ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০

সংস্কৃতি সংবাদ

শিল্পের আলোয় বর্ণিল গণজাগরণের সাংস্কৃতিক উৎসব

সংস্কৃতি প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:০৫, ৩ ডিসেম্বর ২০২৩

শিল্পের আলোয় বর্ণিল গণজাগরণের সাংস্কৃতিক উৎসব

শিল্পকলায় গণজাগরণের সাংস্কৃতিক উৎসবে নৃত্য পরিবেশনা

সন্ধ্যার অবকাশে বইয়ের ভাঁজ থেকে কবিতাগুলো উঠে আসে কণ্ঠস্বরে। বাকশিল্পীদের শিল্পিত উচ্চারণে কবিতার অন্তর্নিহিত ভাবসমূহ পরিণত হয় দৃশ্যকল্পে। সান্ধ্যকালীন সে আয়োজনে কাব্যিক ভুবন থেকে শ্রোতার মনন ডুব দেয় সুরের গহিনে। মৌলবাদ প্রতিরোধ কিংবা সম্প্রীতি থেকে ভাব-ভালোবাসার বার্তাবহ গানের বাণীতে উদ্দীপ্ত হয় মনপ্রাণ। নৃত্যশিল্পীদের নাচের নান্দনিকতায় চঞ্চল হয় দর্শক নয়ন। বয়ে যায় ভালোলাগার অনুভব। মুগ্ধতার আবেশে ঝরেছে করতালি। আর এভাবেই শিল্পের সমন্বিত সাংস্কৃতিক পরিবেশনায়  বর্ণিল রূপ পেয়েছে গণজাগরণের সাংস্কৃতিক উৎসব।

শনিবার শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে নন্দন মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই মনোহর আয়োজন। শিল্পের আশ্রয়ে মানুষকে জাগিয়ে তোলার প্রত্যয়ে কয়েক সহ¯্রাধিক শিল্পীর অংশগ্রহণে এদিন থেকে দেশব্যাপী শুরু হলো গণজাগরণের সাংস্কৃতিক উৎসব ও ছয় দিনব্যাপী গণজাগরণের সংগীত উৎসব। 
পরিবেশনা পর্বে  জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ও মানবিকতার আহ্বানে গান শুনিয়েছে ঢাকা সাংস্কৃতিক দলের কণ্ঠশিল্পীরা। সম্মেলক  কণ্ঠে তারা গেয়ে শোনায়Ñ এ মাটি নয় জঙ্গিবাদের/এ মাটি মানবতার/বাউলের একতারা কয়/মানুষই মোর অবতার ...। তাদের পরিবেশিত দ্বিতীয় গানের শিরোনাম ছিল ‘জয় সত্যের জয়’। ওয়ার্দা রিহাবের নেতৃত্বাধীন ধৃতি নৃত্যালয়ের নাচের উপস্থাপনাটি মুগ্ধতা ছড়িয়েছে শিল্পরসিকদের নয়নে। বৃন্দ নৃত্যের সমান্তরালে ভেসে বেড়িয়েছে ‘নোঙর তোল তোল সময় যে হলো হলো’ শীর্ষক সুরবাণী। মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথার উচ্চারণ নিয়ে মঞ্চে আসে উদ্ভাসনের বাকশিল্পীরা। মীর বরকতের নির্দেশনায় তারা পাঠ করে মুহম্মদ নূরুল হুদা রচিত কবিতা ‘জেগে থাক একাত্তর’।

কেরানীগঞ্জের গায়েন কাজল দেওয়ান শুনিয়েছেন ‘মন সওদাগর সওদা করো থাকিতে বেলা’ ও ‘মন মানুষ হইতে চাও জাতি ধর্ম ছেড়ে’ শীর্ষক সংগীত। ‘লাল পাহাড়ের দেশে যা, রাঙ্গামাটির  দেশে যা’  গানের সুরে  নাচ  করে সাভার নৃত্যদল। অনিমা মুক্তি গোমেজ শুনিয়েছেন ‘আমার হার কালা করলাম রে’। আনসার আলী গেয়েছেন ফকির লালন সাঁইয়ের গান ‘ভাবের তালা’। ‘নীল অঞ্জন ঘন পুঞ্জ ছায়ায়’ গানের সুরে নৃত্য পরিবেশন করেন সাভারের শিল্পী দিশা মনি পাল। কবি শান্তা মারিয়া পাঠ করেন ‘জননী বাংলাদেশ’ শিরোনামের স্বরচিত কবিতা। ‘যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে’ গানের সুরে নাচ করে নবাবগঞ্জ নৃত্যদল। কেরানীগঞ্জ সংগীত দল পরিবেশন করে ‘দেখে যাও, ওরে ও পথিক ভাই’ শীর্ষক সংগীত।

উদ্দীপনামূলক নজরুলসংগীত  ‘কারার ঐ লৌহকপাট’ পরিবেশন করে ধামরাই সংগীত দল।  সাভার সঙ্গীত দল পরিবেশন করে ‘তীরহারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেব রে’। সব শেষে সম্প্রীতির বারতায় ‘বাংলার হিন্দু বাংলার বৌদ্ধ বাংলার খ্রিস্টান বাংলার মুসলমান’ গানের সুরে নাচ করে ধৃতি নৃত্যালয়। 
পরিবেশনা পর্বের আগে উৎসব উদ্বোধন করেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আজ থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশের বিভাগগুলোকে  কেন্দ্র করে সকল  জেলায় এই উৎসব হবে। দেশের নানা প্রান্তের  প্রায় ১০ হাজার শিল্পী এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন। একইসঙ্গে চলবে গণজাগরণের সাংস্কৃতিক ও সংগীত উৎসব। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে সৃজনশীলতা অন্বেষণ করা দরকার। অনেকে অভিনব সৃজনশীলতা নিয়ে জন্মালেও সুযোগের অভাবে সেটা বিকশিত হয় না।  সেই সৃষ্টিশীলতাকে মেলে ধরা ও শিল্পের আশ্রয়ে গণজাগরণ সৃষ্টির লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

×