ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১

স্বল্প আয়ের মানুষের ব্যাংক হিসাব ও আমানত বেড়েছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২২:৫৩, ২০ জুন ২০২৪

স্বল্প আয়ের মানুষের ব্যাংক হিসাব ও আমানত বেড়েছে

দেশে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের ব্যাংক হিসাব ও আমানতের স্থিতি বেড়েছে

দেশে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের ব্যাংক হিসাব ও আমানতের স্থিতি বেড়েছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে বড় আমানতকারী তথা কোটিপতিদের ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা কমে গেছে। জানা গেছে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সুবিধা দিতে ১০, ৫০ ও ১০০ টাকার ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ করে দিয়েছিল সরকার। এগুলোকে নো ফ্রিলস অ্যাকাউন্ট (এনএফএ) বলা হয়। তবে স্কুল ব্যাংকিং ও কর্মজীবী শিশুদের অ্যাকাউন্ট এই হিসাবের বাইরে। এই নো ফ্রিলস অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম ব্যালান্স বা সার্ভিস চার্জ/ফি নেই। সমাজের সবস্তরের মানুষের আর্থিক সেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন উদ্যোগের আওতায় এসব অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। 
এ ছাড়া সাধারণ চলমান সঞ্চয় হারের তুলনায় নো ফ্রিলস অ্যাকাউন্টগুলোতে বেশি হারে সুদ দেওয়া হয়। এই ব্যাংকিং সুবিধাভোগীর মধ্যে আছেন কৃষক, পোশাক শ্রমিক, অতিদরিদ্র, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধাভোগীসহ অনেকে। ২০২৪ সালের মার্চ শেষে ব্যাংকগুলোতে এসব স্বল্প আয়ের মানুষের হিসাব সংখ্যা, আমানত, প্রবাসী আয় আসা ও দুটি পুনঃঅর্থায়ন স্কিম থেকে ঋণগ্রহণ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে ১০, ৫০ ও ১০০ টাকা দিয়ে খোলা স্বল্প আয়ের মানুষের ব্যাংক হিসাবে আমানতের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৪৬৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আর চলতি বছরের মার্চ শেষে এসব হিসাবে আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৯১ কোটি ১০ লাখ টাকা। সেই হিসাবে ৩ মাসে ১০, ৫০ ও ১০০ টাকা দিয়ে খোলা হিসাবে আমানত বেড়েছে ২২৫ কোটি ৭ লাখ টাকা বা ৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
প্রতিবেদন বলছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকগুলোতে নো ফ্রিল অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৬৯ লাখ ৮৩ হাজার ৫৬০টি। আর চলতি বছরের মার্চ শেষে ব্যাংকগুলোতে স্বল্প আয়ের মানুষের অ্যাকাউন্ট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৭২ লাখ ৬৩ হাজার ৮৬১টি। সেই হিসাবে তিন মাসে অ্যাকাউন্ট সংখ্যা বেড়েছে ২৮ হাজার ৩০১টি বা ১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।
তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে ১০, ৫০ ও ১০০ টাকার হিসাবধারীদের ২০০ কোটি ও ৫০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ ছিল ৭১১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। চলতি বছরের মার্চ শেষে ১০, ৫০ ও ১০০ টাকার হিসাবধারীদের দুটি পুনঃঅর্থায়ন স্কিম থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৬৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এ ছাড়া গত বছরের ডিসেম্বর শেষে এসব হিসাবের মাধ্যমে আসা মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল ৬৭৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। আর চলতি বছরের মার্চ শেষে এসব হিসাবের মাধ্যমে পাওয়া প্রবাসী আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৮৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

অন্যদিকে চলতি বছরের মার্চ প্রান্তিকে দেশের ব্যাংকগুলোতে কোটি টাকার অ্যাকাউন্ট বা ব্যাংক হিসাব কমেছে ১০১৮টি। একই সময়ে কোটি টাকার ব্যাংক হিসাবধারীদের আমানত ১ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা কমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত সময় শেষে কোটি টাকার হিসাবধারীদের ব্যাংকে আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৪০ হাজার ১৫০ কোটি টাকা, যা তিন মাস আগেও ডিসেম্বর প্রান্তিকে ছিল ৭ লাখ ৪১ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা।

×