ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবৈধদের ফেরত পাঠানোয় উদ্বেগ

প্রকাশিত: ০৫:৪০, ১ আগস্ট ২০১৬

যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবৈধদের ফেরত পাঠানোয়  উদ্বেগ

তৌহিদুর রহমান ॥ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ধাপে ধাপে অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরুর পর সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দেশটি ইতোমধ্যেই দুই ধাপে ৬৮ অবৈধ বাংলাদেশীকে ফেরত পাঠিয়েছে। আরও কয়েকটি ধাপে সেখানকার অবৈধ বাংলাদেশীকে ফেরত পাঠাবে দেশটি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের শক্ত পদক্ষেপ আশা করছেন প্রবাসীরা। সূত্র জানায়, গত ২৭ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪১ বাংলাদেশীকে ফেরত পাঠানো হয়। সেখানে দীর্ঘদিন কারাভোগের পর তাদের ফেরত পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার। এর আগে গত ৭ এপ্রিল ২৭ বাংলাদেশীকে ফেরত পাঠায় দেশটি। ১৬৯ বাংলাদেশীকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবৈধ প্রবাসীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া জোরদার করায় বিভিন্ন দেশের অবৈধ প্রবাসীদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। সূত্র জানায়, বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ফেরত পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ বিমান ব্যবহার করছে। দুই ধাপে বিশেষ বিমানে করেই বাংলাদেশীদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জনসাধারণের বিরূপ প্রতিক্রিয়া এড়াতে গভীর রাতে এসব বিমানে করে প্রবাসীদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এ বিশেষ বিমানে বাংলাদেশের পাশাপাশি নেপাল, ভারত, পাকিস্তানের নাগরিকও ছিল। একই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিককে নিয়েই যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছেড়ে আসা বিমান সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিকদের নামিয়ে দিয়ে ফেরত যায়। যুক্তরাষ্ট্র সরকার এ বছর থেকেই অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর জন্য এ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ফলে বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশীদেরও ফেরত পাঠানো হবে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে যাতে কোন ভুল বোঝাবুঝি না হয়, সে বিষয়ে সতর্কতাও অবলম্বন করছে দেশটি। ফেরত পাঠানোর আগেই এসব দেশের সরকারের সঙ্গে এ নিয়ে বৈঠক করে। কোন্ প্রেক্ষিতে এসব নাগরিককে ফেরত পাঠানো হচ্ছে, সে বিষয়ে ব্যাখ্যাও দেয়া হয়। বাংলাদেশীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরুর আগে গত ২৯ মার্চ ঢাকা সফরে আসে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একটি প্রতিনিধি দল। সরকারের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠকে তারা জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অবৈধ অভিবাসীদের তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশীও রয়েছেন। ধাপে ধাপে অবৈধ বাংলাদেশী অভিবাসীকে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মার্কিন সরকার অবৈধ অভিবাসীদের সব ধরনের আইনী সহায়তা দিয়েছে। আদালতে তারা তাদের যুক্তি উপস্থাপন করেছে। তাদের বৈধতার দাবির পক্ষে যুক্তি দেখাতে না পারায় সব প্রক্রিয়া শেষে তাদের ফেরত পাঠানো হবে। মার্কিন প্রতিনিধি দল ঢাকা থেকে ফিরে যাওয়ার পরই বাংলাদেশীদের ঢাকায় ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুই ধাপে যেসব বাংলাদেশী ফেরত এসেছেন তারা একেবারে নিঃস্ব হয়ে ফিরে এসেছেন। এসব বাংলাদেশীর অনেকেই ব্রাজিল, ভেনিজুয়েলা, পেরু, মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয়ও চেয়েছিলেন। সেখানকার আদালতে এ নিয়ে মামলাও চলে। তবে শেষ পর্যন্ত এসব বাংলাদেশীকে ফেরত পাঠানো হয়। মোট ১৬৯ বাংলাদেশীকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথম ধাপে ২৭ বাংলাদেশীকে ফেরত পাঠানোর পর দ্বিতীয় ধাপে আরও ৪১ বাংলাদেশীকে ফেরত পাঠায় দেশটি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে অস্বস্তি বেড়েছে। কেননা এ প্রক্রিয়া চলতে থাকলে আরও বাংলাদেশীকে ফেরত পাঠানো হতে পারে। অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের নীতি অব্যাহত রাখায় ওবামা প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে সেখানে। প্রবাসী বাংলাদেশীসহ বিভিন্ন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো নিয়ে সমালোচনার ঝড় শুরু হয়েছে মার্কিন গণমাধ্যমেও। ফেরত পাঠানো অভিবাসীদের সঙ্গে অমানবিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে ওবামা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। অবৈধ অভিবাসী বহিষ্কারের মার্কিন নীতির বিরুদ্ধে এখন মাঠে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। বর্তমানে প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশীসহ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের হাতে গ্রেফতারকৃত ৩৪ হাজার অভিবাসীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠন। যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার সংগঠন দেশিজ রাইজিং আপ এ্যান্ড মুভিংয়ের (ড্রাম) সংগঠক কাজী ফৌজিয়া জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুই ধাপে বাংলাদেশীদের ফেরত পাঠানোর পর প্রবাসীরা চরম ক্ষুব্ধ। এভাবে কোন দেশের নাগরিককে ফেরত পাঠানো অত্যন্ত অমানবিকও। কেননা একজন লোক জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে ও তার সব সম্পত্তি বিক্রি করে এখানে এসেছিলেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদনও করেছিলেন। তবে তাদের ওই আবেদন নাকচ করে দেয়া হয়। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কারাগারে এখনও বেশকিছু বাংলাদেশী বিচার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। এদের অনেককেই দেশে ফেরত পাঠানো হবে। বাংলাদেশীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের শক্ত অবস্থান নেয়া উচিত। তা না হলে আরও বাংলাদেশীকে ফেরত পাঠানো হবে।