার অন্যরা হলো- শাহাদৎ হোসেন, সাইদ মনির আল মাহমুদ, রুবেল ইসলাম ও জাকির হোসেন। তাদের কাছ থেকে ছিনতাই ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাডো জীপ, লুট করা ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, একটি ওয়াকিটকি, এক জোড়া হ্যান্ডকাফ, ২টি কালো কটি, একটি স্টিলের লাঠি, একটি হাতুড়ি, একটি প্লাস, একটি স্পার্কার (যা পিস্তল সাদৃশ্য) ও একটি র‌্যাত জব্দ করা হয়। বুধবার রাতে ঢাকার উত্তরা ও কলাবাগান এবং নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
ডিবি বলছে, গ্রেফতারকৃত এই চক্রের হোতা শাহীন। সে পুলিশের কনস্টেবল ছিল। ২০০৮ সালে অনৈতিক কাজে তিনি চাকরি হারিয়ে ছিনতাই-ডাকাতি পেশায় লিপ্ত হন। এর আগেও একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছেন। জেল থেকে বেরিয়ে ফের ছিনতাই-ডাকাতিতে লিপ্ত হন। শাহীনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ২০টি মামলা রয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। গ্রেফতার অন্যদের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ১৫ দিন কাজ করে ডিবির রমনা বিভাগ এই চক্রটিকে গ্রেফতার করে। এই চক্রের হোতা শাহীন কোন একসময় পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরি করত। অনৈতিক কারণে চাকরি যাওয়ার পর থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই-ডাকাতি করে আসছিল। চক্রটি ছিনতাই-ডাকাতিতে একটি প্রাডো গাড়ি ব্যবহার করত। গাড়িটিতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নেম প্লেট ব্যবহার করত। আবার একই গাড়িতে বিভিন্ন ধরনের রং করিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে ছিনতাই-ডাকাতি করত।
ডিবি প্রধান হারুন বলেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর নিউমার্কেটের সোনা ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন তাঁতীবাজার থেকে ২০ লাখ টাকা নিয়ে পাঠাও মোটরসাইকেলে নিউমার্কেটের উদ্দেশে রওয়ানা হন। পথে দুই ডাকাত মোটরসাইকেলে ব্যবসায়ীকে অনুসরণ করে। মহিউদ্দিন বেলা ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের মূল প্রবেশ গেটের সামনে আসামাত্র ডাকাতরা জীপগাড়ি দিয়ে তার মোটরসাইকেল ব্যারিকেড দেয়। গাড়ির ভেতর থেকে ৩ জন ডাকাত নেমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোক পরিচয় দেয়। মোটরসাইকেল থেকে মহিউদ্দিনকে জাপটে ধরে গাড়িতে তুলে নেয়।
গাড়ির ভেতরে নিয়ে মহিউদ্দিনকে গামছা দিয়ে চোখ বেঁধে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে চোখে-মুখে আঘাত করা হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর সঙ্গে থাকা ২০ লাখ টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে তার হাত, পা, চোখ বেঁধে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার আব্দুল্লাপুরে রাস্তার পাশে ফেলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মহিউদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে কিছুটা সুস্থ হয়ে পরদিন শাহবাগ থানায় মামলা করেন। এরপর ডিবি রমনা বিভাগ এই মামলার ছায়া তদন্ত শুরু করে। তারা তথ্য-প্রযুক্তির ভিত্তিতে ডাকাত চক্রটি শনাক্ত এবং গ্রেফতার করে।
অতিরিক্ত কমিশনার হারুন আরও বলেন, এই ২০ লাখ টাকার তদন্ত করতে গিয়ে অন্য একটি ডাকাত চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিবির রমনা বিভাগ। তারা হলো- ইমরান হোসেন শাহীদ, হিরা ব্যাপারী, জাবেদ আহমেদ বাবু, আরিফ ইকবাল ও আবুল খায়ের রানা। তাদের কাছ থেকে ৪টি চাপাতি, একটি ছুরি, একটি হাতুড়ি জব্দ করা হয়। বুধবার রাতে রাজধানীর পল্টন থানার জোনাকি সুপার মার্কেট এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা ওই এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তারা সবাই সাবেক কনস্টেবল শাহীনের গ্রুপের সদস্য বলে স্বীকার করেছে। গ্রেফতার পাঁচজনের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় মামলা করা হয়েছে। এই ডাকাত চক্রের সঙ্গে আরও ৬/৭ জন রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।