ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

কেশবপুরে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ

প্রকাশিত: ০৬:১৯, ১৬ মে ২০১৭

কেশবপুরে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ

নিজস্ব সংবাদদাতা, কেশবপুর, ১৫ মে ॥ পাঁজিয়া বাজারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে রবিবার রাতে সংঘর্ষ সংঘটিত হয়েছে। সংঘর্ষে উভয় দলের প্রায় ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। আহতদের কেশবপুর ও খুলনা মেডিক্যাল কজেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় এ থানায় আওয়ামী লীগের পক্ষে মামলার প্রস্তুতি চলছে। সংঘর্ষের বিষয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দেয়া হয়েছে। পাঁজিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পাঁজিয়া ইউনিয়নের চেয়াম্যান শফিকুল ইসলাম মুকুল জানান, রবিবার রাতে পাঁজিয়া মাছ বাজারে বিএনপি আয়োজিত সভায় উপজেলা বিএনপির ১৫ নেতাকর্মী উপস্থিত হয়। যশোর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও কেশবপুরের মজিদপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবু বকর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, শেখ হাসিনা ও কেশবপুরের সাংসদ ইসমাত আরা সাদেকের শাড়ি খুলে নিতে হবে। এ সময় পাঁজিয়া যুবলীগের আহ্বায়ক লাভলুসহ কিছু ছেলে সভায় গিয়ে এ ধরনের বক্তব্য না দেয়ার অনুরোধ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিএনপির লোকজন যুবলীগের ছেলেদের ওপর হামলা করে ৫/৬ জনকে আহত করে। আহতরা হলোÑ পাঁজিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক আবু সাঈদ লাভলু, শফিকুল ইসলাম, সুমন হালদার, রফিক, জহুরুল হক, নাজমূল ও মোঃ মাসুম। আহতদের কেশবপুর ও খুলনা মেডিক্যাল কজেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপরদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে তাদের সভায় যুবলীগের ছেলেরা হামলা করে ভাংচুর ও মারপিট করে পাঁজিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান ইনতাজ গাজী, ওজিয়ার রহমান, আবুল কাশেম, বেলাল হোসেন, ইবাদ আলিকে আহত করেছে। তাদেরও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দু’পক্ষের আহত ইনতাজ গাজী, আবু সাঈদ লাভলুকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ রেফার করা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জে আহত ১৫ স্টাফ রিপোর্টার মুন্সীগঞ্জ থেকে জানান, মেরিন ইনস্টিটিউটে সোমবার সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। ইনস্টিটিউটটে ব্যাপক ভাংচুর হয়েছে। আহত ছাত্রলীগ নেতা রিফাত ব্যাপারিকে প্রথমে টঙ্গীবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল এবং সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার ডান পায়ের নিচের অংশ কেটে গেছে। তবে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান দাবি করেছেন জামায়াতের লোকজন তার পায়ের রগ কেটে দিয়েছে। অন্য আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। মিজানুর রহমান জানান, দুই বছর ধরে এই সরকারী ইনস্টিটিউট চালু হলেও অফিসে বা প্রতিষ্ঠানটির কোথাও বঙ্গবন্ধুর ও প্রধানমন্ত্রী ছবি টানানো হয়নি। এর প্রতিবাদে অধ্যক্ষ আকরাম আলীর অপসারণ দাবি করে ছাত্রলীগ সমাবেশ করে। আকস্মিক জামায়াতের সমর্থক কিছু শিক্ষার্থী এসে হামলা চালায়। এতে অন্তত পাঁচ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী আহত হয়। পরে জামায়াতের এই লোকজনই প্রতিষ্ঠানটিতে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এই বিষয়ে বার বার চেষ্টা করেও অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ এক ছাত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, ছাত্রলীগ ভেতরে এসে অধ্যক্ষের উপর চড়াও হয়। পরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এসে প্রতিরোধ করে। এখানে জামায়াতের কোন ঘটনা নয়। তবে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠানটিতে কমিটি গঠনের চেষ্টাও করেছিল। কিন্তু অধ্যক্ষ এখানে রাজনীতি করতে দিতে চাননি।