ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১

ভারতে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা নিহত ৫০ আহত পাঁচ শতাধিক

জনকণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:৫৭, ৩ জুন ২০২৩; আপডেট: ১২:১২, ৩ জুন ২০২৩

ভারতে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা নিহত ৫০  আহত পাঁচ শতাধিক

ভারতে ট্রেন দুর্ঘটনার পর আটকাপড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন বিভিন্ন সংস্থার সদস্য ও স্থানীয়রা

ভারতের ওড়িশা প্রদেশে দুই ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ৫০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন পাঁচ শতাধিক। শুক্রবার সন্ধ্যায় ওড়িশার বালেশ্বর জেলার বাহাঙ্গা বাজার স্টেশন এলাকায়  এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া ও হিন্দুস্তান টাইমসের।
পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর তিনটা ১৫ মিনিটের দিকে কলকাতার শালিমার স্টেশন থেকে তামিলনাড়ু রাজ্যের রাজধানী চেন্নাইয়ের উদ্দেশে কলকাতার শালিমার স্টেশন থেকে ছেড়ে যায় ১২৮৪১ আপ করমন্ডল এক্সপ্রেস। তার পর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পার হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা নাগাদ ট্রেনটি পৌঁছায় বালেশ্বরে। তার আরও এক ঘণ্টা ২০ মিনিট পর বাহাঙ্গা বাজারের কাছে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ২৩ কামরার ট্রেনটি।
ভারতের কেন্দ্রীয় রেল দপ্তরের দক্ষিণ-পূর্ব শাখার শীর্ষ জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেন, বালেশ্বরের কাছে করমন্ডল এক্সপ্রেসে কিছু একটা হয়েছে। আমরা কোনোভাবে এখনো কিছু জানতে পারিনি। জানার চেষ্টা করছি।
এদিকে হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে প্রায় ৫০টি অ্যাম্বুলেন্স। তবে হতাহতের সংখ্যা এত বেশি যে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে সেগুলো। ওড়িশা রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ সচিব প্রদীপ জেনা  
এক টুইটবার্তায় জানিয়েছেন, আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসতে বিশেষ বাসের ব্যবস্থা করছে রাজ্য প্রশাসন।
গোবিন্দ মন্ডল নামে দুর্ঘটনার শিকার এক যাত্রী হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন, আমি বাঁচার আশা পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছিলাম। মনে হয়েছিল, আমি মরে গেছি। তার পর কামরার কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে আমিও ভাঙা একটি জানালা দিয়ে কোনো রকমে বের হয়ে আসি।
গোবিন্দ মন্ডল আহত হয়েছেন তবে সেই আঘাত গুরুতর নয়। স্থানীয় একটি হাসপাতাল প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু ট্রেনের বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রের খবর, একটি মালগাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছিল করম-ল এক্সপ্রেসের। এর ফলে ট্রেনের প্রথম তিনটি কামরা বাদে সবক’টি কামরাই লাইন থেকে ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সংবাদকর্মীরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার অভিঘাত এতটাই বেশি ছিল যে করম-ল এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনটি মালগাড়ির ওপর উঠে গেছে।
অন্যদিকে, ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। টুইটারে এক ক্ষুদেবার্তায় তিনি লিখেছেন ‘ওড়িশায় ট্রেন দুর্ঘটনায় মর্মাহত। এই দুঃসময়ে আমি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক। রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’
করমন্ডল এক্সপ্রেসে দুর্ঘটনায় বাংলা থেকে ওড়িশায় প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও ওড়িশা সরকার এবং রেলের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছেন। এ কথা নিজেই টুইট করে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার রাতে মমতা টুইটে লেখেন, ‘‘গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যায় বালেশ্বরের কাছে একটি পণ্যবাহী ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাত্রীবাহী শালিমার-করমন্ডল এক্সপ্রেসের। আমাদের কয়েকজন মানুষ গুরুতর জখম হয়েছেন। আমরা আমাদের রাজ্যের যাত্রীদের জন্য ওড়িশা সরকার এবং দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছি। জরুরি ভিত্তিতে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ০৩৩-২২১৪৩৫২৬/২২৫৩৫১৮৫ নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করা যাবে। যাত্রীদের উদ্ধার, পুনরুদ্ধার, সাহায্য এবং সহায়তার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা ওই টুইটে আরও জানিয়েছেন, ওড়িশা সরকার এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করতে এবং উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করার জন্য ঘটনাস্থলে ৫-৬ সদস্যের একটি দল পাঠানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মুখ্য সচিব এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ রাখছেন।
এ ছাড়া করমন্ডল এক্সপ্রেসে দুর্ঘটনায় খবরাখবরের জন্য হাওড়া স্টেশনের জন্য হেল্পলাইন নম্বর- ০৩৩-২৬৩৮২২১৭। খড়গপুর স্টেশনের জন্য হেল্পলাইন নম্বর- ৮৯৭২০৭৩৯২৫, ৯৩৩২৩৯২৩৩৯। বালেশ্বর স্টেশনের জন্য হেল্পলাইন নম্বর- ৮২৪৯৫৯১৫৫৯ এবং ৭৯৭৮৪১৮৩২২। শালিমার স্টেশনের জন্য হেল্পলাইন নম্বর- ৯৯০৩৩৭০৭৪৬।
১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে রেল ॥ করম-ল এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার এবং আহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার রাতে টুইটে এ কথা জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি জানান, ওড়িশায় মর্মান্তিক এই রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারপিছু ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে তার মন্ত্রক। গুরুতর আহতদের ২ লাখ এবং অল্প চোট-আঘাত যারা পেয়েছেন তাদের ৫০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি, রাতেই রেলমন্ত্রী ওড়িশার বালেশ্বরের ওই দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। সেই সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন রেল বোর্ডের চেয়ারম্যান অনিল কুমার লাহোটি।

×