ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১

চাকরি প্রার্থীদের জন্য পাঁচ পরামর্শ

চাকরি বাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:৫৩, ৯ জুন ২০২৩

চাকরি প্রার্থীদের জন্য পাঁচ পরামর্শ

ভালো চাকরি বলতে প্রথমেই আমাদের সরকারি চাকরির কথাই মনে হয়

ভালো চাকরি বলতে প্রথমেই আমাদের সরকারি চাকরির কথাই মনে হয়। দ্বিতীয় ধাপে আসে ব্যাংক। তারপর বড় কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠিত এনজিও ও অনেকের পছন্দ, বিশেষ করে যারা সমাজসেবার প্রতি বা সমাজসেবামূলক বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। তবে যেখানেই কাজ করার আগ্রহ থাকুক না কেন, প্রয়োজন কিছু প্রস্তুতির। তারই ৫টি সূত্র আলোচনা করা হলো-
বাড়তি কোর্স
কিছু বিশেষায়িত চাকরি আছে যেখানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকলেই চলে না, বাড়তি কিছু জানা আছে কিনা সেটাও জানতে চান চাকরিদাতারা। সেক্ষেত্রে আপনার পছন্দের কাজ অনুযায়ী করে রাখতে পারেন বাড়তি কিছু কোর্স। যেমন এনজিও’তে গবেষণাধর্মী চাকরি সহজে পেতে চাইলে ভালো কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে সেরে ফেলতে পারেন ‘এমইএএল (মনিটরিং, ইভালুয়েশন, অ্যাকাউন্টেবিলিটি ও লার্নিং)’ কোর্সটি।
চোখ রাখুন জবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়ায়
সহজে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে জানতে ওয়েবে না গেলেই নয়। বর্তমানে ডজনখানেক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ওয়েব প্ল্যাটফর্ম আছে। এর মধ্যে নামকরা কয়েকটিতে সিভি তৈরি করে রাখুন। অলসতার কারণে নিয়মিত জব সাইটে চোখ বোলান না অনেকে। বন্ধু বা আত্মীয়দের কাছে ধরনা না দিয়ে বরং প্রতিদিন একবার করে সমস্ত চাকরির বিজ্ঞাপনে চোখ বুলান। নিজেকে যোগ্য মনে করলে আবেদন করতে থাকুন। যত বেশি আবেদন করবেন তত চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। ফ্রি কোনো ব্লগসাইটে নিজের একটি ডিজিটাল পোর্টফোলিও তৈরি করে রাখতে পারেন। যেখানে নিজের সমস্ত কাজ বা অভিজ্ঞতার লিংক, ছবি এসব পোস্ট করতে পারবেন। প্রয়োজনে ওই লিংকও উল্লেখ করুন চাকরির আবেদনপত্রে। কিছু জব অ্যালার্ট জাতীয় অ্যাপও ইনস্টল করে নিন ফোনে। এতে চাকরির বিজ্ঞপ্তি পোস্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাবেন নোটিফিকেশন।
আবার আপনি যে ধরনের প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেতে ইচ্ছুক, ওইসব প্রতিষ্ঠানগুলোর স্যোশাল মিডিয়া নিয়মিত অনুসরণ করুন। কারণ অনেক প্রতিষ্ঠানই তাদের ফেসবুক পেইজেই সবার আগে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পোস্ট করে। আবার ওই প্রতিষ্ঠান অনেক সময় উন্মুক্ত সেমিনার বা ওয়েবিনারেরও আয়োজন করে। সেগুলোতে নিয়মিত অংশ নিলেও আপনি হয়ে উঠতে পারেন পরিচিত মুখ। এতে ওই প্রতিষ্ঠানের কাজ সম্পর্কে আপনার আইডিয়া মজবুত হবে। দক্ষতাও বাড়বে।
কভার লেটার হোক দুর্দান্ত
জীবনভর কত কিছুই তো লিখেছেন, তো কভার লেটার লিখতে আরেকজনের কাছে হাত পাততে হবে কেন? নিজের সম্পর্কে আপনি নিজেই তো ভালো জানেন। তবে মাথায় রাখতে হবে, আলাদা আলাদা চাকরির ক্ষেত্রে কভার লেটারেও থাকা চাই ভিন্নতা। মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা কিন্তু ওটা মনযোগ দিয়েই পড়বেন। সেক্ষেত্রে আবেদনপত্রে যতটা সম্ভব নিজের ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলুন। লেটার তৈরির আগে ও পরে অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিতে পারেন। ভালো করে দেখে নিন ব্যাকরণ ও বানান।
সব চাকরির আবেদনে একই কভার লেটার ব্যবহার না করে আলাদা আলাদা করে কয়েকটি তৈরি করে রাখুন। আপনি যদি বিপণন সংক্রান্ত চাকরিতে আবেদন করে থাকেন, তবে সেখানে আপনার বিপণনের অভিজ্ঞতা ও আগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরবেন বেশি করে।
কাজে লাগান লিঙ্কডইন
গোটা কর্পোরেট দুনিয়ায় এখন একটি বড় নাম লিঙ্কডইন। সরাসরি সাইট বা অ্যাপ ইনস্টল করে নিলেই হলো। সময় নিয়ে নিজের সব তথ্য দিন। নিয়মিত আপডেট রাখুন নিজেকে। জব অপশনে গিয়ে ঢুঁ মারুন মিনিট পাঁচেক। সরাসরি চাকরিদাতার সঙ্গে সংযোগ ঘটাতে অ্যাপটির জুড়ি নেই। লিঙ্কডইন-এ অ্যাকটিভ থাকা মানেই চাকরির সম্ভাবনা বেড়ে যাবে অনেকখানি। এ ছাড়া এর মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং কাজও পেতে পারেন।
ট্র্যাক রাখুন আবেদনের
কোথায়, কতদিন আগে ও কোন মাধ্যমে আবেদন করেছেন তার হিসাব রাখাও কিন্তু জরুরি। একই প্রতিষ্ঠানে দু’বার আবেদন করাটাকে নেতিবাচক চোখেই দেখা হয়। তাই একটি এক্সেল ফাইলেই চাইলে ট্র্যাক রাখতে পারেন আপনার যাবতীয় আবেদনের। এ ছাড়াও ট্র্যাকিং সিস্টেমে আপনি সাক্ষাৎকারের সময়সূচি ও আবেদনের ডেডলাইন সম্পর্কে জানতে পারবেন।
ছাত্রজীবনের শেষদিকে এসেই এভাবে নিজেকে প্রস্তুত করে নিন। তাতে পছন্দের কোথাও যখন আবেদনের সুযোগ আসবে, ঠা-া মাথায় নিজের তৈরি চমৎকার আবেদনপত্রটি নিশ্চিন্তে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জমা দিয়ে দিতে পারবেন।
চাকরি বাজার ডেস্ক

×