ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯

নৈতিক পুলিশের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন

ইরানে এবার হিজাব পুড়িয়ে বিক্ষোভ

খবর বিবিসি ও এএফপির

প্রকাশিত: ২১:২৪, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২

ইরানে এবার হিজাব পুড়িয়ে বিক্ষোভ

ইরানে পুলিশী হেফাজতে তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় বুধবার তেহরানে বিক্ষোভ হয়

পুলিশ হেফাজতে নারীর মৃত্যুর জেরে ইরানের নতুন নতুন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বুধবার তেহরানসহ অন্যান্য শহরে নারীরা হিজাব পুড়িয়ে বিক্ষোভ করেন। পুলিশের নির্যাতনে নিহত তরুণী মাশা আমিনির ছবি নিয়ে এ বিক্ষোভ হয়। এই তরুণীর ছবি নিয়ে বুধবার তুরস্কের ইস্তান্বুলেও বিক্ষোভ হয়েছে। দেশটিতে গত ছয়দিন ধরে বিক্ষোভ চলছে। বুধবার ১৫ শহর ও নগরে ছড়িয়ে পড়ে। খবর বিবিসি ও এএফপির।
বুধবার পর্যন্ত নিহত বেড়ে ছয়জনে পৌঁছেছে। বিক্ষোভ থেকে অন্তত এক হাজার জনকে আটক করা হয়।
তেহরানের উত্তরের শহর সারিতে শ’ শ’ নারী বিক্ষোভের অংশ হিসেবে হিজাবে আগুন ধরিয়ে দেন। ইরানের রাজধানী তেহরানে গত সপ্তাহে মাশা আমিনিকে হিজাব আইন ভঙ্গের অভিযোগে গ্রেফতার করেছিল ইরানের নৈতিকতা রক্ষা পুলিশ। আটক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই তিনি অচেতন হয়ে যান। তিনদিন কোমায় থাকার পর গত শুক্রবার তার মৃত্যু হয়। এরপর ইরানে এবার হিজাব পুড়িয়ে বিক্ষোভ ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার নাদা আল-নাশিফ বলেছেন, অভিযোগ রয়েছে, আটকের পর মাশা আমিনির মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেছিল পুলিশ এবং তাদের গাড়িতে মাথা ঠুকে দেয়। তবে তার ওপর নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ। তাদের দাবি, মাশা আমিনি হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে মারা গেছেন। কিন্তু আমিনির পরিবার জানিয়েছেন, তিনি পুরোপুরি সুস্থ এবং সবল ছিলেন। ইরানের পশ্চিমাঞ্চলের কুর্দিস্তান থেকে এসেছিলেন বাইশ বছর বয়সী মাশা আমিনি। সেখানেও বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ গুলি চালানোয় সোমবার তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির একজন সহকারী আমিনির পরিবারের সঙ্গে সোমবার দেখা করেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ করা হয়েছে যে, সেখানে তিনি বলেছেন, অধিকার ভঙ্গ করা হলে সেটা রক্ষায় সব প্রতিষ্ঠান কাজ করবে।

ইরানের সিনিয়র রাজনীতিক জালাল রাশিদি প্রকাশ্যেই সেদেশের নৈতিক পুলিশের সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের পুলিশ তৈরি করা একটি ভুল হয়েছে যা ইরানের জন্য শুধু ক্ষতি বয়ে এনেছে। কুর্দিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নজরদারি করে, নরওয়ে ভিত্তিক এমন একটি সংগঠন হেনগাও জানিয়েছে, শনিবার এবং রবিবার কুর্দিস্তানের বিক্ষোভে দাঙ্গা পুলিশের গুলি, রাবার বুলেট এবং টিয়ার গ্যাসে অন্তত ৩৮ জন আহত হয়েছে। সেখানে তিনজন পুরুষ বিক্ষোভকারী গুলিতে নিহত হন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তেহরানে নারীরা তাদের মাথার হিজাব খুলে ফেলে দিয়ে চিৎকার করছেন ‘স্বৈরাচারীর মৃত্যু চাই’- যে সেøাগানে ইরানে সাধারণত শীর্ষ নেতাকে বোঝানো হয়। সেখানে আরও  সেøাগান দেয়া হয়, ‘বিচার চাই, স্বাধীনতা চাই, হিজাব পরা বাধ্যতামূলক চলবে না।’