ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৩ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

বসের কাছে বেতন বাড়ানোর কথা যেভাবে বলবেন

প্রকাশিত: ১৩:১২, ২২ এপ্রিল ২০২৪

বসের কাছে বেতন বাড়ানোর কথা যেভাবে বলবেন

বেতন বাড়াতে চাইলে যা করতে হবে

দেশে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে। বাড়ছে জীবন সংশ্লিষ্ট নানা খরচও। ফলে অনেকেরই সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এমতাবস্থায় বেতন কিছু বাড়লে মন্দ হয় না। মাসের শেষে কিছুটা স্বস্তি যে পকেটে বাড়তি হিসেবে জমা থাকে, সেটি নিশ্চিত।

যারা চাকরিজীবী, তাদের সংসার চালাতে পুরোপুরি নির্ভর করতে হয় মাসের বেতনের ওপর। সেক্ষেত্রে যাদের টানাটানির সংসার তাদের বেতন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। অনেক সময় আকারে ইঙ্গিতে ঊর্ধ্বতনকে বলা হলেও সরাসরি আর বলা হয়ে ওঠে না। কখনো লজ্জা বা কখনো সংকোচে আটকে যায় বেতন বাড়ানোর কথাটি।

আরও পড়ুন : ইউনিটেক শতভাগ চাকরি ও স্বনির্ভর উচ্চশিক্ষার মডেল

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ঠিক সময়ই অফিসে এসে, ঠিকঠাক কাজ করে এবং বসের প্রশংসা পেলেও বেতন বাড়ানোর চিঠি আর আসে না। এটিও মাথায় রাখা দরকার যে, বিশ্ব অর্থনীতি এখনও কিছুটা টালমাটাল পরিস্থিতিতেই আছে। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠানই বাড়তি ব্যয়ে খুব একটা আগ্রহী থাকে না।

গবেষণায় দেখা গেছে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে বেতন বাড়ানোর দাবি তোলা কর্মীর সংখ্যা বেশি না। প্রায় ৬০ শতাংশ কর্মীই এ ধরনের দাবি তোলায় অনাগ্রহী থাকেন। অন্যদিকে চাকরিদাতা কর্তৃপক্ষের ৮৪ শতাংশই এমন দাবি না আসা পর্যন্ত খুব একটা নড়চড় করে না। অর্থাৎ নিজ থেকে বেতন বাড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা একটু কমই।

তাহলে কীভাবে বলবেন বেতন বাড়ানোর কথা? বলবেনই বা কখন?
প্রথমত, একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে, হরেদরে দাবি তুলে লাভ নেই। বেতন বাড়ানোর দাবিটি বা অনুরোধটি যৌক্তিক হওয়া খুবই প্রয়োজন। না হলে দেখা গেল, কথা উঠেই চাপা পড়ে গেল। তাই ধৈর্যশীল হওয়ার বিকল্প নেই। সঠিক সময়ের অপেক্ষায় থাকতেই হবে।

দ্বিতীয়ত, এই সঠিক সময় বলতে সঠিক যুক্তি বোঝার সময়কে চিহ্নিত করা যায়। কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই নানা ঝুট ঝামেলায় ডুবে থাকলে, ঠিক সেই সময়ে বেতন বাড়ানোর দাবি তুললে বিপরীত ফলও হতে পারে। তাই এমন সময়ই কথাটি তুলতে হবে, যখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও অনুকূল। যত যাই বলুন না কেন, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিরোধে গিয়ে কোনো লাভ হয় না। বরং আলাপ–আলোচনার মাধ্যমে দাবি আদায় করে নেওয়াই উপযুক্ত পন্থা।

তৃতীয়ত, বেতন বাড়ানোর কথা বলার আগে নিজের পারফরম্যান্স সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা জরুরি। প্রয়োজন নিজের অর্জনের পাল্লাকে ভারি করে নেওয়াও। অর্থাৎ, নিজের কর্মনৈপুণ্যের বিষয়টি জানান দিয়ে এবং প্রমাণ করেই বেতন বাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। প্রতিষ্ঠান যখন দেখবে কোনো কর্মী তার সম্পদ, তখন কর্তৃপক্ষও বিষয়টি যুক্তিসঙ্গতভাবে ভাবার চেষ্টা করবে। তাই প্রতিষ্ঠানের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠাটা প্রয়োজন।

যেসব কারণে কর্মস্থলে ছাঁটাইয়ের তালিকায় নাম ওঠেযেসব কারণে কর্মস্থলে ছাঁটাইয়ের তালিকায় নাম ওঠে
চতুর্থত, নিজের কর্মতৎপরতা বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে কিছুটা অতিরিক্ত শ্রম দিতেই হবে। বেতন বাড়ানোর কথা তুললেন, কিন্তু আগের মতো করেই কাজ করে গেলেন—তাহলে আর কর্তৃপক্ষ বেতন বাড়াতে রাজি হবে কেন? তাই আপনি যে প্রতিষ্ঠানের জন্য নিবেদিতপ্রাণ, সেটি বোঝাতে হবে। সেটি হলে চূড়ান্ত মূল্যায়নে কিছু বাড়তি গুরুত্ব পেতেই পারেন।  

পঞ্চমত, নেতৃত্বের গুণাবলী বাড়াতে হবে। একজন সাধারণ কর্মীর বেতন বাড়ানোর চেয়ে নেতৃত্বের গুণাবলী থাকা কর্মীর বেতন বাড়াতে প্রতিষ্ঠান বেশি আগ্রহী থাকে। তাই বলে অন্যদের যে উন্নতি হয় না, তা নয়। তবে নেতৃত্বের গুণাবলী থাকা কর্মীর ক্ষেত্রে সেটি হয় তুলনামূলক দ্রুত হয়। সূতরাং সেভাবে প্রস্তুতি নিয়েই বেতন বাড়ানোর প্রসঙ্গ তুলতে হবে।

দীর্ঘ সময় অফিসে থাকলেই কি কাজ ভালো হয়?দীর্ঘ সময় অফিসে থাকলেই কি কাজ ভালো হয়?
সবশেষ কথা হলো, কর্মস্থলে এ ধরনের কাজ করার আগে ইতিবাচক ও নেতিবাচক—দুই ধরনের প্রতিক্রিয়ার জন্যই মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। আপনি চাইলেন, আর বেতন বেড়ে গেল—সব সময় এমন নাও হতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে হতাশ হলে চলবে না। বরং নিজের অবস্থান ও দাবিকে যৌক্তিক করে তুলতে সচেষ্ট হতে হবে।

তথ্যসূত্র: ফোর্বস, মেন্টাল ফ্লস ও এবিসি নিউজ

এবি 

×