ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ০৮ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯

এএসআই পুলিশ হেফাজতে

প্রেমের ফাঁদে ফেলে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ

প্রকাশিত: ২২:৫৫, ২৭ অক্টোবর ২০২০

প্রেমের ফাঁদে ফেলে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ রংপুরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এএসআই রায়হানুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এএসআইকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এদিকে সাভারে ঘরে ঢুকে এক পোশাক শ্রমিককে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। আর যশোরের মনিরামপুরে মামার বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া ভাগ্নিকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পাষ- মামা ছয় মাস ধরে এ অপকর্ম করে আসছে বলে জানা গেছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে পিতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার রাত ও সোমবার এসব তথ্য জানা গেছে। খবর স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতাদের। রংপুরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক স্কুলছাত্রীকে অন্যের বাসায় ডেকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এএসআই রায়হানুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত এএসআইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। রবিবার সকালে হারাগাছের কাদেরেরপুল এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাতে বিষয়টি জানাজানি হলে ওই বাসা থেকে আলেয়া (৩৫) নামে এক ভাড়াটিয়া ও তার সহযোগী সুরভীকে আটক করা হয়। এ সময় ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করে পুলিশ। জানা যায়, রংপুর মহানগর পুলিশের হারাগাছ থানার ময়নাকুঠি কচুটারি এলাকার নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এএসআই রায়হানুল ইসলাম। সম্প্রতি হারাগাছ থানা থেকে বদলি হয়ে রংপুর মহানগর ডিবি পুলিশে যোগ দেন এএসআই রায়হান। মেয়েটির সঙ্গে পরিচয়ের সময় রায়হান তার ডাক নাম রাজু বলে জানান। সম্পর্কের সূত্র ধরে রবিবার সকালে ওই ছাত্রীকে কাদেরেরপুল এলাকার শহিদুল্লাহ মিয়ার ভাড়াটিয়া আলেয়া বেগমের বাড়িতে ডেকে নেন রায়হান। সেখানে রায়হান স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর তার আরও কয়েকজন পরিচিত যুবক ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনার পর ওই ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে কৌশলে পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে হারাগাছ থানা পুলিশ নির্যাতিতা ছাত্রীকে ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে তার পরিবারকে খবর দেয়। পুলিশ ওই সময় বাড়ির ভাড়াটিয়া আলেয়া বেগমকে এবং পরে রাতে অভিযান চালিয়ে সুরভী নামে তার এক সহযোগীকে আটক করে। ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে পুলিশ সদস্য রায়হানসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে ধর্ষণ মামলা করেন। ওই ছাত্রীর মা জানান, ডিবি পুলিশের এএসআই রায়হানের সঙ্গে আমার মেয়ে কথা বলত এবং মাঝে মধ্যে দেখা-সাক্ষাত করত। মামলার সাক্ষী ভুক্তভোগীর পাশের বাড়ির চাচা আতিয়ার রহমান জানান, একটি মামলার আসামি ধরতে গিয়ে ভাতিজির সঙ্গে পরিচয় হয় এএসআই রায়হানের। তারপর থেকেই তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়। আমার ভাতিজি তার সঙ্গে কথাবার্তা বলত। রংপুর মহানগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (মাহিগঞ্জ জোন) আল ইমরান বলেন, অসুস্থ ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে রাতে রংপুর মেডিক্যালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন জানান, প্রাথমিক জ্ঞিাসাবাদে তাকে দুজন ধর্ষণ করেছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রাজু নামের একজন পুলিশ সদস্যের কথা জানিয়েছে মেয়েটি। ওই রাজু ডিবি পুলিশের এএসআই রায়হানুল কিনা তা নিশ্চিত হতে রায়হানকেও পুলিশের জিম্মায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া এ ঘটনায় দুই নারীকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। ঘটনার সঙ্গে এএসআই রায়হানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাভারে পোশাক শ্রমিককে ধর্ষণ ॥ সাভারে রাতের আঁধারে ঘরে ঢুকে পোশাক শ্রমিককে (২৬) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারীর বাবা সোমবার সকালে সাভার মডেল থানায় মামলা করেছেন। জানা গেছে, নির্যাতিতা নারী পোশাক শ্রমিক পৌর এলাকার দক্ষিণপাড়া মহল্লার কাঠপট্টিতে একটি শ্রমিক কলোনির কক্ষে ভাড়া থেকে আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। শনিবার রাতে কারখানায় কাজ শেষে বাসায় ফিরে খাওয়ার পর ঘুমিয়ে পড়েন। পরে রাত তিনটার দিকে হাতে আংটি ও মুখে দাড়িওয়ালা অজ্ঞাত এক ব্যক্তি দরজা খুলে ঘরে ঢুকে ওই নারীকে জোর করে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী ওই নারীর আত্মচিৎকারে অন্য ভাড়াটিয়ারা বেরিয়ে আসার আগেই ধর্ষক পালিয়ে যায়। সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় সোমবার সকালে মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মামার বিরুদ্ধে ভাগ্নিকে ধর্ষণের অভিযোগ ॥ যশোরের মনিরামপুরের দেবিদাসপুর গ্রামে মামার বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণী পড়–য়া ভাগ্নিকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দা ধরে এবং রাতে বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে মামা শফিকুল ইসলাম ছয় মাস ধরে এ ঘটনা ঘটিয়ে আসছে বলে নির্যাতনের শিকার মেয়েটির অভিযোগ। নির্যাতনের শিকার ছাত্রী জানায়, তার মায়ের সঙ্গে বাবার ডিভোর্স হলে ১০ বছর ধরে জীবিকার তাগিদে মা বাইরে থাকেন। এরপর মায়ের পাঠানো টাকা দিয়ে মামার বাড়িতে তৈরিকৃত আলাদা ঘরে সে বসবাস করে আসছে। গত ছয় মাস থেকে সুযোগ পেলেই ছোট মামা শফিকুল ইসলাম ঘরে ঢুকে গলায় দা ধরে জোর করে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে। কাউকে বললে রাতে বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেয়াসহ তাকে (ভাগ্নি) বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখানো হয়। গত রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফের জোর করে পাশবিক নির্যাতন চালানোর সময় প্রতিবেশী এক নারী দেখে ফেলায় ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। সোমবার ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী তার নিকটাত্মীয়সহ গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে তার ওপর চালানো পাশবিক নির্যাতনের পুরো ঘটনা খুলে বলে। এ বিষয়ে মেয়েটির আরেক মামা তরিকুল ইসলাম জানান, তিনি বাড়িতে ফিরে ঘটনাটি শুনেছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তার ছোট ভাই শফিকুল ইসলাম বাড়ি থেকে পালিয়েছে। এদিকে অভিযুক্ত শফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি। মনিরামপুর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। রূপগঞ্জে পিতা গ্রেফতার ॥ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ১৩ বছরের কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মোঃ দেলোয়ার হোসেন (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার সকালে ওই কিশোরী থানায় মামলা করলে পুলিশ সন্ধ্যায় অভিযুক্ত পিতা দেলোয়ার হোসেনকে নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করে। দেলোয়ার দাউদপুর ইউনিয়নের আগলা এলাকার মৃত কদম আলীর ছেলে। রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুল হাসান জানান, কিশোরীর মা সৌদি প্রবাসী। তার মা চলে যাওয়ার পর থেকে সে তার নানা সিরাজগঞ্জের কাজীপুর থানার চরদিশ এলাকার চাঁন মিয়ার বাড়িতে থাকত। করোনাকালে স্কুল বন্ধ হওয়ার কারণে তার পিতা তাকে রূপগঞ্জের আগলার বাড়িতে নিয়ে আসে। রবিবার রাতে পাষ- পিতা তার ১৩ বছর বয়সী কিশোরী মেয়েকে বাড়ির পাশের আখ খেতে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ওই ঘটনায় রবিবার সকালে কিশোরী নিজে তার পিতাকে আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় মামলা করে। পরে পুলিশ সন্ধ্যায় দেলোয়ারকে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করে।