ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

মুখে কালো কাপড় বেঁধে চাকরিপ্রত্যাশীদের পিএসসিতে আন্দোলন

স্টাফ রিপোর্টার 

প্রকাশিত: ১০:৫৩, ১১ নভেম্বর ২০২২

মুখে কালো কাপড় বেঁধে চাকরিপ্রত্যাশীদের পিএসসিতে আন্দোলন

চাকরি প্রত্যাশাদের বিক্ষোভ মিছিল

মুখে কালো কাপড়, কপালে লাল ফিতা এবং হাতে কালো ফাইল। ফাইলের ওপর লেখা কালো বিধি। কখনো সাদা মুখোশ পরিধান, কালো চশমা চোখে লাল ফিতায় কোর্ট ফাইল বাঁধা। আবার দুর্নীতিবিরোধী শপথ পাঠ, মোমবাতি প্রজ্বলন, দঁড়িতে মুলা ঝুলিয়ে রাখা। 

পাবলিক সার্ভিস কমিশনের ফটকের সামনে অভিনবভাবে এভাবেই টানা ১১ দিন আন্দোলন করছে নন- ক্যাডার পদে চাকরি প্রত্যাশীরা। বৃহস্পতিবার আন্দোলনকারীরা বসে ছিল খাঁচায় বন্দি কবুতর হাতে।

১১ দিন আন্দোলন চললেও পিএসসির কোন কর্মকর্তা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। বৃহস্পতিবার পিএসসিতে একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। সেখানে কি কথা হয়েছে আামরা জানি না। আশায় ছিলাম এ বিষয়ে কেউ আমাদের সঙ্গে কথা বলতে আসবেন। কিন্তু এদিনেও আমাদেরকে তারা হতাশ করেছে। তারা চাকরিপ্রত্যাশীদের বারবার প্রত্যাখান করছে। এভাবে আর কতদিন চলবে? বলছিলেন নন-ক্যাডার চাকরীপ্রত্যাশীরা। 

আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক রাকিব উদ্দিন জনকণ্ঠকে বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। এরপরও আমরা আন্দোলন থেকে সরে যাচ্ছি না। সামনে আমাদের আরও কঠোর কর্মসূচি আসবে। দাবী আদায়ে সব চাকরীপ্রত্যাশীরা একাট্টা বলেও দাবি করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার  দুপুর ১২টা থেকে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ফটকে মিছিল, কবিতা, গান ও বক্তৃতার মাধ্যমে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা। এ সময় আন্দোলনকারী চাকরিপ্রত্যাশীরা কালো বিধির কালো হাত ভেঙ্গে দাও-গুঁড়িয়ে দাও, দুর্নীতির কালো হাত ভেঙে দাও-গুঁড়িয়ে দাও,  লাল ফিতার কালো হাত ভেঙ্গে দাও-গুঁড়িয়ে দাও, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য মানি না মানবো না স্লোগানে মিছিল করেন।

বর্তমান নিয়মে ক্যাডার পদে নিয়োগের পর উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নন ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হত। এরপর সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চাহিদা অনুযায়ী প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে অপেক্ষমাণ থেকে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হত। পরবর্তী বিসিএস না হওয়া পর্যন্ত এইভাবেই নিয়োগ কার্যক্রম চলত।

যা শুরু হয়েছিল ২৯ তম বিসিএস থেকে। কিন্তু গত আগস্টে পিএসসি নন ক্যাডার পদে নতুন নিয়ম চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ক্যাডার পদের পাশাপাশি নন ক্যাডার পদের সংখ্যাও বিসিএসে উল্লেখ রাখা হবে। 

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, আগের বিসিএসে নন ক্যাডার পদে উত্তীর্ণরা যে সুযোগ পেয়েছেন। তা থেকে তারা বঞ্চিত হবেন। যে কারণেই ছয় দফা দাবিতে টানা অবস্থান কর্মসুচি পালন করেছে ৪০তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নন-ক্যাডার তালিকায় থাকা অপেক্ষমাণ চাকরিপ্রার্থীরা। 

পিএসসির নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাডার পদের পাশাপাশি নন-ক্যাডার পদের সংখ্যাও উল্লেখ থাকবে। তবে চলমান ৪০তম, ৪১তম, ৪৩তম ও ৪৪তম বিসিএসের ক্ষেত্রে কোনো বিসিএসের সময় শূন্য পদের চাহিদা এসেছে, তা পর্যালাচনা করে মেধার ভিত্তিতে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগর সুপারিশ করা হবে। 

গত ৬ অক্টাবর ৪০তম বিসিএস উত্তীর্ণ নন-ক্যাডার সুপারিশপ্রত্যাশী ও চাকরিপ্রার্থীরা পিএসসির সামনে প্রথম মানববন্ধন করে কর্মসূচি শুরু করেন। ৬ দফা দাবিতে পরে ১৬ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে পিএসসির কাছে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করে কর্মসুচি দেন তারা। এসব দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলজের চাকরিপ্রার্থীরা গত ২০ অক্টাবর একযোগে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেন।

এসআর

×