ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১

ইসরায়েলের হয়ে যুদ্ধে যেতে চাচ্ছে বহু ভারতীয়

প্রকাশিত: ১১:১০, ১৬ অক্টোবর ২০২৩

ইসরায়েলের হয়ে যুদ্ধে যেতে চাচ্ছে বহু ভারতীয়

ছবি: সংগৃহীত।

ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত নওর গিলন সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন, হামাসের সঙ্গে তার দেশের চলমান যুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য বহু ভারতীয় ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

গিলন বলেন এত সংখ্যক ভারতীয় এই যুদ্ধে স্বেচ্ছাসেবক হতে চেয়েছেন যা দিয়ে আরও একটা বাহিনীই বানিয়ে ফেলা যায়। কিন্তু এত সংখ্যক ভারতীয় কেন যুদ্ধে যেতে চাইছেন বা ইসরায়েলের পক্ষ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করছেন? অনেকের মনেই এই প্রশ্ন উঠেছে।

আরও পড়ুন :ইসরাইলি বর্বরতার বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ

সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাতকারে নওর গিলন বলেছেন, আমার কাছে এটা খুবই আশাপ্রদ ঘটনা এবং খুবই আবেগের ব্যাপার। শনিবার যখন পুরো চিত্রটাই পরিষ্কার হয়নি সে সময়ই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছ থেকে আমরা যে পরিমান সমর্থন পেয়েছি তা ভুলবার নয়। তিনি বিশ্বের নেতাদের মধ্যে একজন, যিনি খুব স্পষ্ট ভাষায় নিন্দা জানিয়ে টুইট করেছেন। এটা আমরা কখনোই ভুলব না।

ভারতের মন্ত্রী, বড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও তিনি সাহায্যের আশ্বাস পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন গিলন। এই সাক্ষাতকারেই তিনি বলেছেন, এটা ছবির একটা দিক। সামাজিক মাধ্যমেও এর প্রভাব দেখুন। খুবই আশ্চর্যজনক। সবাই আমাকে বলছে যে, আমি স্বেচ্ছাসেবক হতে চাই এবং আমি ইসরায়েলের পক্ষে লড়াই করতে চাই। এই শক্তিশালী সমর্থন নজিরবিহীন।

ইসরায়েলের ওপর হামাসের হামলার পর থেকেই অনেক ভারতীয় সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী পোস্ট করছেন যে, তারা ইসরায়েলের হয়ে যুদ্ধে যেতে চান। ভারতে ইসরায়েলি দূতাবাসের এক্স-হ্যান্ডেলকে ট্যাগ করে যারা সমর্থন করছেন, তার মধ্য থেকে কিছু আবার রাষ্ট্রদূতের এক্স হ্যান্ডেলে রিপোস্ট করা হচ্ছে, ধন্যবাদও জানানো হচ্ছে।

অনেকেই আবার ক্রিকেট বিশ্বকাপ দেখতে স্টেডিয়ামে গিয়ে ইসরায়েলের পতাকা তুলে ধরে তাদের প্রতি সমর্থনের ডাক দিচ্ছেন। বিশ্বকাপের মাঠ থেকে এরকম কিছু ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্টও করা হয়েছে।

এই সব সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের অন্যান্য পোস্ট দেখলে আন্দাজ পাওয়া যায় যে এদের একটা বড় অংশই হিন্দুত্ববাদী এবং মুসলিমবিরোধী। সেকারণেই কি হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে চাইছেন তারা?

যেমন হামাসের হামলার পরেই যার পোস্ট বেশ ভাইরাল হয়েছে তিনি নিজেকে ‘সনাতনী’ বলে দাবী করা চন্দন কুমার শর্মা। সামাজিক মাধ্যম এক্সের এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ইসরায়েলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। ভারত সরকার আদেশ দিলে ভারতের প্রতিটি জাতীয়তাবাদী হিন্দু ইসরায়েলে গিয়ে তাদের সমর্থনে যুদ্ধ করবে।

তারপর থেকে এ ধরনের আরও পোস্ট দেখা যাচ্ছে। বিজেপি নেতা ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক বিমল শঙ্কর নন্দ বলেন অনেকে ইসরায়েলের হয়ে যুদ্ধে যেতে চাইছে আর তারা হিন্দুত্ববাদের অথবা বিজেপি সমর্থক কি না, তা নিয়ে তার দল এখনই কোনো মতামত দিতে পারবে না।

তিনি বলেন, একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে আমি বলতে পারি যে, ইসরায়েলের পাশে যে বহু ভারতীয় দাঁড়াচ্ছেন তার দুটি দিক আছে। প্রথমত হামলার ভয়াবহতার যে ছবি দেখা গেছে, সেটা বিশ্বের বহু দেশের সঙ্গে ভারতের নাগরিকদেরও নাড়িয়ে দিয়েছে। আর দ্বিতীয়ত ইহুদীদের প্রতি ভারতীয়দের একটা সহানুভূতিও আছে।

তার দাবি, গত শতাব্দীতে ইসরায়েলিরা নাকি বেশি অত্যাচারিত হয়েছে। আবার ভারত এবং ইসরায়েল দুটিই সুপ্রাচীন সভ্যতা। সেদিক থেকেও ভারতের মানুষদের একটা বড় অংশ ইসরায়েলের সঙ্গে একাত্মতা অনুভব করে।

এদিকে দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও মধ্যপ্রাচ্যের বিশেষজ্ঞ অশ্বিনী কুমার মহাপাত্র বলেন, হামাস নিজেদের লড়াইটাকে ইসলামের লড়াই হিসেবে তুলে ধরেছে। আর সে কারণেই হিন্দুত্ববাদীরা ইসলামবিরোধী জায়গা থেকে ইসরায়েলের পাশে দাঁড়াচ্ছে।

হামাস আর ইসরায়েলের লড়াইতে ভারতীয়রা দুইভাগ হয়ে গেছেন। হিন্দুত্ববাদীরা মুসলিম বিরোধিতার কারণে ইসরায়েলের পক্ষে দাঁড়াচ্ছেন। আবার মুসলমানরা হামাসের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।

টিএস

×