ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

গরমকালে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়লে

ডা. ইমনুল ইসলাম

প্রকাশিত: ০০:৪৭, ১৪ মে ২০২৪

গরমকালে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়লে

গ্রীষ্মকাল মানেই কমবেশি পেটের সমস্যা হতে পারে

গ্রীষ্মকাল মানেই কমবেশি পেটের সমস্যা হতে পারে। তাপমাত্রার পারদ দিন দিন যত চড়বে তত প্রভাবিত হবে শরীরের হজম ক্ষমতা। গরম বাড়লে পরিপাকতন্ত্রের গতি ধীর হয়ে যায়। সেখান থেকেই হজম সংক্রান্ত নানান জটিলতার সৃষ্টি হয়। বদহজম, খাদ্যে বিষক্রিয়া, খিদে মরে যাওয়ার মতো একাধিক সমস্যা দেখা  দেয়। এই সব সমস্যা বেশি হলে একটা সময় ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায় কয়েকগুণ বিশেষ করে শিশুদেরও। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ডায়রিয়া তিন রকমের হয়।
অ্যাকিউট ডায়রিয়া : খাদ্যে বিষক্রিয়া কিংবা গ্যাস্ট্রোএনট্রাইটিসের সমস্যার কারণে এমনটা হয়। এক্ষেত্রে পেট খারাপ, পেট খামচে ধরা, গা গোলানো, বমি ভাব ও জ্বর আসে। শিশুদের তাই দেখা দিচ্ছে। তাই সচেতন থাকলে ভালো হয় বেশি। 
পার্সিসট্যান্ট ডায়রিয়া : এক্ষেত্রে অ্যাকিউট ডায়রিয়ার সমস্যাগুলো প্রায় ২ থেকে ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত থাকে।
ক্রনিক ডায়রিয়া : এক্ষেত্রে ডায়রিয়ার এই সব সমস্যা প্রায় ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত থাকে। শিশুদের বেলায় ও তাই।  একাধিক কারণে পরিপাকতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই সব সমস্যার সৃষ্টি হয়।
ঘরোয়া উপায় : গরমকালে শরীর সুস্থ রাখতে ও ডায়রিয়ার মতো পরিস্থিতি এড়াতে কিছুটা ঘরোয় উপায়ও বেছে নিতে পারেন। তবে শিশুদের বেলায় দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। 
আদা চা :  ঘরোয়া পদ্ধতিতে শরীর সুস্থ রাখতে আদা ভীষণ উপকারী। এটা অন্ত্রকে সুস্থ করে তোলে, হজমে সাহায্য করে ও পেট খারাপ সারিয়ে তোলে। এই আদা চা দিনে অন্তত ২ থেকে ৩ বার খেতে পারেন।
ধনেপাতা ও লেবু : লেবুর অ্যান্টি ইনফ্লেমেটারি কার্যকারিতা রয়েছে আর ধনেপাতার পাতায় বিশেষ তেল থাকে যা পেটকে আরাম দেয়।
পুদিনা পাতা ও লেবু : লেবুর অ্যান্টি ইনফ্লেমেটারি কার্যকারিতা যেমন রয়েছে তেমন পুদিনা পাতারও অ্যান্টি ভাইরাল ও অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল কার্যকারিতা রয়েছে যা ডাইজেসটিভ জুসের প্রবাহ বাড়িয়ে তোলে এবং হজমে সাহায্য করে।
বেদানা : পেট খারাপে দারুণভাবে ভালো কাজ করে বেদানা। ফল ছাড়াও বেদানার পাতাও পাতলা পায়খানার সমস্যা সারিয়ে তোলে।
জোয়ান ও পানি খান :
জোয়ান খাবার হজমে সাহায্য করে পেট ফোলা এবং পেট ফাঁপা কম করে।
লেবু ও লবণ :  পুদিনা পাতার পাশাপাশি লেবু ও লবণ খেলেও পাতলা পায়খানার সমস্যা কম করা যায়।
তবে এই সব ঘরোয়া টোটকার পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না। অন্যদিকে এই গরমে যাতে হজমের সমস্যা না হয় তার জন্য অতিরিক্ত তেল মসলা যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। বাইরে কেটে রাখা ফল ও পানীয় খাবেন না। বাসিখাবার এড়িয়ে চলুন। পরিমিত এবং হালকা খাবার খান।
চিকিৎসা : প্রাথমিকভাবে শিশুসহ বড়দের ওআরএসই স্যালাইন ডায়রিয়ার  প্রধান চিকিৎসা। অ্যাকিউট ডায়রিয়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আপনা থেকেই সেরে যায়। কিন্তু ডিহাইড্রেশন হলেই বিপদ। তাই রোগীর ডিহাইড্রেশনের দিকে সচেতন থাকা উচিত। তবে ব্যাকটেরিয়ার কারণে ডায়রিয়া হলে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়, তবে শিশুদের অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার জেনে বুঝে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে দেওয়া উচিত।

কিছু ডায়রিয়ায় নরফ্লক্সাসিন জাতীয় ওষুধ দেওয়া হয়। কোনো রোগীকে কী ডোজে ওষুধ দেওয়া হবে, তার অন্যান্য শারীরিক অবস্থা কেমন ইত্যাদি কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসক ধরন বুঝে  ওষুধ দেন। আর ডায়রিয়া সেরে গেলেই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করবেন না। কোর্স সম্পন্ন না করলে ড্রাগ রেসিস্ট্যান্স হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
লেখক : শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ, আলোক হেলথ কেয়ার লিমিটেড, মিরপুর -০৬ ঢাকা। ১০৬৭২

×