ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

নারী পদে পদে নিগৃহীত ॥ এ্যাকশনএইড

জনসেবা খাতে আর্থিক ও সামাজিক বিনিয়োগ হ্রাস পাচ্ছে

প্রকাশিত: ০৬:২৫, ২৯ মার্চ ২০১৮

জনসেবা খাতে আর্থিক ও সামাজিক বিনিয়োগ হ্রাস পাচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশের জনসেবা খাতে আর্থিক ও সামাজিক বিনিয়োগ কমছে। পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি, পর্যবেক্ষণ, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার অভাবে সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হন সাধারণ মানুষ। এক্ষেত্রে নারী সেবা গ্রহীতার অভিজ্ঞতা আরও খারাপ। জনসেবা খাতে সরকারের বাজেট, উদ্যোগ, বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা পর্যালোচনা করে এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে এ্যাকশন এইড বাংলাদেশ। বুধবার ঢাকার ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ আয়োজিত ‘জেন্ডার সংবেদনশীল জনসেবা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি’ বিষয়ক দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জনসেবা খাতের পরিস্থিতি তুলে ধরেন এ্যাকশন এইড বাংলাদেশের ব্যবস্থাপক নুজহাত জাবিন। সম্মেলনে ধারণাপত্রে বলা হয়, সরকারী জনসেবাসমূহ, বিশেষ করে স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও নগরসেবায় বিনিয়োগ হ্রাস পাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের চিত্র তুলে ধরা হয়। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল মোট বাজেটের ৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। যেখানে ২০০৯-১০ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৬ দশমিক ২ শতাংশ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দক্ষ ও পেশাজীবী সেবাদাতার অভাব। শিক্ষাক্ষেত্রে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল মোট বাজেটের ১৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ। যেখানে ২০০৯-১০ অর্থবছরে ছিল ১৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। আবার কেন্দ্রীভূত বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন ব্যবস্থার ফলে নাগরিকদের সঠিক চাহিদার প্রতিফলন বাজেটে হচ্ছে না। বেসরকারী স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবহন সেবার ক্ষেত্রে সরকারের দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে দিন দিন সেবা ব্যয়প্রাপ্তি বহুল ও কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সেবা বেসরকারীকরণের ফলে সেবা নিতে খরচ বাড়ছে সাধারণ মানুষের। ইন্টারন্যাশনাল বাজেট পার্টনারশিপ ওপেন বাজেট সার্ভে ২০১৭ অনুযায়ী, অংশগ্রহণ সূচকে বাংলাদেশের অর্জন ১০০-তে মাত্র ১৩, স্বচ্ছতার সূচকে প্রাপ্তি ১০০-তে ৪১, যার অর্থ তথ্য সরবরাহে বাংলাদেশ এখনও অনেক দুর্বল। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও এ্যাকশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, সরকার নির্বাচিত হয় মানুষের সেবার জন্য। আর দেশের সকল নাগরিকের জন্য একই ধরনের সেবা নিশ্চিত করা উচিত। কিন্তু সেবা দেয়ার জন্য যে পরিকল্পনা করা হয় তা আসলে সবার কথা চিন্তা করে করা হয় না। ১০ বছর আগের বাজেটে জনসেবা খাতে যে হারে বরাদ্দ ছিল বর্তমানে যে ঠিক সেই হারে বরাদ্দ দিতে হবে, তা ভাবা ঠিক না। বাস্তব চিত্র হলো, প্রয়োজন অনুসারে জনসেবা খাতে বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন হয় না। বাংলাদেশ আরবান ফোরামের উপদেষ্টা মোস্তফা কাইয়ূম বলেন, ‘আমাদের দেশে উন্নয়নে পিছিয়ে পড়া মানুষের অবদানই বেশি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি এই জনগোষ্ঠী আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা কিংবা বাস্তবায়নে জায়গা পায় না। আবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে জনসেবা পেতে গিয়ে তারা নিগৃহীত হন। যে কৃষক বা শ্রমিক দেশের উন্নয়নে সবচাইতে বেশি ভূমিকা রাখে, সেই আবার হাসপাতাল কিংবা পরিবহনের সেবা নিতে গিয়ে নিগৃহীত হন।’ আয়োজকরা বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনসেবা খাতগুলো জেন্ডার সংবেদনশীল নয়। এ বিষয়ে সাম্প্রতিক একটি গবেষণার ফলও তুলে ধরা হয়। এ্যাকশন এইডের ‘নারীর জন্য নিরাপদ নগরী’ নামে একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ৪২ শতাংশ নারী হাসপাতালে গিয়ে খারাপ ব্যবহারের শিকার হন। ওই গবেষণায় অংশ নেয়া ৮৪ শতাংশ নারী মনে করেন শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সেবাসমূহ অনিরাপদ। গবেষণায় উঠে এসেছে, নারীরা প্রতিনিয়ত হয়রানির (স্পর্শ, বাজে ও অগ্রহণযোগ্য মন্তব্য) শিকার হন। গবেষণায় দেখা গেছে, ক্রমাগত নগরায়ণের ফলে শহরে জেন্ডার সংবেদনশীল জনসেবা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ দিন দিন বাড়ছে।
×