ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা সিনাই উপত্যকায় আশ্রয় নিচ্ছে

মিসর-ইসরাইল সংঘাতের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:১৯, ২৮ মে ২০২৪

মিসর-ইসরাইল সংঘাতের শঙ্কা

রাফাহ সীমান্তে মিসরীয় সশস্ত্র বাহিনী

মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা থেকে সরে এসে ইসরাইলের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়েছে মিসর। দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলোও ইসরাইলের সমালোচনার মাত্রা তীব্র করেছে। গত ৪৫ বছরের মধ্যে মিসরীয় গণমাধ্যমে ইসরাইলবিরোধী এত তীব্রতা দেখা যায়নি। মঙ্গলবার রাফাহ সীমান্তে ইসরাইলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) এবং মিসরীয় সেনাদের মধ্যে বিরল গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

এতে এক মিসরীয় সেনা নিহত হয়েছেন। তবে ইসরাইলি সেনাদের মধ্যে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এদিকে রাফাহতে ইসরাইলের হামলার কারনে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা মিসরের সিনাই উপত্যকায় আশ্রয় নিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ইসরাইল ও মিসরের মধ্যে সংঘাত বেধে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর জেরুজালেম পোস্ট ও আলজাজিরার।
আইডিএফ জানিয়েছে, এক মিসরীয় সেনা প্রথমে ইসরাইলি সেনাদের ওপর গুলি চালালে তারা পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় এক মিসরীয় সেনা নিহত হয়। এ ঘটনার পর গোলাগুলি বন্ধ করার জন্য মিসরীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন আইডিএফ কর্মকর্তারা। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইডিএফ।

এ নিয়ে মিসরীয়দের সঙ্গে একটি সংলাপ চলছে বলেও জানিয়েছে তারা। গত জুনে ইসরাইলে অনুপ্রবেশ করে তিন আইডিএফ সেনাকে হত্যা করেছিল এক মিসরীয় পুলিশ অফিসার। মিসর দাবি করেছিল, মাদক চোরাকারবারিদের ইসরাইলে ধাওয়া করার সময় এই ঘটনা ঘটেছিল। মিসরের হঠাৎ করে এমন আক্রমণাত্মক হওয়ার কারণ হলো রাফাহতে ইসরাইলি হামলা।

মিসরীয় কর্মকর্তারা বলছেন, রাফাহতে হামলা মানে ১৯৭৯ সালের শান্তি চুক্তি ঝুঁকির মুখে ফেলা। ইতোমধ্যে মিসরের কিছু সরকারি কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তারা ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস করবেন এবং তেল-আবিব থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করবেন। অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় এবার ইসরাইলের সঙ্গে মিসরের সংঘাতে জড়ানোর শঙ্কা বেশি।

কারণ ইসরাইলের রাফাহ অভিযানকে মিসরীয় কর্মকর্তারা তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করছেন। পাশাপাশি মিসর মনে করে নিজ জন্মভূমিতে ফিলিস্তিনিদের নিরাপদে থাকার অধিকার রয়েছে।

×