ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১

স্বীকৃতি পেয়েছে ৪টি

গ্রিন শিপইয়ার্ডে রূপান্তর হচ্ছে জাহাজ ভাঙা শিল্প

​​​​​​​স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস

প্রকাশিত: ২১:৩৯, ১৫ জুন ২০২৪

গ্রিন শিপইয়ার্ডে রূপান্তর হচ্ছে জাহাজ ভাঙা শিল্প

.

ষাটের দশকে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে সাগর উপকূলে শুরু হয় পুরাতন জাহাজ ভাঙা শিল্পের গোড়াপত্তন। লাভজনক হওয়ায় দেশে পুঁজিপতিরা ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। সম্প্রসারিত হতে থাকে খাত। বর্তমানে ৪০টির মতো শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড রয়েছে। যদিও কাগজে কলমে বাংলাদেশে ১৫০টি শিপইয়ার্ডের নিবন্ধন রয়েছে। তবে দেশে শিল্প খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত জাহাজ ভাঙা শিল্প। সুষ্ঠু-সুন্দর কর্মপরিবেশ না থাকা, শ্রমিক মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ায় দেশের শিপ ইয়ার্ডগুলোকে গ্রিন ইয়ার্ডে রূপান্তরের নির্দেশনা দেয় হংকং কনভেনশন। বর্তমানে ৪টি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড গ্রিন ইয়ার্ডের স্বীকৃতি পেয়েছে। বাস্তবায়নের পথে রয়েছে আরও ১০টি। তবে এখন আর্থিক বিভিন্ন সংকটে গ্রিন শিপইয়ার্ড রূপান্তর বেশ কষ্টসাধ্য।

দেশের  যে চারটি শিপব্রেকিং ইয়ার্ড গ্রিন শিপইয়ার্ডে রূপান্তরিত হয়েছে সেগুলো হলো কেআর শিপ রি-সাইকেলিং ইয়ার্ড, কবির স্টিল লিমিটেড, পিএইচপি শিপব্রেকিং অ্যান্ড রি-সাইকেলিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড  এবং এসএন করপোরেশন।

গ্রিন শিপ ইয়ার্ড রূপান্তর ব্যয়বহুল। এজন্য একেকটি ইয়ার্ডের খরচ হয় ৪০-৫০ কোটি টাকা। চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে ফৌজদারহাট বার আউলিয়া পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এলাকায় রয়েছে শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড। দেশে লোহা জাতীয় শিল্পের কাঁচামালের প্রায় ৬০ শতাংশ জোগানদাতা এসব শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড। ছাড়া দেশে প্রায় সাড়ে ৩শটি ইস্পাত শিল্প কারখানা রয়েছে। এসব কারখানার কাঁচামালও যোগান দেয় এই শিপইয়ার্ডগুলো।

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ৮৫টি প্রতিষ্ঠান গ্রিন ইয়ার্ড বাস্তবায়নে শিপ রিসাইক্লিং ফেসিলিটি প্ল্যান (এসআরএফপি) শিল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। বিদেশী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যারা গ্রিন শিপ ইয়ার্ড নির্মাণের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ তদারকি করেন তারাও নজরে রেখেছে বাংলাদেশের খাতের বর্তমান অবস্থা।

বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইকেলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) সূত্রমতে, হংকং কনভেনশনের নিয়ম অনুযায়ী শিপইয়ার্ডগুলোকে গ্রিন ইয়ার্ডে রূপান্তর করতে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশের কিছু শিপইয়ার্ড আধুনিকায়ন এবং সুন্দর কর্মপরিবেশ তৈরি করছে এবং আরও কিছু কাজ চলমান রয়েছে। তবে ডলার সংকটে খাত বর্তমানে নড়বড়ে। এরপরও কয়েকজন উদ্যোক্তা কয়েকটি ইয়ার্ডকে গ্রিন ইয়ার্ডে রূপান্তরের চেষ্টা করছে।

জানা গেছে, পরিবেশ শ্রমিকের সুরক্ষা নিশ্চিত করে জাহাজ কাটার সক্ষমতা অর্জন করেছে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বৈশ্বি মন্দা পরিস্থিতি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ভাটা পড়ায় জাহাজ ভাঙা শিল্পে প্রভাব করেছে।

এরপরেও বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে চলছে এই শিল্প। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে তারা বদ্ধপরিকর। এদিকে সম্প্রতি সীতাকুন্ডে জাহাজভাঙা শিল্প পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) মহাসচিব আর্সেনিও ডমিঙ্গুয়েজ। সময় তার সঙ্গে ছিলেন ইউকের বাংলাদেশ হাইকমিশনার সাদিয়া মুনা তাসনিম এবং ইউকেতে বাংলাদেশের মেরি টাইম কনস্যুলার ক্যাপ্টেন বি এম শামীম। শুক্রবার দুপুরে আইএমও জেনারেল সেক্রেটারি উপজেলার ক্রিস্টাল শিপার্স লিমিটেড এবং কে আর শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড পরিদর্শন করেন। আইএমও মহাসচিব ইয়ার্ডগুলোর কার্যক্রম খতিয়ে দেখেন এবং বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। জাহাজভাঙা শিল্পের নেতারা আইএমও মহাসচিবকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ডলার সংকট, করোনা মহামারির সময় শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব এবং গ্রিন শিপ ইয়ার্ড রূপান্তরে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বিষয়টি উল্লেখ করেন। এজন্য তারা আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটির কাছে গ্রিন শিপইয়ার্ড রূপান্তরের আরও সময় চান।

 

 

 

×